আজকের সাকিবনামা

কাল বিকেলে শেষ ক মিনিটের খেলা। লাকমলের বাউন্সারে তেড়েফুঁড়ে উড়িয়ে মেরেছেন সাকিব। আজ সেই লাকমলের বাউন্সারেই রিস্ট দারুণ ভাবে রোল করেছেন। গ্রাউন্ডে খেলেছেন। একবার নয়, বারবার।

কাল হ্যাটট্রিক বলে গিয়ে সান্দাকানকে প্রচণ্ড আক্রোশে সুইপে চার মেরেছেন। স্লগ করে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন। তার পর আবার স্লগ করেছেন। আজ সেই সান্দাকানকেই হাত থেকে পড়ার চেষ্টা করেছেন সাকিব। হাত থেকে পড়তে না পারলে অফ দা পিচ্ও খেলেছেন সতর্কতায়। খেলেছেন অনেক লেট, শরীরের কাছে…

আজ আর কালের পার্থক্য। বলতে পারেন ছোটো পার্থক্য। বলতে পারেন বড়।

সাকিবের সেঞ্চুরি উদযাপন ভালো লেগেছে (বা উদযাপন প্রায় না করা!)… যথারীতি সেশন শেষের আগে আউট হয়েছেন…হতাশ হয়েছি। তবে আউট হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া ভালো লেগেছে। সতিই হতাশ হয়েছেন, সেটা বারবার বোঝা গেছে। সাকিব অন্তত দেখানোর জন্য করেন না। সত্যিই অনুভব করেছেন। মানে সেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ছিল। বড় ইনিংস খেলবেন। হয়ত চা্ওয়া ছিল আরও বড় করার…

সেজন্যই কালকের বিকেলটা আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। আজ দিন জুড়ে নিয়ন্ত্রিত খেলতে পারলেন, কাল কয়েক মিনিট কেন নয়? আজ ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেও কালকের ৮ বল জাস্টিফায়েড হয় না। ওই আট বলে ৪-৫ বার আউট হতে পারতেন। তাহলে আজকের ইনিংসটা আর হতো না!

হ্যাঁ, ক্রিকেটে এটি সবসময়ই সত্যি। আউট না হলে তো সবাই সেঞ্চুরি করবেই। মূল ব্যাপার হলো, প্রসেস। প্রক্রিয়া। ধরণ। সেটা ঠিক রাখতে হয়।

অবশ্যই সাকিবের ধরণ আর কারও মতো নয়। তবে কাল বা আজ, কোনোটাই আমাদের চেনা সাকিবের ধরণও নয়! কাল ছিল বেশি খ্যাপাটে, আজ অনেক কন্ট্রোলড। কিছু হয়েছিল বলেই পাগলাটে ছিলেন।আবার কিছু হয়েছে বলেই শান্ত। মানে তিনি চাইলে পারেন। সব ভাবেই পারেন। শুধু চাওয়াটাই ব্যাপার!

রাগ, ক্ষোভ থাকলে সেটির সত্যিকার জবাব কখনোই আত্মহত্যা নয়, বরং জীবন না দেওয়ার জন্য লড়াই করা। লড়াই করে টিকে থাকলেই স্যালুট পাওয়া যায়…!!!

( এবছর এখনও পর্যন্ত টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান সাকিবের, দুইয়ে মুশফিক। ছয়ে সৌম্য। বছর শেষ হতে হতেও আশা করি এমন কিছুই থাকবে। আর তামিম পাঁচে ঢুকবে!)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seven − two =