ডেভিনসন স্যানচেজ : এবারে টটেনহ্যামের প্রথম নতুন মুখ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে ইতালিয়ান সিরি আ, জার্মান বুন্দেসলিগা, ফরাসী লিগ ওয়ান কিংবা স্প্যানিশ লা লিগা – সব লিগের প্রধান প্রধান দলগুলোই ইতোমধ্যে নতুন কাউকে না কাউকে দলে এনেছে। প্রিমিয়ার লিগে যেমন লিভারপুলে এসেছেন মোহামেদ সালাহ, অ্যান্ড্রিউ রবার্টসন আর ডমিনিক সোলাঙ্কে ; চেলসি এনেছে আন্তোনিও রুডিগার, তিমুইয়ে বাকায়োকো আর আলভারো মোরাতাকে ; ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসেছেন এ পর্যন্ত ভিক্টর লিন্ডেলফ, নেমানিয়া মাতিচ আর রোমেলু লুকাকু ; ম্যানচেস্টার সিটিতে এসেছেন বেঞ্জামিন মেন্ডি, কাইল ওয়াকার, বার্নার্ডো সিলভা, এডারসন ও দানিলো। প্রিমিয়ার লিগের সব প্রতিদ্বন্দ্বীই কাউকে না কাউকে দলে আনলেও এক টটেনহ্যাম হটস্পারই কাউকে আনছিলোনা দলে। কোচ মরিসিও পচেত্তিনো ধরেই নিয়েছিলেন তাঁর হাতে থাকা স্কোয়াড লিগ জয়ের জন্য সমর্থ, যে স্কোয়াড গতবার রানার্সআপ হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আর থাকলেন না তিনি। ডাচ ক্লাব আয়াক্স আমস্টারডাম থেকে ক্লাব রেকর্ড ৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে কলম্বিয়ান সেন্টারব্যাক ডেভিনসন স্যানচেজকে নিয়ে এসে ডিফেন্সকে শক্তিশালী করেছে টটেনহ্যাম। ২১ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের সাথে টটেনহ্যামের চুক্তিটা ছয় বছরের। গত মৌসুমে আয়াক্সকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে তুলতে সাহায্য করা এই ডিফেন্ডার আয়াক্সের হয়ে গত মৌসুমে খেলেছেন ৩২ ম্যাচ, হয়েছেন আয়াক্সের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ও।

ছোটবেলা থেকে এসি মিলান কিংবদন্তী ফ্র্যাঙ্কো বারেসি আর রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান অধিনায়ক সার্জিও রামোসকে আইডল মানা এই ডিফেন্ডার ক্যারিয়ারের শুরুতে খেলতেন মিডফিল্ডে, পরে ডিফেন্সে চলে আসেন। তরুণ ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার বেশ গতিশীল, একেবারে নিচে থেকে আক্রমণ রচনা করতে পছন্দ করেন, বল পায়ে পটু। সেট পিসে পজিশান করার ক্ষমতা এখনও অত বেশী নয় তাঁর, তাতেই গত মৌসুমে ছয় গোল করেছেন তিনি আয়াক্সের হয়ে, বুঝুন, পজিশানিং সেন্স ভালো হলে কি হবে! ডান পায়ের খেলোয়াড় এবং প্রচণ্ড গতিশীল হবার কারণে খেলতে পারেন রাইটব্যাক হিসেবেও। কাইল ওয়াকার দল থেকে চলে যাওয়ার ফলে এবং দলের বর্তমান প্রধান রাইটব্যাক কিয়েরান ট্রিপিয়েরের ইনজুরির কারণে টটেনহ্যামের ডিফেন্সের ডানদিকে এখন খেলছেন একেবারে আনকোরা নরুন মুখ কাইল ওয়াকার-পিটার্স ; স্যানচেজ আসার ফলে সে সমস্যারও সমাধান হবে। তবে এখন যেহেতু স্পার্স কোচ মরিসিও পচেত্তিনো ৩-৪-২-১ ফর্মেশানে খেলছেন, এই ফর্মেশানে স্যানচেজের জায়গা হতে পারে তিনজনের ডিফেন্সের ডানদিকে। বাকী দুইজন টোবি অল্ডারওয়াইরেল্ড ও ইয়ান ভার্টঙ্ঘেন। সেক্ষেত্রে ডিফেন্স থেকে জায়গা হারাতে পারেন ইংলিশ সেন্টারব্যাক/সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার এরিক ডায়ার। ডায়ার, অল্ডারওয়াইরেল্ড ও ভার্টঙ্ঘেন, প্রত্যেকের চেয়ে বল পায়ে অধিক দক্ষ ডেভিনসন স্যানচেজ। যেখানে উক্ত তিনজনের সফল পাস দেওয়ার হার যথাক্রমে ৮৭%, ৮৩% ও ৮৫%, সেখানে স্যানচেজের সফল পাস দেওয়ার হার লিগে ছিল ৮৯%। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে ডেভিনসন স্যানচেজ। পুরো মৌসুমে লিগে ৬১ বার বল কেড়েছেন তিনি, অল্ডারওয়াইরেল্ড এর বল কাড়ার পরিমাণ ২৪, ডায়ারের ৩৮ ও ভার্টঙ্ঘেন এর ৪৯। ডায়ার ও ভার্টঙ্ঘেনের তুলনায় ডেভিনসন স্যানচেজ অনেক বেশী সতর্কও বটে হলুদ কার্ড খাওয়ার ক্ষেত্রে। ডায়ার বা ভার্টংঘেন গত মৌসুমে যথাক্রমে ৫টা আর ৬টা করে হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন, স্যানচেজ গত মৌসুমে লিগে মাত্র দুটো কার্ড দেখেছেন।

কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ইংলিশ লিগে কিভাবে মানাতে পারবেন, দেখার বিষয় সেটাই!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 + 6 =