সমস্যার নাম অ্যান্দ্রে গোমেজ

গতবছরের ২১ জুলাই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা যখন ঘোষণা দিল যে মাত্রই পর্তুগালের হয়ে ইউরোজয়ী পর্তুগীজ মিডফিল্ডার অ্যান্দ্রে গোমেজ ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ভ্যালেন্সিয়া থেকে যোগ দিচ্ছেন, সবাই মোটামুটি আশ্চর্যই হয়েছিল। কারণ দলবদলের বাজার তখন পল পগবা উত্তাপে উত্তপ্ত। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, না বার্সেলোনা – পগবা কোথায় যাবেন সেটা নিয়েই জলঘোলা হচ্ছিল তখন। আর এদিকে অ্যান্দ্রে গোমেজকে পাওয়ার দৌড়ে ছিল জুভেন্টাস, পিএসজির মত দলগুলো। কিন্তু হঠাৎই ভোজবাজির মত বার্সা টেনে নেয় গোমেজকে। ইনিয়েস্তা, বুসকেটস, রাকিটিচরা মিডফিল্ডে সঙ্গী পেল আরেকজন। আর পগবার পেছনে ১০০ মিলিয়নের বেশী খরচ না করে গোমেজের মত তুলনামূলক কম দামে খেলোয়াড় আনার ফলে সেই ট্রান্সফারটাও তখন অত্যন্ত সেন্সিবল বলে মনে হয়েছিল।

অ্যান্দ্রে গোমেজ

কিন্তু মৌসুম যত গড়াচ্ছে, বার্সার সিদ্ধান্তটিকে ততটাই ভুল বলে মনে হচ্ছে। আর এর কারণ বার্সার জার্সি গায়ে গোমেজের একের পর এক জঘন্য পারফরম্যান্স।

(আরও পড়ুন – বার্সেলোনায় অ্যান্দ্রে গোমেজের চান্স কিরকম?)

(আরও পড়ুন – যেটা পারেনি ব্রাজিল, পারলো পর্তুগাল)

(আরও পড়ুন – সুপারম্যান থিং)

প্রতিপক্ষের সাথে গ্রাউন্ড ডুয়েলে গোমেজের সাফল্যের হার মাত্র ৩৭%। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা হলেও প্রতি ৩১টা এরিয়াল ডুয়েলের মধ্যে ১৬টায় তিনি সফল হন, অর্থাৎ সাফল্যের হার অর্ধেক – ৫০%। পুরো বার্সা স্কোয়াডে তার থেকে কম সাফল্যের হার মাত্র আর একজন বার্সা খেলোয়াড়ের। ৫৫ বার ট্যাকলের চেষ্টা করে মাত্র ২৯% ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন তিনি। ২৬ বার টেইক-অন এর চেষ্টা করে মাত্র ১২ বার সফল হয়েছেন তিনি।

এই পর্যন্ত পুরো মৌসুমে ১০টা শট নিয়েছেন তিনি, যার মাত্র ৪টা গোল বরাবর গেছে, অর্থাৎ এখানেও তাঁর সাফল্যের হার ৫০% এর কম – ৪০%। এদের মধ্যে মাত্র একটা শটেই গোল হয়েছে। দশ শটে এক গোল, অর্থাৎ তাঁর গোলপ্রতি দশটি করে শট লাগছে।

(আরও পড়ুন – মুলার-কিনের পাশে রোনালদো)

তবে তাঁর সফল পাস দেওয়ার হার তাঁর অন্যান্য পরিসংখ্যানের থেকে যথেষ্ট বেশী। লিগে তাঁর ৮৯% পাস সফল, কিন্তু তাঁর ৭৬৬ পাসের মধ্যে ৫৬% পাস সামনে থাকা সতীর্থকে খুঁজে পায়, যেসব পাসগুলোও আবার সেরকম কঠিন কোন পাস না। পুরো মৌসুমে মাত্র দশটা কি-পাস দিয়েছেন তিনি যার মধ্যে মাত্র একটি গোলসহায়তা (অ্যাসিস্ট) হিসেবে গোনা হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে আবার গোমেজের সফল পাসের হার (৯৪.৫৭%) বায়ার্ন মিউনিখের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার থিয়াগো আলকানতারা (৯২.৬১%), রিয়াল মাদ্রিদের জার্মান মিডফিল্ডার টোনি ক্রুস (৯১.৪৩%), প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের ইতালিয়ান মিডফিল্ডার মার্কো ভেরাত্তি (৮৯.৫৩%) ও সতীর্থ স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটসের (৯১.৪৭%) থেকে বেশী।

মালাগার সাথে গত ম্যাচেও অনেক নিষ্প্রভ ছিলেন গোমেজ, একটা বলও রিকভার করতে পারেননি, জিতেছেন মাত্র ১৬% গ্রাউন্ড ডুয়েল আর ২৫% এরিয়াল ডুয়েলে। বার্সার আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর পাস সংখ্যা ছিল সবচাইতে কম, মাত্র ২৪টি। ভুল পাস দেওয়ার ভয়ে তিনি বল পা দিয়ে ধরতেও চান না পারতপক্ষে, বলে তাঁর মাত্র ৩১বার ছোঁয়া সেই কথাই বলে।

গোমেজের খারাপ খেলার আরেকটা জ্বলন্ত প্রমাণ হল তিনি মূল একাদশে খেললে মাত্র ৬২% ম্যাচ জেতে বার্সা, আর মূল একাদশে না থাকলে বার্সার সাফল্যের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬% এ!

এর মধ্যে এই খবরও বের হয়েছে যে বার্সাতে গোমেজকে চান না খোদ সুপারস্টার লিওনেল মেসি। এখন দেখা যাক বার্সা কি আসলেই গোমেজকে বেঁচে দেয় নাকী দ্বিতীয় মৌসুমে আরেকটা সুযোগ দেয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

12 − 1 =