শুভ জন্মদিন টাকলু!

ছোটবেলায় ভাইয়াদের মুখে শুনেছিলাম আর্জেন্টিনায় এক টাক ফুটবলার আছে,যার ফ্রি-কিক,নরমাল শটেও অনেক পাওয়ার ছিল।এই টাকলুটা বিশেষ করে লং রেঞ্জ শুটে অনেক ভালো ছিল।ক্লাবের হয়ে অনেক গোল করেছে দূরপাল্লার শটে।একবার (খুব সম্ভবত এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে) এমন জোরে কিক করেছিলেন গোল তো হয়েছিলই,গোলিও নাকি পাওয়ারের তোপে পোস্টের কিছুটা ভিতরে ঢুকে পড়েছিল।আর্জেন্টাইন সাপোর্টার হিসেবে ছোট্টকালে যাদের কথা বেশি শুনতাম হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন ছিল অন্যতম।আর্জেন্টিনার সেরা কিছু ট্যালেন্টেড মিডের একজন,যিনি নিজের প্রাইম টাইমে ক্লাব, জাতীয় দলের হয়ে অনেক কারিশমা দেখিয়েছিলেন।বিশেষ করে ফ্রি-কিক,কর্নার আর দূরপাল্লার শট বিশেষজ্ঞ ছিলেন ভেরন।

ইউনাইটেড বা চেলসিতে সেরকম সফল ছিলেন না তিনি

ফিজিক্যালি স্ট্রং,ভার্সাটাইল,প্রভাববিস্তারকারী মিডফিল্ডার ছিলেন।খেলতে পারতেন অনেক পজিশনেই।ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই খেলেছেন প্লেমেকার হিসেবে।ডিফেন্সিভ লাইনের সামনে,মানে ডিপ মিডেও যথেষ্ট ভালো ছিলেন।গোল করানোর পাশাপাশি গোল করাতেও পটু ছিলেন ভেরন।তার আরেকটা অনেক ভালো কোয়ালিটি ছিল,ট্যাক্নিক্যাল এবিলিটি। ম্যাচের অবস্তা অনুযায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেন,যা হয়তোবা ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করে দিত।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি,ইন্টার মিলান,পার্মা,ল্যাৎসিওর মত ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।১৯৯৪ সালে ঘরের ক্লাব এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু,অনেক ক্লাব ঘুরে এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে শেষ করেছিলেন ২০১৪ তে।অবসরের পরে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন,তাও আবার কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই।কিছুদিন আগেই ঘোষনা দিলেন ফুটবলমাঠেই ফিরবেন।যদিও এখন পর্যন্ত অবসরের পরে মাঠে নামা হয়নি ভেরনের।

আকাশি-সাদাদের হয়ে ১৯৯৮,২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপ খেলেন।ডিফেন্ডার রবার্তো আয়ালার ইঞ্জুরিতে ২০০২ বিশ্বকাপে দলের অধিনায়ক ছিলেন।যদিও জাতীয় দলের হয়ে উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেননি।১৯৯৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্ছ এসিস্ট করে,অলস্টার রিজার্ভ টিমে জায়গা পান।

এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে ভেরনের বাবাও ছেলের মতন জিতেছেন অনেক শিরোপা।বাবার ডাক নাম ছিল দ্যি উইচ,আর ছেলেকে এস্তুদিয়ান্তেসের সাপোর্টারসরা ডাকত দ্যি লিটল উইচ।

আজকে ভেরনের ৪২ তম জন্মদিন। গোল্লাছুটের পক্ষ থেকে টাকলুকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 2 =