সেভিয়া – রাইটব্যাক তৈরির কারখানা?

 

প্রথমে শিরোনামের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে নিই। কারখানা বলতে এমন না যে ক্লাবের ইয়ুথ অ্যাকাডেমি থেকেই বের হয়ে পরে বিশ্ব কাঁপিয়েছে। এখানে কারখানা বলতে বুঝালাম সুপারস্টারডমের প্রথম ধাপকে। সেরা রাইটব্যাকদের ক্ষেত্রে যে জায়গাটা সেভিয়া বললেও ভুল হবে না।

চিন্তা করে দেখুন। সেভিয়ার রাইটব্যাক বলতে কার কার নাম মাথায় আসছে? তারা কি পরবর্তীতে সুপারস্টার হয়ে বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোয় যায়নি?

ফ্ল্যাশব্যাকে প্রায় দশবছর আগে চলে যান। স্পেইনের এক উদীয়মান রাইটব্যাক তখন লা লিগা কাঁপিয়ে ফেললো এক মৌসুম। নাম তার সার্জিও রামোস। চেনা চেনা লাগছে?

২৭ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে সেভিয়া থেকে কিনে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ তাকে, তৎকালীন সময়ে একজন স্প্যানিশ টিন এজারের জন্য যেটা ছিল সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। যদিও হোসে মরিনিও আসার পর সার্জিও রামোস পুরোদস্তুর সেন্টারব্যাক হয়ে যান, কিন্তু, মরিনিও আসার আগ পর্যন্ত কি স্পেইন কি রিয়াল, খেলেছেন ত রাইটব্যাক পজিশানেই! এখন সার্জিও রামোসের কীর্তি লেখা শুরু করলে শেষ হবে? বর্তমান যুগের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার তিনি।

এবার ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যান সাত-আটবছর আগে। রামোসের সাথেই আরেকজন রাইটব্যাক খেলছিলেন তখন সেভিয়ায়। ব্রাজিলের বাহিয়া থেকে আসা এই রাইটব্যাক সেভিয়াতে থেকেছেন রামোসের থেকে অপেক্ষাকৃত বেশী সময় ধরেই। লিভারপুল চেলসির মত ক্লাব তার আগমন সম্বন্ধে ভালোই অবগত ছিল, কিন্তু ট্রান্সফার ফি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রিমিয়ার লিগে আর যাওয়া হয়নি তার, পরে পাড়ি জমিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদেরই চিরশত্রু বার্সেলোনায়, প্রায় ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে।

ঠিক ধরেছেন, দানি আলভেসের কথাই বলছি। এখন তাঁকে বার্সা লেজেন্ড বললেও অত্যুক্তি হবেনা।

এবার আর ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া লাগবেনা। আজকের কথাই চিন্তা করুন। সেই দানি আলভেসের এখন আর অত ধার নেই। বার্সা তাই দানি আলভেসের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে রাইটব্যাক আনলো সেই সেভিয়া থেকেই। নাম তার অ্যালেক্স ভিদাল।

বিশ্বসেরা হবার পটেনশিয়াল আছে তার যথেষ্টই। এখন শুধু ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হবার অপেক্ষা…

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × 4 =