ফুটবল উৎসবের বন্দরনগরী এবং মুগ্ধতা

ম্যাচের তখনও ৬০ মিনিট বাকি,
ফয়সালের ফ্রিকিক, করাচিকে দিলো ফাঁকি,
বল ঢুকে গেলো জালে, হয়ে গেলো গোল,
উৎসবে মেতে উঠলো গ্যালারী, বাজে ফুটবলের ঢোল।

বাংলার ফুটবল হারিয়ে যায়নি, এখনও এদেশের মানুষের মনে এর স্থান সবার উপরে। চট্টগ্রামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ঘোষণা দেবার পরই আস্তে আস্তে সেটা বোঝা যেতে শুরু করে, পরিপূর্ণভাবে বোঝা গেলো গতকাল, যখন গ্যালারী পূর্ণ হয়ে গেলো ম্যাচ শুরুর আগেই। লাল সবুজের পতাকা নিয়ে আসা সমর্থকদের নিরাশ করেনি শেখ কামালের ক্লাব ঢাকা আবাহনী, করাচি ইলেকট্রিক ক্লাবকে হারিয়ে দিয়েছে ৩-২ গোলে। ফয়সাল অনেকদিন পর মাঠে ফিরে দূর থেকে ফ্রিকিক নিয়ে এমন এক গোল করেছেন, যেটা আমরা সচরাচর দেখে থাকি মেসি, নেইমার, রোনালদোদের পা থেকে। এই গোলটা যে অমর হয়ে থাকবে সেটা তো বোঝাই যায়। গোল খেয়ে ইলেকট্রিক ক্লাবের মানুষ বজ্রাহত হলেও লাল সবুজের উল্লাস ছিল দেখার মতো। এরপর সানডের গোলটাও ছিল দর্শনীয়। আবাহনী খেলেছে পাসিং ফুটবল, সাথে গতি আর সেটপিস কাজে লাগানোর দক্ষতাতেই বাজিমাত। ম্যাচের সেরা নিঃসন্দেহে ফয়সাল।
ঢাকার আবাহনী জিতলেও শেখ রাসেলের খেলোয়াড় বাহিনী নিয়েও ইস্ট বেঙ্গলের কাছে হেরে গেছে চট্টগ্রামের আয়োজকরা। এখানেই একটা হাহাকার ফুটে উঠেছে সবার মনে, ইস! যদি শেখ জামাল থাকতো! এবং আবারো বলতে হচ্ছে বাঙ্গালীর মহান অভিমানের কথা, যার ফলে কোনদিনই লাভ হয়নি, ক্ষতির পাল্লাই ভারি হয়েছে কেবল। মঞ্জুর কাদের সাহেবকে যদি রাজি করানো যেত, তাহলে টুর্নামেন্টের রঙ আরও বেশি হতো। প্রয়াত সংগঠক শেখ কামালের দুই ভাই এর নামে দুই ক্লাবকে খেলতে দিলেই বা কি ক্ষতি হতো, বুঝলাম না!
তবে চট্টগ্রাম আবাহনীর উদ্যোগটা ভালো, টিকে থাকবে সেটাই আশা করি। সুপার কাপের মতো যেন হারিয়ে না যায়। আর ফুটবলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সূচনাকারী শেখ কামাল সাহেবের নামধারী টুর্নামেন্ট যদি দেশের কোন ক্লাব জিততে পারে, তবেই এই অগ্রপথিকের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine − 7 =