সাব্বির : চির উন্নত যার শির

আমি সাব্বির,
চির উন্নত মোর শির,
শির নেহারি আমারি নত শির ঐ ধবল কূলকারনির

নেহায়ের মজা করে লেখা। কিন্তু লেখার পিছনের ঘটনা? মোটেই মজা না, ১০০০% সিরিয়াস! বাংলাদেশ ভারত সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে ধবলের একটি শর্ট বলে নিজের শরীর বাচাতে গিয়ে প্রায় নিজেই নিজের উইকেটের উপর পড়ে যাচ্ছিলেন। কোনোমতে সামলে ব্যাকফুটে দাঁড়ালেন। ভাবখানা এমন, জানি তো শর্ট বল করবে, করেই দেখনা! ধবল বাবাজি শর্ট বল করে মুখ ঘোরতর কৃষ্ণবর্ণ করে তাকিয়ে দেখলেন, বাংলার নতুন বাঘ সেটাকে কিভাবে পুল করে মাঠের বাইরে পাঠালেন। এই আমাদের সাব্বির। পদ্মাপারের ছেলেটা যেন হারতে জানেন না। বুক চিতিয়ে দাড়িয়ে যান লড়তে। ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা এনেছিলেন করিম সাদিকের এক ওভারে তিন ছক্কার মারে। করিমকে দেখে মনে হচ্ছিলো পাড়ার বোলার।

প্রথমে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন টি টুয়েন্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কারণ স্লগ ভালোই পারেন। গত বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারে জোয়ার এলো। দারুণ ফিল্ডিং আর শেষের দিকে চমৎকার কিছু ইনিংস, বিশেষ করে স্কটিশ দের সাথে তুলির শেষ আঁচড় দেওয়া ৪৪ তাকে বিশ্বে পরিচিতি এনে দেয়। তার আগে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের সাথে ঝড় তুলেছিলেন পদ্মা পাড়ের তরুণ, ৪৪ রান করেছিলেন ২৫ বলে! জয়ের নেশায় মরিয়া বাংলাদেশ ২০১৪ সালের প্রথম ওয়ানডে জিতেছে সেদিনই!

পাকিস্তানের সাথে জয়ের সূচনা হয়েছিলো প্রস্তুতি ম্যাচে, সেখানে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে নায়ক সবুজ চোখের সাব্বির। ৭ নম্বরে নেমে পর্যাপ্ত বল না পাওয়ার আক্ষেপ সেদিন ঘুচিয়েছিলেন অসাধারণ কিছু শট খেলে, পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে, তার সেঞ্চুরিতে বিসিবি একাদশের কাছে হেরে পাকিদের ভাঙা মনোবল আর জোড়া লাগেনি ঐ সিরিজে! ভারতে এ দলের হয়ে করেছেন অসাধারণ এক শতক, ৬ রানে দল ৪ উইকেট হারানোর পর তিনি দলের হাল ধরে নাসির সুভাগত আর শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খেলেছেন অপরাজিত ১২২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস! বলা যায় তার ব্যাটেই মান বেঁচেছে দলের।
ফিল্ডিঙে তার গতি আর রিফ্লেক্সের ঝলক এবং ব্যাট হাতে ভরসার প্রতিমূর্তি হয়ে থাকা, সাথে কাজ চালানোর মতো লেগ স্পিন- মনেহয় আরেকজন দুর্দান্ত সব্যসাচী পেয়েছে বাঘ বাহিনী!!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × 4 =