কন্তের সিস্টেমে নতুন ডিফেন্ডার – আন্তোনিও রুডিগার

চব্বিশ বছর বয়সী জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারকে নিয়ে এবার দলবদলের বাজারে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া শুরু করলো ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন চেলসি। ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমা থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে আসা রুডিগারকে ২৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে গ্যারি ক্যাহিল-ডেভিড লুইজ-কার্ট জুমা-সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটাদের সাথে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে পরবর্তী মৌসুম থেকে দেখা যাবে।

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের যুবদলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা রুডিগার এএস রোমা ছাড়াও খেলেছেন ভিএফবি স্টুটগার্টের হয়ে। রোমার হয়ে দুই মৌসুমে ৫৬ ম্যাচ খেলা রুডিগার খেলতে পারেন ফুলব্যাক হিসেবেও, মূলত রাইটব্যাক হিসেবে। শক্তিশালী এই ডিফেন্ডার কন্তের ৩-৪-৩ সিস্টেমে খেলতে পারবেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সের যেকোন পজিশানেই। প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখে ডিফেন্স থেকে আক্রমণের সূচনা করতে পারেন, যেটা দেখা গিয়েছিল এবারের কনফেডারেশানস কাপ ফাইনালে, চিলির বিপক্ষে। এর মধ্যেই জার্মান কোচ জোয়াকিম লো এর বেশ প্রিয়পাত্র হয়ে গেছেন তিনি, লো এর মধ্যেই আরেক জার্মান সেন্টারব্যাক জেরোম বোয়াটেং এর সাথে রুডিগারের তুলনা করেছেন। শক্তিশালী হবার চূড়ান্ত ফায়দা তিনি সবসময় নেন, নিয়মিত হার্ড ট্যাকল করতে দেখা যায় তাঁকে, ফলে প্রতিপক্ষের কাছে যেরকম তিনি অস্বস্তিকর, নিজের ক্ষেত্রেও তাঁর এই ক্রমাগত হার্ড ট্যাকল করার অভ্যাসটা ক্ষতিকর, কেননা এরই মধ্যে তিন বার হাঁটুতে অপারেশান হয়েছে তাঁর। গত মৌসুমে আট-আটটা হলুদ কার্ড ও দুটো লাল কার্ড দেখা আন্তোনিও রুডিগারের এই কার্ড দেখার বদভ্যাসটাও কমাতে হবে।

চেলসিতে আসলেও রুডিগারের পছন্দের ক্লাব আসলে চেলসিরই নগর-প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনাল। ছোটবেলাতে স্ট্রাইকার হতে চাওয়া রুডিগার চেয়েছিলেন থিয়েরি অঁরির মত হতে। কিন্তু ডর্টমুন্ডে এসে একটা শক্তিশালী সেন্টারহাফে রূপান্তরিত হওয়া রুডিগারের আইডলের জায়গায় ততদিনে এসে যান পাওলো মালদিনি, অ্যালেসসান্দ্রো নেস্তা ও ফ্যাবিও ক্যানাভারো। ছয় ফুট তিন ইঞ্চির উচ্চতা হবার কারণে বাতাসে ভেসে আসা বল মোকাবিলা করতে কখনো পিছপা হননা তিনি, শারীরিক শক্তিতেও প্রতিপক্ষ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে হারতে নারাজ তিনি। ডান পায়ের খেলোয়াড় রুডিগারের রাইটব্যাক হিসেবে খেলার অভ্যাস আছে, যার অর্থ সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটার সাথে প্রায়ই অদল-বদল করে খেলানো যাবে তাঁকে। শর্টপাসে প্রথম প্রথম তাঁকে একটু অপটু লাগলেও মাঝে মাঝেই ডিফেন্স থেকে লং বল দিতে পারেন তিনি, সফল পাসের হার ৮৩ শতাংশের মত। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে বেশ গতিশীল তিনি, পজিশানিং এ কখনো ভুল হলে নিজের গতি দিয়ে সেটা পুষিয়ে দিতে পারেন তিনি।

চেলসির ডিফেন্স থেকে এবার বিদায় নিয়েছেন কিংবদন্তী ডিফেন্ডার জন টেরি। রুডিগারকে কি পারবেন তাঁর অভাব মেটাতে?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine + fifteen =