শ্লথ গতির এ কোন ধোনি?

ক্যারিয়ারের প্রথম থেকেই হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত হয়ে এসেছেন সাবেক ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতের টি২০ উত্থানের পেছনে তাঁর অবদানই সর্বাধিক। কিন্তু কালকে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যে ইনিংসটা খেললেন, সে ইনিংসের মধ্যে চিরপরিচিত বিধ্বংসী সেই ধোনিকে দেখা গেল কই? লো-স্কোরিং এক ওয়ানডেতে পরিস্থিচি-পিচ বিবেচনা করে খেললেন অতি শ্লথ ও সংযমী এক ইনিংস, তাও ভাররকে হারের মুখ থেকে রক্ষা করতে পারলেন না। গতকালকের ম্যাচে ১১ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছে সদ্য শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির রানার্সআপ ভারত। পঞ্চাশ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ১৮৯ রানের জবাবে মাত্র ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত, ৪৯ তম ওভারে আউট হবার আগে ১১৪ বলে ৫৪ রান করেন ধোনি, মাত্র একটা বাউন্ডারির মার ছিল যে ইনিংসটিতে।

এই ফিফটি ছুঁতে ধোনির লেগেছে ১০৮টা বল, যা কিনা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির ওয়ানডে ফিফটি। আগের দুটি রেকর্ডই ছিল আরেক সাবেক ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর, ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ম্যাচে ১০৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি, তাঁর দুইবছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর ফিফটি ছুঁতে লেগেছিল ১০৪ বল (২০০১ সালের পর)! স্বাভাবিকভাবেই ধোনির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি এটা, তাঁর আগের সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি ছিল ৮৮ বলে, ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচে সে ফিফটিটি করেছিলেন তিনি।

কালকের ইনিংসটায় ধোনির স্ট্রাইকরেট ছিল ৪৭.৩৬, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সবচাইতে কম (যেসব ম্যাচগুলোতে তিনি নূন্যতম ২৫ রান করেছেন সেগুলোর মধ্যে), কালকের আগে ওয়ানডেতে ধোনির সবচেয়ে ধীরগতির ইনিংস ছিল ২০১০ সালে ডাম্বুলাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, সেবার ৫০.৬৬ স্ট্রাইকরেটে ৭৫ বলে ৩৮ রান করেছিলেন তিনি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × 4 =