সমস্যাটা সাকিবের না, সমস্যাটা আপনার নিজের

আশরাফুল যেদিন ফিক্সিং করে ধরা খেলো, আমার এক পরিচিত সাংবাদিক ভাই আমাকে মেসেজ দিলেন। “রিয়াদ, ক্রিকইনফো থেকে এই ব্যাপারে একজন সাপোর্টারের ইন্টারভিউ নিতে চাচ্ছে, দৌড়া বাঘ আইলো ফ্যান ক্লাবের এডমিন হিসেবে আমি তোমার নাম সাজেস্ট করেছি। তুমি কথা বলবে?” আমি তো মহাখুশী। নিজেকে বিরাট মাপের কিছু মনে হতে লাগলো।

ফোন দিলো বিকেলে। দীর্ঘ ইন্টারভিউ হলো। বিশাল বড় করে ক্রিকইনফোতে সেটা দেওয়াও হলো। কি একটা অবস্থা!

যাইহোক, একটা প্রশ্নের উত্তরে আমি কাছাকাছি যা বলেছিলাম তা নিম্নরুপঃ

Ashraful was always my hero. When I was a teenager, I waited for him to play a big knock, because I knew when he would score, we could win. Day after day I ran to the gallery, just to see him playing a big knock. Just to celebrate a victory. And now, I feel sad for him. I feel compassion for him. Because what he did killed my superhero overnight. He himself killed our superhero. I feel compassion for him.

পরদিন ক্রিকইনফোতে বিরাট করে আমার ছবি সহ ইন্টারভিউ এসে গেলো। খুব উৎসাহ নিয়ে নিজের ইন্টারভিউ নিজে পড়তে লাগলাম।

ঝামেলা হলো, পার্টিকুলার ওই প্রশ্নে। প্রশ্ন ঠিক আছে, উত্তরটা হয়ে গেছে ছোট, যেটার মেইন লাইন “I am angry with him”

আমার মাথায় বাজ পড়ে আরকি! কি কইলাম আর কি হয়ে গেলো! বন্ধু ক্রিকইনফোতে ইন্টারভিউ দিয়েছে, জায়গায় জায়গায় লিংক শেয়ার হতে লাগলো। আমিও সব জায়গায় গিয়ে বলতে লাগলাম, “আমি এ কথা বলিনি, আমি বলেছি… ”

এরপর থেকে পেপার, সাইট, কেউ কিছু ইন্টারভিউ নিতে চায়, আমি সুন্দর করে এভয়েড করি। কি দরকার!

 

সাকিব আল হাসান একজন ন্যাশনাল পর্যায়ে না, তিনি ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ের খেলোয়াড়। তিনি দুনিয়াজুড়ে লীগ খেলে বেড়াবেন, খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা আমাদের গর্ব।

এখন পাকিস্তানে খেলা হয় না। পাকিস্তানের ক্রিকেট রিলেটেড সব মানুষ, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাংবাদিক, তারা আছেন মাইনকা চিপায়। তারা চাইবেই তাদের দেশে ক্রিকেট ব্যাক করুক। সেই লক্ষ্যে তারা এটাও চাইবে ইন্টারন্যাশনাল কোন প্লেয়ারের মুখ থেকে এই রিলেটেড কথা বের করতে।

তো, সাকিবকেও বেদম প্রশ্ন করা হলো। জনগণের সাকিব্ব্যাদ্দফ ভাবটিও মাথা চাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ালো।

“এই মুহুর্তে পরিস্থিতি কঠিন কিন্তু আশা করি একদিন পরিস্থিতি ঠিক হবে এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে।”

প্রবলেম কি ভাই? আপনি কি আশা করেছিলেন সে বলবে “না আমি জীবনেও পাকিস্তান যাবো না” ভাই, এরকম দাবীদাওয়া থাকলে সরকারের কাছে পেশ করেন সরকার যাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি ক্যানসেল করে, আমার পাসপোর্ট এর গায়ে এনিহোয়্যার এক্সসেপ্ট ইসরায়েল এর সাথে পাকিস্তানের নামটাও যোগ হয়ে যাক।

“পাকিস্তানে খেলতে ভালো লাগবে, আমি চাই ওদের দর্শকদের সামনেও খেলতে”

সাকিব একজন ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ার। সে ভারতে খেলতে পছন্দ করবে, শ্রীলংকাতে করবে, নিউজিল্যান্ড এ করবে, পাকিস্তানেও করবে। ভুলটা কোথায় এখানে! সে সবজায়গায় খেলতে পছন্দ করবে, তাহলে বলেন সে বিশ্বপ্রেমী! ব্যাপারটা মন্দ না কিন্তু।

আর এভাবে কেন ভাবছেন না, পরিস্থিতি ঠিক হলে পাকিস্তানে যদি বাংলাদেশ যায়, সাকিব খেলবে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে, বাংলাদেশের পতাকার জন্য! সো লাইনটা কি এভাবে ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে “আমার ভালো লাগবে পাকিস্তানে এসে পাইক্কাদের সামনে পাইক্কাদের ভরে দিতে” খুব কষ্ট হচ্ছে?

লিখলে আমি ওর দেওয়া প্রতিটা উত্তর ডিফেন্ড করতে পারবো। ঘুম পাচ্ছে, থাক। আপনি সাকিব হেটার, আপনার ব্রেইনে বাতাস, এখন আমি বললেও আপনার মাথায় ঢুকবে না, না বললেও না। থাক কষ্ট না করি।

পাকি সাংবাদিক চাইবে এই রিলেটেড প্রশ্ন করতে। দ্যা বেস্ট সাকিব ক্যুড ডু, কুটনৈতিক উত্তর দেওয়া। অ্যান্ড হি, সাকিব, ব্যাদ্দফ, ডিড দ্যা বেস্ট। ১০০ তে ১০০. কি আশা করসিলেন সাকিব বলবে “না না আমি খেলতে যাবো না, বিসিবি যদি পাঠায় (এগেইন – পরিস্থিতি ঠিক হলে) আমি খাটের নিচে বসে থাকবো” এনিথিং লাইক দিস? তাহলে বলতে হবে, আপনি, প্রিয় সাকিব হেটার, আপনি ভন্ড। আপনি, উইদ ডিউ রেস্পেক্ট, হিপোক্র্যাট গর্দভ একটা। আরো খারাপ ভাষায় বলতাম, কিন্ত। কারন এমনটা হলে আপনি নিজে বলতেন “ছি ছি ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ার হয়ে একটু ম্যাচ্যিউর্ড হতে পারলো না। ছি ছি। এভাবে কেউ বলে নাকি?”

আপনার প্রবলেম সাকিব আল হাসানের কথা না। আপনার প্রবলেম – আপনি নিজে। আপনার জ্বলে।

আমি বিকট মাপে কোহলি এবং ইন্ডিয়া হেটার। সহ্য হয় না। আমার ফেভারিট ব্যাটসম্যান এর নাম শুনবেন? বিরাট কোহলি। আড্ডায় আমি এভাবে বলি – “হারামজাদা এত ভালো ক্যান! এত নিখুঁত ক্যান!” বাংলাদেশ ইন্ডিয়া টেস্টে আমি রিয়াদ কতবার যে মনে মনে বলসি “হোয়াট আ শট” “হাউ ক্লাসি হি ইস”!

আসুন, এবার আমাকে ভারতের দালাল উপাধি দিন। আজকেই এক জায়গায় সাকিবের পক্ষ নেওয়ায় “পাকিস্তানের দালাল” “পাকি বাল” উপাধি পেয়েছি। আরেকবার দুইটি ট্যাগ একই দিনে খেতে খারাপ লাগবে না। দিয়ে দিন।

সাকিব যখন বুঝের হয়েছে, সে দেখেছে সাঈদ আনোয়ার। দুইজনেই বাঁ-হাতি, দুইজনেরই আক্রমণাত্মক স্টাইল। সাকিবের প্রিয় ব্যাটসম্যান সাঈদ আনোয়ার। তো?

ব্রাদার, আপনার চুলকানির রোগটা একটু বেশী। ফার্মগেট ব্রিজের নিচে মলম পাওয়া যায়। কিনে নিবেন।

@রিয়াদ ইবনে মুসা

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × 2 =