বিদায় হে শিল্পী!

আমরা যখন স্কুলবালক, সে সময়ে ক্রিকেটের আকাশ কেবল আলো করা শুরু করেছেন তিনি। জয়াসুরিয়া কালুভিতারানা রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা, মুরালির শ্রীলঙ্কা তখন ক্রিকেট বিশ্বের নতুন বাঘ। এখন বাংলাদেশের যেমন অবস্থা আরকি! ঐ দলেও আরেকজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন, কালুর অবসরের পরে উইকেট রক্ষাও করতেন ভালোভাবেই। ঠাণ্ডা মাথার খুনি- আক্ষরিক অর্থে নয়, খুন করতেন বিপক্ষের স্বপ্নকে, সেটাও এমনভাবে,
দেখতে গিয়ে জুড়িয়ে যেত চোখ,
শেষ হলেও মন বলতো, আরও একটু হোক!
তিনি কুমার সাঙ্গাকারা। কভার ড্রাইভ এমনভাবে খেলতেন, মনে হতো হাতে তুলি নিয়ে মাঠকে ক্যানভাস বানিয়ে কোন শিল্পী কোমল আঁচড়ে ছবি আঁকছেন। ধৈর্যের অভাব তার মধ্যে আছে- এ কথা তার নিন্দুকেও বলতে পারবেনা। শেষের দিকে এসে তো এমনভাবে রান করতেন, মনে হতো, এ মানুষটার বয়স ৩৬ নয়, ২৪-২৫! স্যার ডনের ১২ ডবল সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুতে পারতেন আর কিছুদিন খেললে, কিন্তু তিনি তো রেকর্ডের জন্য খেলেন না। তাই ১১ দ্বিশতকের পর দুর্দান্ত খেলতে খেলতেই বলে দিতে পারেন, বিদায়!

ক্রিকেটার সাঙ্গা যেমন ব্যাট হাতে সফল, তেমনি মাইক্রোফোনের সামনেও বক্তা সাঙ্গা মাঠের সাঙ্গার মতোই দুর্দান্ত। কলিন কাউড্রে বক্তৃতা দিয়েছিলেন একবার, তার সে বক্তৃতা এখনও ক্রিকেট ইতিহাসের ছাত্রদের মুখে মুখে ফেরে।

দুবার দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু জয়ের মালা গলায় পরার সৌভাগ্য এক বারও হয়নি। অবশেষে ২০১৪ সালে কুড়ি বিশের বিশ্ব আসরে এই বাংলার মাটি থেকে জয়ের মালা গলায় পরেন এই ভদ্রলোক। ফাইনালে তার সেই ইনিংসের কথা এখনও মনে আছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে পর পর চারটি শতক হাঁকিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেন বুড়ো সাঙ্গা আর চোখ কপালে উঠে যায় বোদ্ধাদের।
টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের নাকের জল চোখের জল এক করে দিয়ে বন্ধু মাহেলার সাথে ৬২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন! মাঠে ও মাঠের বাইরে তাদের বন্ধুত্ব অটুট। দুজনে মিলে রেস্তোরাঁ দিয়েছেন কলম্বো শহরে, সেটিও দেখার মতো।
তার অবসরে ক্রিকেট মাঠ হারাল আরেক শিল্পীকে। তাও বলতে হচ্ছে, বিদায়!
যেতে নাহি দিব হায়,
তবু যেতে দিতে হয়,
তবু সে চলে যায়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + 11 =