স্মৃতির পাতা থেকে বর্তমানে : একটি ঐতিহাসিক গল্প

এই মুখরিত জীবনের চলার বাঁকে,
অজানা হাজার কত কাজের ভিড়ে,
ছোট্ট বেলার কত ভুলে যাওয়া মুখ,
সুর তোলে আজও এই মন কে ঘিরে…

ভারত! বললেই মনে পড়ে ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই চাতুরী, তাই না? ভারত বললেই এ যুগের ক্রিকেট ভক্ত মনে করে স্রিনিবাসনের দুঃশাসন! ২০১৬ সালে কুড়ি বিশের উৎসবে বিজয়ের রঙ মাখতে মাখতে পরাজয়ের অসহ্য বেদনায় নীল হওয়া- রিয়াদ মুশির সেই বিরল কাণ্ড! এর আগে ২০১৫ তে আমরা তাদের নাস্তানাবুদ করেছি একদিনের ম্যাচের সিরিজে, জিতেছি সিরিজ! কিন্তু আগামীকাল যে টেস্ট ম্যাচটি হবে হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে, সেটা ইতিহাসের সাক্ষী হবার দাবী রাখে অবশ্যই। যাদের সাথে খেলে আমাদের টেস্ট অভিষেক, তাদের দেশে সফর করছি কিনা ১৭ বছর পর!

আমাদের টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পিছনে ভারতের অনেক বড় অবদান, বিশেষ করে জগমোহন ডালমিয়ার, তিনি ছিলেন আমাদের ক্রিকেটের এক অকৃত্রিম সুহৃদ। আজ এই টেস্ট শুরুর আগে মনে পড়ছে এই মানুষটিকে, কে জানে, তিনি না থাকলে হয়তো আমাদের টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে অনেক দেরি হতো।

এই হায়দারাবাদে আমরা জিতেছিলাম প্রথম ওয়ানডে। কেনিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচ হয়েছিলো লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে। সেদিন কোচ গ্রিনিজ মোহাম্মদ রফিক কে ওপেনিঙে নিয়ে এসে পিঞ্চ হিটারের ভূমিকা নিতে দিয়ে অতুলনীয় ক্রিকেট-প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন আর রফিক ৭৭ রান করে দিয়েছিলেন আস্থার প্রতিদান।

অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রান করে আমিনুল ইসলাম বুলবুল তো হয়ে গেছেন ইতিহাসের অংশ। তেমনি, ৬ উইকেট নিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়েছিলেন অধিনায়ক নাইমুর, যিনি এখন সংসদ সদস্য।

এমন স্মৃতি অনেক আসবে বলতে গেলে, এখন একটু বর্তমানে চোখ ফেরাই। এই টেস্টে আমাদের সব থেকে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারত অধিনায়ক বিরাট কে জ্বলে উঠতে না দেওয়া আর আশ্বিনের ঘূর্ণি সামলানো। আশ্বিন এ যুগের অন্যতম সেরা স্পিনার। ভারতীয় বোলিং এখন ছেলেখেলার বিষয় নেই মূলত তার কারনেই। চোখ থাকবে মুমিনুলের দিকে, এশিয়ার ব্র্যাডম্যান কি পারবেন সেঞ্চুরি করতে? বাংলাদেশের ব্যাটিঙের বড় পরীক্ষা নিতে আছেন আশ্বিন। চোখ থাকবে রিয়াদের দিকে এবং যথাযথভাবেই সাকিবের দিকে। এই টেস্টকে লাল সবুজের রঙে রাঙিয়ে দিতে তাকে ব্যাট বল দুটো হাতেই দেখাতে হবে জাদু। আশা করবো তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে অন্তত উইকেট বিলিয়ে দেবেন না।

বোলারদের কথায় আসলে হায়দারাবাদের ঘরের ছেলে মুস্তাফিজ কে আমরা মিস করবো তো বটেই। আইপিএলে হায়দারাবাদের হয়ে খেলার কারনে তিনি ঘরের ছেলে তাদের। তার মায়াবী কাটারে কচুকাটা হতে হবে না ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। তাসকিন আহমেদের দিকে নজর থাকবে। লাইন লেংথ ঠিক রেখেন প্লিজ। কামরুল ইসলাম অনেক উন্নতির ছাপ দেখিয়েছেন কিউইদের দেশে গিয়ে, এবার ভারতে তা দেখানোর পালা। ঘূর্ণির কথা বলতে গেলে মিরাজ আছেন, তাকে এবার স্পিন যারা ভালো খেলে তাদের সামনে প্রমাণ দিতে হবে নিজের যোগ্যতার। পুজারা নাকি মিরাজের জন্য অপেক্ষা করছেন, দেখা যাক মিরাজের হাতে পূজারা-বধ হয় কিনা। সাকিবের কথা আগেই বলেছি। তার ঘূর্ণির জাদু দেখার অপেক্ষায় আছি।

তবে একটা দিকে পার্থক্য থেকেই যাবে, এটাই বড় পার্থক্য হয়ে যাবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। সেটা হচ্ছে অধিনায়কত্ব। বিরাট একজন বীর অধিনায়ক। যেমন আক্রমণাত্মক, তেমনি বিচক্ষণ। আর এদিক থেকেই আমাদের মুশফিক পিছিয়ে। মুশফিক চমক দিতে ভয় পান। এভাবে ভয় পেলে যে ঘটনা ঘটে, সেটা প্যাথেটিক। অধিনায়ক হবেন গ্র্যান্ডমাষ্টার। রিচি বেনোর একটি কথা বলে লেখা শেষ করি,
“ অধিনায়ককে অবশ্যই খেলার দুই ওভার আগে থাকতে হবে”

আশা করি, হায়দারাবাদে টেস্ট রাঙ্গানো হবে লাল সবুজের রঙে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × one =