সিরি-আ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা যিনি

::: জুয়েল আহমেদ লিপু :::

আপনাকে যদি বলা হয় সর্বকালের সেরা ইতালিয়ান স্টাইকার কে? স্বাভাবিকগতভাবে আপনার উত্তর হবে, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, জিউসেপ্পে মিয়াজ্জা, ফ্রান্সিসকো টট্টি, পাওলো রসি, রবার্তো বাজ্জিওসহ আরও অনেকে। আর যদি বলা হয় ইতালিয়ান লিগে সর্বকালের সেরা স্টাইকার কে? উত্তর হবে : মার্কো ফন বাস্তেন, গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, ফ্রান্সিসকো টট্টি, আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো ইত্যাদি। কিন্তু তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে ইতালিয়ান লিগ কিংবা ইতালিয়ান ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা স্টাইকার বলা হয় সিলভিও পিওলাকে। আসুন যেনে নেই কে এই সিওভিও পিওলা…

ফুটবল হলো গোলের খেলা, তাই একটি গোলের চেয়ে ফুটবলে রোমাঞ্চকর কিছু নেই। বলটি দেখতে দেখতে নেটের পিছনে আঘাত হানার সাথে একপক্ষে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্য পক্ষে হতাশা বয়ে আনে। ফুটবলের শুরু থেকেই স্টাইকারদের কদর আলাদা। একজন স্টাইকার দলকে ম্যাচ জেতাতে পারে, দলকে শিরোপা কিংবা নিজের নামকে ইতিহাসের পাতায় লেখাতে পারে। সিলভিও পিওলা ইতালিয়ান লিগ (সিরি আ) এর অল টাইম টপস্কোরার । নিজের ২৬ বছর ক্যারিয়ারে ভিন্ন ভিন্ন ইতালিয়ান ক্লাবের হয়ে ২৭৪ টি গোল করেন পিওলা। ১৯৩৮ সালে ইতালির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি। ফাইনালে হাঙ্গেরীর সাথে দু-গোল করে প্রথম বারের মত ইতালিকে কোন মেজর ট্রফি জেতাতে সাহায্য করেন তিনি। তার গোলস্কোরিং দক্ষতার কারনে থাকে পিওলা গোল বলা হত। পিওলার গোল্ডেন এইজ বলা হয় ১৯৩৪ – ১৯৪৩ সালে যখন ইতালির বিখ্যাত ক্লাব ল্যাৎসিওতে খেলতেন ঠিক সেই সময়টাকে। ল্যাৎসির হয়ে নিজেকে একজন ডেডলি স্টাইকার প্রস্তুত করেন তিনি। তিনি একমাত্র ইতালিয়ান খেলোয়াড় যিনি কিনা তিনটি ভিন্ন ক্লাবের অলটাইম টপ স্কোরার (প্রো ভারসেল্লি, লাৎসিও এবং নোভারা ) । এরকম প্যারফরম্যান্সের পরও ক্লাবের হয়ে পিওলা কোন মেজর ট্রফি জিততে পারেন নি। ১৯২৯ সালে প্রো ভারসেল্লি একাডেমি থেকে বিকাশ ঘটে পিওলার। একই মৌসুমে বোলোনিয়ার সাথে ২-২ গোল ড্র হওয়া ম্যাচে অভিষেক ঘটে তার। সে সময় উপভোগ করা দর্শকদের কেউ হয়তো ভাবতে পারেননি এই হালকা পাতলা ছেলেটা একদিন ইতালির সর্বকালের সেরা নায়ক হবে। প্রো ভারসেল্লির হয়ে সে মৌসুমে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান পিওলা। ১৯৩০ সালের নভেম্বর মাসের ২ তারিখ পিওলা তার ক্লাব ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করেন। তারপর থেকেই তাকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয় নি। সেই মৌসুমে ইতালিয়ানে লিগে মাত্র ১৩ টি গোল করেছিলেন তিনি, একজন স্টাইকারের জন্য ১৩ টি গোল খুব কম কিন্তু যখন তার বয়স ১৭ বছর আর ইতালিয়ান লিগের মত কঠিন লিগে এটুকু বয়সে পিওলার জন্য যথেষ্ট ছিল। পরের মৌসুমে যেনে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছিলেন পিওলা। প্রো ভারসেল্লির হয়ে লিগে টপ স্কোরার সাথে সাথে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিপক্ষের মাঠে এক ম্যাচে ৪ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। ১৯৩৩ সালে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেন পিওলা। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে ৬ গোল করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। যদিও পরে জুভেন্টাসের ওমর সিভরি এক ম্যাচে ৬ গোল করেন। প্রো ভারসেল্লিতে দারুন প্যারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন সিরি আ -র বড় বড় ক্লাবগুলোর। কিন্তু ইন্টার মিলান, তুরিনোকে হতাশ করে ল্যাৎসিওতে যোগ দেন পিওলা। ল্যাৎসিওর হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন তিনি। প্রথম মৌসুমে ল্যাৎসিওর হয়ে ২৯ ম্যাচে ২১ গোল করেন তিনি। দ্বিতীয় মৌসুমে পিওলার দুর্দান্ত কাটলেও ল্যাৎসিও লিগে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেনি। লিগে সপ্তম স্থানে থেকে শেষ করে তারা এবং ১৯ গোল করে লিগে টপ স্কোরার হন পিওলা। ২২৭ ম্যাচে ১৪৯ গোল করে ল্যাৎসির অলটাইম টপ স্কোরার বনে যান পিওলা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ল্যাৎসিও ছেড়ে তুরিনোতে যোগ দেন তিনি। ক্লাব পরিবর্তন করলেও নিজের গোলক্ষুধা ভুলতে পারেনি পিওলা। তুরিনোর হয়ে ২৩ ম্যাচে ২৭ গোল করেন। মাঝে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাসে যোগ দিলেও ১৮ বছর বয়সি স্ট্রাইকার বোনিপার্টির জন্য ক্লাব ছাড়তে হয় থাকে । জুভেন্টাসে ব্যর্থ মৌসুম শেষে সিরি বি এর ক্লাব নোভারাতে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে নোভারাতেই নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ইতালির ইতিহাসে সর্বকালের সেরা এই স্টাইকার। ইতালিয়ান ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাকে অনেক মানুষ চিনি না। জিউসেপ্পে মিয়াজ্জার নামে একটি স্টেডিয়াম থাকতে পারে, তবে সিলভিও পিওলা নামে দুটি আছে স্টেডিয়াম (নোভারা এবং প্রো ভেরসেলিতে আছে)।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

7 + 20 =