কার্ডিফে সাকিব-রিয়াদের ইতিহাস রচনা

২২৪ রানের জুটি গড়ে দলকে অবশ্যম্ভাবী হারের মুখ থেকে টেনে নিয়ে এসে জয়ের বন্দরে ভেড়ানোর দুই অগ্রপথিক সাকিব আল হাসান আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ গতকাল রেকর্ডের অনেক পাতায় নিজেদের নামটা স্বর্ণাক্ষরে রচনা করেছেন। আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও কি কখনো ভাবতে পারতেন যে এভাবে বাংলাদেশ রান তাড়া করে কখনো জিততে পারবে কোন ম্যাচ? না, তাই ত? সেটা ভাবার জন্য আপনাকে দোষও দেওয়া যায় না, কারণ এরকম ঘটনা আগে কখনো বাংলাদেশের ইতিহাসেই হয়নি। ত দেখে নেওয়া যাক, এই ঐতিহাসিক জয় লাভ করতে গিয়ে রেকর্ডবইয়ের কোন কোন পাতা আবার নতুন করে রচনা করেছেন সাকিব আর রিয়াদ!

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে সাকিব রিয়াদের পঞ্চম উইকেটের এই ২২৪ রানের জুটিটা যেকোন উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি, তাঁরা পেছনে ফেলেছে ২০০৯ সালে ভারতের বিপক্ষে মোহাম্মদ ইউসুফ আর শোয়েব মালিকের করা চতুর্থ উইকেটে ২০৬ রানে জুটিটাকে। শীর্ষে আছে শ্যেইন ওয়াটসন আর রিকি পন্টিংয়ের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তোলা অবিচ্ছিন্ন ২৫২ রানের জুটিটা, যা তাঁরা করেছিল ঐ ২০০৯ সালেই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

পঞ্চম উইকেটে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি এটা। শীর্ষে আছে ২০১৫ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জ্যাঁ-পল ডুমিনি আর ডেভিড মিলারের করা অবিচ্ছিন্ন ২৫৬ রানের জুটিটা, আর মাত্র দুই রানের জন্য সাকিব-রিয়াদের জুটিটা ছুঁতে পারেনি তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবি বোপারা আর এওইন মর্গ্যানের জুটিটা, যা তাঁরা করেছিল ২০১৩ সালে ডাবলিনে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জুটি এটা, যা পেছনে ফেলেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঢাকায় করা তামিম আর মুশফিকের ১৭৮ রানের পার্টনারশিপটাকে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটা যেকোন দলেরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। সর্বোচ্চ পার্টনারশিপটা হল ভারতের দুই কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার আর রাহুল দ্রাবিড়ের, ১৯৯৯ সালে হায়দ্রাবাদে কিউইদের বিপক্ষে ৩৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন তাঁরা।

এক ইনিংসে দুই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি করার এটা দ্বিতীয় ঘটনা, প্রথম ঘটনাটা সেই তামিম আর মুশফিকের, আগের রেকর্ড ১৭৮ রানের জুটি গড়ার পথে দুজনেই পেয়েছিলেন শতরান সেই ম্যাচে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় ২০১৫ সালে। আর চ্যাম্পিয়নস টড়ফিতে একই ইনিংসে দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি করার এটা চতুর্থ ঘটনা। কাকতালীয়ভাবে আগের তিনটা ঘটনাতেই যার ভুক্তভোগী ছিল ইংল্যান্ড। এর আগে ২০০২ সালে কলম্বোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন দুই ভারতীয় বীরেন্দর সেহওয়াগ ও সৌরভ গাঙ্গুলী ; ২০০৬ সালে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই এক ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন দুই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিস গেইল আর ডোয়াইন ব্রাভো ; ২০০৯ সালের সেমিফাইনালে সেঞ্চুরিয়নে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন রিকি পন্টিং আর শ্যেইন ওয়াটসন।

এর আগে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল দুটো, দুটোই গত বিশ্বকাপে, অর্থাৎ রিয়াদের তিনটা সেঞ্চুরিই এল দেশের বাইরে, আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টে!

সাকিবের মোট সাতটা সেঞ্চুরির মধ্যে ছয়টা সেঞ্চুরির পরেই বাংলাদেশ জিতেছে। আর রিয়াদের তিন সেঞ্চুরির প্রত্যেক ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতেছে। অর্থাৎ সাকিব বা রিয়াদ সেঞ্চুরি করলে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মোটামুটি নিশ্চিতই বলা চলে। ওদিকে যেসব ম্যাচে বাংলাদেশ জেতে, সেসব ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ওয়ানডে গড় দাঁড়ায় ৫১.৬৭, যেখানে বাংলাদেশের হারা ম্যাচগুলোতে তাঁর ওয়ানডে গড় মাত্র ২৬.৮১!

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × 5 =