গোলমেশিন রোমারিওর কথা

ফুটবল কেবল গোলের খেলা না কিন্তু আপনি যদি গোলই দিতে না পারেন তাহলে ফুটবল কোন খেলাই না, এখানে সকল শিল্প, কারুকার্য, ট্যাকটিক্স সবই বৃথা যদি আপনি গোলের দেখা না পান, তাই এখানে কিছু প্লেয়ার এমন যারা সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় দাড়িয়ে সঠিক সুযোগে গোল করে নিজেদের লিজেন্ড কাতারে শামিল করেন, এমনই একজন গোলমেশিনকে নিয়ে আজকের এই পর্ব, লিজেন্ড সিরিজে এটা আমার চতুর্থ পর্ব, এর আগে রিভালদো, লিনেকার, ক্রুইফ লিখেছিলাম, তবে এই পর্বটা সম্ভবত ক্রুইফেরটার মতো সেরা হবে না ওইটা এক্সেপশনাল ওয়ানের জন্য এক্সেপশনাল পিস ছিল তাই এই পোস্টটাকে ওইটার সাথে তুলনা দিয়ে পোস্টটার মান কমিয়ে দিবেন না।পুরো নাম- রোমারিও ডিসুজা ফারিয়া
জন্ম তারিখ-২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৬
জন্মস্থান- রিও ডি জেনেরিও, ব্রাজিল
উচ্চতা- ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি
পজিশন- স্ট্রাইকার
ইয়ুথ ক্যারিয়ার- অলারিয়া, ভাস্কো দা গামা
সিনিয়ার ক্যারিয়ার- ভাস্কো দা গামা, পিএসভি, বার্সেলোনা, ফ্লামেঙ্গো, মিয়ামি এফসি, এডলেইট ইউনাইটেড, আমেরিকান আরজে।
ন্যাশনাল টিম- ব্রাজিল (১৯৮৭-২০০৫)ব্রাজিলকে লিজেন্ড তৈরীর আতুরঘর বলা হয়, ওইখান থেকে একের পর এক গ্রেট ফুটবলার বিভিন্ন প্রজন্ম উপহার পেয়ে থাকে এমনই একজন রোমারিও, ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন, জিতেছেন কোপা আমেরিকা(২ বার), জিতেছেন কনফেডারেশন কাপ, করেছেন ১০০০+ গোল,
রোমারিও সর্বপ্রথম ব্রাজিলের ক্লাব অলারিয়াতে তার ইয়ুথ ক্যারিয়ার শুরু করেছিল এরপর সে ভাস্কো দা গামাই ইয়ুথ ক্যারিয়ার শেষ করে। রোমারিও পিএসভির হয়ে তিনবার লিগা এরেডিভাইস শিরোপা জিতেন, সে ক্রুইফের ড্রিম টিমের একজন ছিলেন, আর সেখানে রিস্টো স্টোইচকভের সাথে তার লিজেন্ডারি স্টাইকিং ডুয়ো ছিল।
ব্রাজিলে রো রো অ্যাটাক তখন বিশ্ব কাঁপাচ্ছিল, রোনালদো রোমারিও।দেখে নি তার ক্লাব ক্যারিয়ার -পিএসভি এনডোভেন(১৯৮৮-১৯৯৩)১৯৮৮ অলিম্পিকে সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন রোমারিও তখনই সে পিএসভির নজরে পড়ে, অলিম্পিকের পরপরই সে পিএসভিতে যোগদান সম্পন্ন করে, সেখানে রোমারিও তিনটি লিগা এরডিভাইস শিরোপা জয় করেন ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯২। ৫ সিজনে ১৬৭ ম্যাচে করেন ১৬৫ গোল, রোমারিও তার পুরো ক্যারিয়ারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এই সম্পর্কে তার পিএসভি কোচ গুস হিন্ডিক বলেন- “বড় ম্যাচগুলোর আগে যখনই আমি নার্ভাস থাকতাম সে আমাকে এসে বলতো ডোন্ট ওরি কোচ আমি কালকে গোল করবো আর আমরা জিতবো, আর আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এইট আউট অফ টেনটাইম যখন সে এটা বলতো তখন সে সত্যিই গোল করতো”বার্সেলোনা(১৯৯৩-৯৫)-১৯৯৩ সালে রোমারিও বার্সায় যোগ দেয়, ক্রুইফের ড্রিম টিমে যেখানে সে গার্দিওলা, লড্রাপ, রোনাল্ড কোয়েমেন এর সাথে খেলে আর তার স্ট্রাইকার পার্টনার ছিল রিস্টো স্টোইচকভ। প্রথম সিজনে রোমারিও ৩০ ম্যাচে ৩৩ গোল করে, সে সিজনে লিগ টাইটেলও জিতে বার্সা, ২য় বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বার্সা হট ফেভারিটও ছিল কিন্তু আনফর্চুনেটলি মিলানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে যায় বার্সা। বার্সায় রোমারিওর সবচেয়ে মেমোরেবল পারফমেন্স হলো ক্যাম্প ন্যু তে মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ওই ম্যাচে বার্সা ৫-০ গোলে জয় পায়। সে ম্যাচে রোমারিওর একটা গোল তার ট্রেডমার্ক ফিনিশিং টোই পোক নামে পরিচিত, চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানইউর বিপক্ষে ক্যাম্প ন্যুতে তার পারফমেন্স এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের কোন ব্রাজিলিয়ান প্লেয়ারের সেরা পারফমেন্স, যার সাক্ষী ছিলেন কিংবদন্তী পিটার শেইমেইল,
“আমি আমার ক্যারিয়ারে কখনো কোন স্ট্রাইকারের হাতে এত অসহায়ভাবে নাস্তানাবুদ হয়নি”
-পিটার শেইমেইল।
১৯৯৪ এ সে ফিফার বর্ষসেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হয়
১৯৯৫ এর জানুয়ারিতে বার্সা ছাড়েন রোমারিও।ফ্ল্যামেঙ্গো ও ভ্যালেন্সিয়া(১৯৯৫-৯৯)১৯৯৫ তে রোমারিও ব্রাজিলে ফিরে যায়, ফ্ল্যামেঙ্গোর হয়ে সেখানে পাঁচ সিজন খেলেন রোমারিও, ১৯৯৬ তে ভ্যালেন্সিয়ায় লোনে যোগ দিয়ে আবারো স্পেনে ফিরে আসে, কোচের সাথে দ্বন্দ্বের কারনে সে আবারো ফ্ল্যামেঙ্গোতে ফিরে যায়, ১৯৯৭ তে ভ্যালেন্সিয়ার নতুন কোচ রানেরি তাকে আবারো ভ্যালেন্সিয়ায় নিয়ে আসে।
“যখন আমি জন্মেছিলাম তখন সৃষ্টিকর্তা আমার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলেছিলেন আমিই হলাম সে একজন”
-রোমারিওভাস্কো দা গামা ও ফ্লুমেনেন্স(২০০০-২০০৫)২০০০ এ রোমারিও তার পুরনো ক্লাব ভাস্কো দা গামায় যোগ দেয় পুনরায়, সে সেখানে তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়গুলোর মধ্যে একটি পার করে, তার ২ গোলে ম্যানইউকে ৩-০ গোলে হারায় ভাস্কো দা গামা, সে ভাস্কো দা গামার হয়ে ব্রাজিলিয়ান লিগ শিরোপা ও কোপা মার্কেসার জয় করে , জিতে নেয় ল্যাটিন প্লেয়ার অফ দা ইয়ার ও ব্রাজিলিয়ান প্লেয়ার অফ দা ইয়ার এওয়ার্ড।
২০০২ এ লোনে ফ্লুমেনেন্সে যোগ দেয় রোমারিও, ২০০৫ এ ৩৯ বছর বয়সে ভাস্কো দা গামার হয়ে তার শেষ সিজনে ২২ গোল করে রোমারিও।অন্যান্য-পরবর্তীতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রোমারিও সে মিয়ামি এফসি ও আবারো ভাস্কো দা গামার হয়ে খেলে ২০ মে ২০০৭ এ সে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে।
পরবর্তীতে সে ভাস্কো দা গামার ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হোন ২০০৭ এর ২৪ অক্টোবর এবং ২০০৮ এর ৫ ফেব্রুয়ারী তিনি রিজাইন করেন।
“অফিসিয়ালি আমি আর খেলবো না আমার সময় শেষ, সবকিছু খুব দারুন ছিল পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে”
-রোমারিওজাতীয় দল(১৯৮৭-২০০৫)ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা পাঁচ গোলদাতার মধ্যে রোমারিও একজন, ব্রাজিলের হয়ে সে তার পুরো ক্যারিয়ারে ৮৫ ম্যাচে ৭১ গোল করেন,
১৯৮৮ অলিম্পিকে ব্রাজিল সিলভার মেডেল জিতে সে টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৭ গোল করে রোমারিও এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৯ এর কোপা আমেরিকায় ফাইনালে তার একমাত্র গোলে উরুগুয়েকে পরাজিত করে ব্রাজিল, সে ব্রাজিলের ইতিহাসে পেলের পর ২য় সর্ব্বোচ্চ গোলদাতা,
১৯৯০ বিশ্বকাপে ইন্জুরড রোমারিও মাত্র ৬৬ মিনিট খেলেন, ব্রাজিল সে বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনার কাছে হেরে,
১৯৯৪ বিশ্বকাপে রোমারিওর স্ট্রাইকিং পার্টনার ছিল বেবেতো, এটা ছিল ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয় যেখানে রোমারিও ৫ গোল করে, প্রথম রাউন্ডের তিনম্যাচেই গোল করে রোমারিও যার মধ্যে সুইডেনের সাথে গোলটি ছিল তার ট্রেডমার্ক ফিনিশিং টোই পোক, কোয়াটারে নেদারল্যান্ড ও সেমিতে সুইডেনের বিপক্ষে গোল করে রোমারিও।
জিতে নেয় বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল,
১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইন্জুরীর কারনে দল থেকে ছিটকে পড়েন রোমারিও, ২০০২ বিশ্বকাপে সে ভালো ফর্মে থাকলেও বয়স ৩৬ হওয়ার কারনে তাকে দলে নেয়নি কোচ স্কোলারি,
২৭ এপ্রিল, ২০০৫ এ সে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তার ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলে গুয়েতেমালার বিপক্ষে সেখানে ৩-০ গোলে জয় পায় ব্রাজিল, ২য় গোলটি করে রোমারিও।দা রো রো অ্যাটাক-রোনালদো রোমারিও ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকিং ডুয়ো পরবর্তী সময়ে বিশ্ব কাঁপিয়েছিল, ১৯৯৭ কোপা আমেরিকায় এই দুইজন মোট ৮ গোল করে আর চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল, ১৯৯৭ এ এই দুইজনের কৃতিত্বে কনফেডারেশন কাপও জিতে ব্রাজিল। ১৯৯৭ সালে এই ডুয়ো মোট ৩৪ গোল করে যার মধ্যে ১৯ টি করে রোমারিও।ক্যারিয়ারের অর্জনসমূহ-দলগত অর্জন-Vasco da Gama
Campeonato Carioca: 1987, 1988[11] Taça Guanabara: 1986, 1987[83] Taça Rio: 2001[83] Torneio Rio – São Paulo: 1999[83] Campeonato Brasileiro Série A: 2000[11] Copa Mercosur: 2000[11] Taça Cidade Juiz de Fora: 1986,[84] 1987[85] Los Angeles Gold Cup: 1987[86] Copa TAP: 1987[87] Ramón de Carranza Trophy: 1987,[88] 1988[89] Taça Brigadeiro Gerônimo Bastos: 1988[90]PSV Eindhoven
Eredivisie: 1989, 1991, 1992[11] KNVB Cup: 1989, 1990[11] Dutch Super Cup: 1992
UEFA Super Cup Runner-up: 1988
Intercontinental Cup Runner-up: 1988Barcelona-
La Liga: 1993–94[11] Supercopa de España: 1994; Runner-up: 1993
UEFA Champions League Runner-up: 1993–94
Teresa Herrera Trophy: 1993[91] Troféu FORTA – Antena 3 TV: 1993[91]Flamengo
Campeonato Carioca: 1996, 1999[11] Taça Guanabara: 1995, 1996[83] Copa de Oro: 1996
Copa Mercosur: 1999[11] Supercopa Libertadores Runner-up: 1995Al-Sadd
Qatar Stars League: 2003–04
Qatar Crown Prince Cup: 2003[11] Emir of Qatar Cup: 2003América-RJ
Campeonato Carioca Second Division: 2009International
Brazil
U-20 South American Championship: 1985
1988 Seoul Summer Olympics Silver Medal
Australia Bicentenary Gold Cup: 1988
Copa América: 1989, 1997[11] FIFA World Cup: 1994[11] FIFA Confederations Cup: 1997[11]ব্যক্তিগত অর্জনসমূহ-U-20 South American Championship’s top scorer: 1985
Campeonato Carioca’s top scorer: 1986, 1987, 1996, 1997, 1998, 1999, 2000
Club’s Player of the Year (Vasco da Gama): 1987, 1988, 2000, 2001
1988 Seoul Summer Olympics top scorer
Dutch League’s top scorer: 1998-89, 1989–1990, 1990–91[11] Dutch Cup’s top scorer: 1988–89, 1989–90
Dutch Footballer of the Year: 1989
UEFA Champions League’s top scorer: 1989–90, 1992–93[11] Onze de Bronze: 1993
FIFA World Player of the Year – Silver Award: 1993
La Liga Top Scorer: 1993–94[11] Trofeo EFE Best Ibero-American Soccer Player of the Spanish League: 1993–94
FIFA World Cup Golden Ball: 1994[11] FIFA World Cup Bronze Boot: 1994
FIFA World Cup All-Star Team: 1994
Onze d’Or: 1994
FIFA World Player of the Year: 1994[11] L’Équipe Champion of Champions – Sportsman of the year : 1994
FIFA Confederations Cup Golden Shoe: 1997[11] FIFA Confederations Cup Silver Ball: 1997
Rio-São Paulo Tournament’s top scorer: 1997, 2000
CONCACAF Gold Cup All Star Team: 1998
Brazilian Cup’s top scorer: 1998, 1999
Copa Mercosur’s top scorer: 1999, 2000
Golden Boot – Placar: 1999, 2000, 2002
Brazilian league’s top scorer: 2000, 2001, 2005[11] FIFA Club World Cup Golden Boot: 2000
FIFA Club World Cup Bronze Ball: 2000
Bola de Ouro – Placar: 2000
Bola de Prata – Placar: 2000, 2001, 2005
South American Footballer of the Year: 2000
South American Team of the Year: 2000, 2001
CBF Golden Boot: 2001, 2005
FIFA World Cup Dream Team: 2002
FIFA 100 World Players: 2004
Rei do Gol Trophy: 2005
Prêmio Craque do Brasileirão – Top Goalscorer: 2005
USL 1st’s MVP: 2006
USL 1st’s top scorer: 2006
Prêmio Craque do Brasileirão – Special Honor: 2007
Golden Foot Legends Award: 2007
Marca World Cups All-Time Team: 2014
International Football Hall of Fame – Pachuca, México
Brazilian Football Museum Hall of Fameরোমারিওকে নিয়ে কিছু উক্তি-“সে একজন জিনিয়াস ফিনিশার, ফিনিশিং এ রোমারিওর মতো সেরা আর কেউ আমারর চোখে পড়েনি”
-ক্রুইফ”আমার সকল ফিনিশিং ট্যাকনিক আমি তার কাছ থেকেই শিখেছি, সে একজন স্কিলফুল ফিনিশার, গোল এরিয়ায় কোন সুযোগই সে হাতছাড়া করে না”
-রোনালদো”রোমারিও সর্বকালের সেরাদের একজন, সে গ্রেট ফিনিসার, পেনাল্টি এরিয়ায় সে একজন আর্টিস্ট ”
-রবার্তো বাজিও”রোমারিওকে পেনাল্টি এরিয়ায় আটকানো অসম্ভব”
-পাওলো মালদিনি।ফুটবল ছাড়ার পর তিনি বিচ ফুটবলেও খেলেছেন দীর্ঘদিন, কাজ করেছেন নাইকির ব্র্যান্ড এম্বেসেডর হিসেবে, তিনি বর্তমানে ব্রাজিলের একজন পলিটিশিয়ান, তার ছেলে রোমারিনহো ভাস্কো দা গামায় খেলেন।
লিখা-Hameem Sharar Juveenj

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 4 =