পূর্বপুরুষের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করি!

::: ধীমান গোস্বামী :::

‘৯৯ এর বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারানোর পরদিন সকালে রঙ খেলার পাশাপাশি পেপারে দেখেছিলাম কয়েকজন বাংপাকি আবেগে আত্মহত্যাও করেছে। ওয়াকার, আকরাম, শোয়েবের আমলে প্রায় কাউকেই পাকিস্তান বাদে অন্য কোন দলকে সমর্থন করতে দেখা যায়নি।
এইতো সেদিন ফেসবুক এলো আমরা সুশীল হলাম। সেসময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও উন্নতি হল। আমরা ভোল পাল্টে সম্মানজনক পরাজয়ের আমল থেকে ‘ধরে দিবানি’ আমলে প্রবেশ করলাম। সাথে সাথে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রধারী পাকিস্তানি সাপোর্টাররা তাদের পাকিস্তানি জার্সি তুলে রেখে সৌম্য, লিটন সংখ্যালঘু কোটায় দলে চান্স পায় কিনা তার হিসেব কষতে থাকলো সুশীলদের আতুরঘর ফেসবুকে আর অনলাইন নিউজ পোর্টালের কমেন্ট সেকশনে।
দিন আবার বদলালো মূলতঃ গত বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ভারতের ক্রিকেটীয় কূটনীতির শুভঙ্করের ফাঁকির স্বীকার হলাম আমরা। তারপর প্রায় জোর করেই পাকিস্তান-ভারত, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মত বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট রাইভালরি জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করা হল। তবে তা যতটা না মাঠে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্ধমুন্ডন করা ভারতীয়দের ক্রিকেটারদের মাথা বা মওকা মওকা ভিডিওতেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল। একবার রেন্ডিয়া বলে গালি দিলাম তাদের জনসংখ্যা আটগুণ হওয়ায় আটবার কাংলাদেশ শুনলাম।
এর ফায়দা উঠালো সেই পাকিস্তানের জার্সি লুকানো বাংলাদেশের সুশীল সমাজ। যারা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করার সময় ‘খেলার সাথে রাজনীতি মিশাবেন না’ বলত তারাই আজ পাকিস্তানের জয়ে উল্লাস করে তিস্তার পানি, ফেলানী হত্যা, গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের অন্যায়, কোহলির জিহ্বা বের করা – সব অপরাধের প্রতিশোধ নিয়ে ফেলল।
ভারত আমাদেরকে যথাযথ ক্রিকেটীয় সম্মান দেয় না – এর জন্য আমরা ভারতীয় ক্রিকেটকে ঘৃণা করব। কিন্তু তা কখনই পাকিস্তানের সাফল্যে উল্লসিত হয়ে নয়।
দয়া করে বাবা দিবসে ভারতের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে পাকিস্তানের সাফল্যে নিজের অনুরাগ প্রকাশ করে নিজের পূর্বপুরুষের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।

অভিনন্দন পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। দলটির অভিজ্ঞতা হয়তো বাংলাদেশ দলের প্রায় সমান বা কিছু কমই হবে – তবে তারা মাঠের খেলা মাঠেই সীমাবদ্ধ রেখে নিজেদের সাফল্য অর্জন করেছে – এটা সত্যই প্রশংসনীয়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × one =