স্কটিশ লেফটব্যাক অ্যান্ড্রিউ রবার্টসনেই আস্থা লিভারপুলের

সেই প্রিমিয়ার লিগ যুগ শুরু হবার পর থেকেই লেফটব্যাক পজিশানে কখনই সেরকম সন্তোষজনক কাউকে দলে পায়নি লিভারপুল। জন আর্ন রিসা ছিলেন কিছুটা, কিন্তু নিজেকে বিশ্বসেরা হিসেবে তিনিও হয়ত বলবেন না। ছিলেন ফাবিও অরেলিও-ও ; কিন্তু তিনি আসলেই কি হতে পারতেন, সেটা লিভারপুল সমর্থকেরা তাঁর ইনজুরির জন্য কখনই দেখতে পারেননি। হোসে এনরিকে, জিমি ট্রায়োরে, স্টিভ স্টনটন, আলবার্তো মরেনো, স্টিভ হার্কনেসের মত ডিফেন্ডাররা মূলত ছিলেন মন্দের ভালো – আবার এমিলিয়ানো ইনসুয়া, অ্যান্দ্রেয়া ডসেনা, স্টিগ ইঞ্জ বিয়োর্নবাই, আলি সিসোখো, জুলিয়ান ডিকস, গ্রেগোরি ভিনিয়ালের মত ডিফেন্ডাররা ছিলেন একেবারেই ফ্লপ। তাই দেখা যায় প্রতি বছরই নতুন নতুন লেফটব্যাক দলে আনার জন্য দলবদলের বাজারে লিভারপুলের উপস্থিতি থাকেই। গত বছর যেমন, আলবার্তো মরেনোর পারফরম্যান্স এতটাই খারাপ ছিল যে বলতে গেলে পুরোটা মৌসুমই ইংলিশ মিডফিল্ডার জেইমস মিলনারকে দিয়ে কাজ চালিয়েছিলেন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। কিন্তু এবার আর শুধুমাত্র মিলনারের উপরেই ভরসা রাখতে চাচ্ছেন না ক্লপ, তাঁর উপর মরেনোরও ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশী। তাই এবার নতুন লেফটব্যাক হিসেবে হাল সিটি থেকে স্কটিশ লেফটব্যাক অ্যান্ড্রিউ রবার্টসনকে দলে নিয়ে আসছে লিভারপুল। গত মৌসুমে হাল সিটির হয়ে ৩৯ ম্যাচ খেলা রবার্টসনকে আনতে লিভারপুলের খরচ হচ্ছে ৮ মিলিয়ন পাউন্ডের মত। ২০১৪ সালে হাল সিটিতে যোগ দেওয়া ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার হাল সিটির হয়ে খেলে ফেলেছেন শ’খানেক ম্যাচ, নিজের দেশ স্কটল্যান্ডের হয়েও খেলেছেন ১৫টার মত ম্যাচ।

মূলত আপাতত রবার্টসনকে মিলনারের ব্যাকআপ হিসেবেই আনা হচ্ছে, পরে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে যদি মিলনারকে পেছনে ফেলতে পারেন তিনি, তবে মিলনার আবার নিজের পছন্দের মিডফিল্ডে ফেরত চলে যাবেন।

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম আন্ডাররেটেড পারফর্মারদের মধ্যে একজন ছিলেন এই রবার্টসন। ৩৯ ম্যাচে তিনি উপরে উঠে গিয়ে ডি-বক্সে ক্রস দিয়ে এসেছেন ১১৯টা, বিপজ্জনক এলাকা থেকে বল ক্লিয়ার করেছেন ৯৭বার, প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন ৫৫বার, সফল ট্যাকল করেছেন ৩৬টা, আর গোলসহায়তা করেছেন ২বার,  গোল করেছেন একটি। ওদিকে মিলনার লিভারপুলের পেনাল্টি স্পেশালিস্ট হবার ফলে পেনাল্টি স্পট থেকে গত মৌসুমে গোল করেছিলেন সাতটা। দুইজনের সফল পাস দেওয়ার হারের মধ্যেও ফারাক নাই সেরকম, মিলনারের ৮০% সফল পাস দেওয়ার হার, রবার্টসনের ৭৬%। আবার বাতাসে ভেসে আসা বলকে সামলানোর ক্ষেত্রে মিলনারের থেকে একটু ভালো রবার্টসন, মিলনারের সফলতার হার এখানে ৪৪% এর মত, রবার্টসনের ৪৭%। প্রতিপক্ষের পা থেকে যেখানে ৫৫বারের মত রবার্টসন বল কেড়ে নিয়েছেন, মিলনার কেড়েছেন ৪২বার। তবে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করা কিংবা গোলের দিকে ফরোয়ার্ড বরাবর ”কী-পাস” দেওয়ার ক্ষেত্রে রবার্টসনের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে আছেন মিলনার। অর্থাৎ বলা যেতে পারে মিলনারের থেকে রবার্টসন তুলনামূলকভাবে বেশীই রক্ষণাত্মক। নিজের ডিবক্সের মধ্যে বিপজ্জনক জায়গায় শেষ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিপক্ষের উপর ট্যাকল গত মৌসুমে লিগে রবার্টসনই করেছেন সবচাইতে বেশী, তিনবারের মত।

লেফটব্যাক সমস্যা, যে সমস্যাটা লিভারপুলের আছে বছরের পর বছর, রবার্টসন কি পারবেন সেটার সুরাহা করতে? সামনের মৌসুমের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে উত্তরটা জানার জন্য!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 1 =