সীমানার ওপার থেকে : বিশ্বকাপের রঙে রঙ মেশাচ্ছেন সাঙ্গাকারা

‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও,
যাও গো এবার যাবার আগে,
তোমার আপন রাগে,
তোমার গোপন রাগে’
কুমার সাঙ্গাকারা নামের চিরতরুন মানুষটি রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনেন কিনা, জানা নেই। শুনলে নিশ্চয় শুনে থাকবেন উপরের গানটি, যেখানে বসন্তের রূপ দেখে মুগ্ধ কবি তাকে অনুরোধ করছেন সবকিছুকে রাঙিয়ে দিতে, বিদায় নেবার আগে। তা, কুমার সাঙ্গাকারা নামের ব্যাট হাতে শিল্পীকে কেউ এমন কথা হয়তো বলের থাকতে পারেন। নাহলে এই বয়সে এমন তাক লাগিয়ে দেওয়া ব্যাটিং করে পর পর চারটি শতক!! তাও আবার বিশ্বকাপে!
তার ব্যাটিং যেন জেগে উঠেছে। এই টুর্নামেন্ট এর পর ব্যাট তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, প্রথম ম্যাচে হামিদ হাসানের বলে ফিরেছিলেন সাজঘরে, এক পাক ভালোই নেচেছিলেন হামিদ হাসান!

শুরুটা সাঙ্গাসুলভ হয় নি
শুরুটা সাঙ্গাসুলভ হয় নি

সাঙ্গাকারা মনে হয় মনে মনে বলেছিলেন এই শেষ তোমাদের নাচন, পরের দিন থেকে শুধু কাঁদবে বোলারকুল। এর পর থেকেই দুর্দমনীয় তিনি। বাংলাদেশের আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই শতকে দল জিতেছে, অসিদের পাহাড় সমান রান তাড়া করতে গিয়ে তার শতক যথেষ্ট হয়নি, আর স্কটিশদের শেষ স্বপ্নের গায়ে শেষ পেরেক ঠুকেছেন টানা চতুর্থ শতক হাঁকিয়ে। ঢুকে গেছেন এমন এক ক্লাবে, যার সর্বেসর্বা এখন শুধু তিনিই! নাচার সুযোগ করে দিচ্ছেন ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের, দুর্দান্ত সব কভার ড্রাইভ খেলে।
‘মেঘের বুকে যেমন মেঘের মন্দ্র জাগে,
বিশ্ব-নাচের কেন্দ্রে যেমন ছন্দ জাগে’

সাঙ্গা মানে শুধু ক্লাস নয় , অনেকটা আধিপত্য
সাঙ্গা মানে শুধু ক্লাস নয় , অনেকটা আধিপত্য

কুমার সাঙ্গাকারা এখন বিশ্ব ক্রিকেটের বিশ্ব নাচের কেন্দ্রের ছন্দের প্রধান আকর্ষণ! চিরকালিন নিপাট ভদ্রলোক সাঙ্গা এবার ব্যাট হাতে বিদ্রোহীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। সবাই যখন ক্রিকেট ব্যাকরণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, তিনি তখন আরও পরিণত। ব্যাকরন মেনেই খেলছেন। বল কিন্তু এক বারেও ৮০ র বেশি লাগেনি!
লঙ্কান সেনাপতি ম্যাথুস নাকি সাঙ্গাকারার পদধূলি নেবার কথা ভাবছেন বিশ্বকাপের শেষে। পা ধরলে যদি অবসর নেবার সিদ্ধান্তটা বদলান আরকি। যে ব্যাটিং বীরত্ব দেখাচ্ছেন সাঙ্গা, তাতে অধিনায়ক পা ধরলে আশ্চর্যের কিছুই নেই।
আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে চিরকালীন চোকার দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি সাঙ্গার দেশ। এটা আসলে ব্যাকরণকে পূজা করে আর বিরোধিতা করে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া দুজন মানুষের লড়াই বললেও ভুল হবেনা। ব্যাকরনের পূজারি সাঙ্গাই এখানে জয়ী প্রথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো এবির বিরুদ্ধে। কাল কি উল্টে যাবে পাশার দান? নাকি শতক-পঞ্চক উদযাপন করে সাঙ্গা চোকার দলের গায়ে লাগিয়ে দেবেন বেদনার নীল রঙ?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 4 =