দলের প্রয়োজনে পজিশান বদল : টট্টি-কথন

তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেন এটাকিং মিড হিসেবে, এরপর খেলেন নাম্বার টেন হিসেবে, এর কিছুদিন পর খেলেছেন স্ট্রাইকার হিসেবে, তারপর আবার শৈশবের পজিসন এটাকিং মিডে ব্যাক করেছেন। এই রোমা লিজেন্ড ফ্রাঞ্চেস্কো টট্টিকে নিয়েই আমার আজকের পোস্ট।টট্টির জন্ম রোমে। লরেঞ্জো ও ফিওরেলরা ঘর আলো করে ১৯৭৬ সালর ২৭ সেপ্টেম্বর টট্টি পৃথিবীর বুকে আসেন। টট্টির বড়দের সাথে ফুটবল খেলতে ভালবাসতেন। ৮ বছর বয়স থেকেই ফরতিতুদোর যুব দল খেলা শুরু করেন। এরপর স্মিত ত্রাস্তেভের ও লদিহিয়ানিতেও খেলেন। লদিহিয়ানিতে থাকাকালীন টট্টির জন্য এসি মিলান প্রস্তাব করে। কিন্তু টট্টির মা তা ফিরিয়ে দেয়। তিনি চাইছিলেন ছেলেকে নিজের কাছে রাখবেন। এদিকে আবার তার যুব দলের ম্যানেজমেন্ট টট্টিকে আর লদিহিয়ানিতে রাখবেনা। পরে রোমার যুবদলের জিলদো জিয়ান্নিনির পরামর্শে তারা রোমার যুবদলে ভর্তি করিয়ে দেন। তার ৩ বছর পরেই বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে টট্টির অভিষেক হয়।জাতীয় দলে টট্টির পথচলা শুরু হয় মাত্র ১৫ বছর বয়সে। তখন অবশ্য বয়সভিত্তিক দলগুলোতে ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেই তার যাদু দেখিয়ে যাচ্ছিলেন। কখনও সুযোগ তৈরি করে, আবার কখনও নিজেই গোল করে দলকে একের পর এক ফাইনালে ওঠাতে সাহায্য করছিলেন। কিন্তু বারবার হেরে যাচ্ছিলেন। ৪ বছর পর ১৯৯৬ সালে তার হাতে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি ধরা দেয়। অনুর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে ১-১ গোলর ড্র করার পর টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে ইতাি চ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যাচটিতে ইতালির একমাত্র গোলটি করেন টট্টি।বয়সভিত্তিক দলগুলোতে ধারাবাহিকে পারফর্মেন্সের পর জাতীয় দলের কোচ তাকে দলে ডেকে নেন। কোচের সিদ্ধান্তকে কখনও ভুল প্রমাণিত হতে দেননি। অভিষেকের ২ বছর পরেই ইউরোতে বাজিমাত করেন। প্রতিটা ম্যাচেই তার প্রভাব ছিল। ফাইনালে ইতালটির করা একমাত্র গোলটিতে তার এসিস্ট ছিল। হয়ত অন্যান্য ট্রফির সাথে ইউরোর ট্রফিটাও তার নামের পাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলত, যদি ফাইনালর তার দেয়া পাসগুলো ফরওয়ার্ড কাজে লাগাতে পারত। টট্টি তার কাজ ঠিকভাবেই করেছে। কিন্তু জুভেন্টাসের স্ট্রাইাকার দেল পিয়েরোর মিসে ২০০০ সালের ইউরোটা আর জেতা হয়নি।ইউরো বাজিমাত করা টট্টি ২০০২ সালের বিশ্বকাপে এসে যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলে। মিসের মিসের পর, বাজে পারফর্মেন্সের কারণে মিডিয়া ও সমর্থকের হাজারো প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। ২০০৪ ইউরোতে মাত্র ১ ম্যাচের পর সাসপেনসনের কারণে আর খেলা হয়নি। তারপর থেকে ইনজুরির ছোবল। অনেকেই মনে করেছিল এখানেই হয়ত টট্টি নামের অধ্যায়টার শেষ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপে টট্টি ফিরে আসে। দেশের প্রতি ভালবাসা তাকে ফিরিয়ে আনে। অস্ত্রপাচারের পর গোড়ালাতে ধাতব পাত স্থাপন করা হয়েছিল যেটা পরবর্তিতে বের করে নেয়া হবে। কিন্তু তার আগেই বিশ্বকাপ এসে গেল। টট্টি আর কিভাবে বসে থাকে! তাকে যে নিজ দেশের হয়ে বিশ্বকাপ উচিয়ে ধরতে হবে। নেমে পড়লেন প্রাকটিসে। বিশ্বকাপের আগে মাত্র ৩ মাস সময়। কঠোর পরিশ্রম করে চেষ্টা করলেন আগেই টট্টিকে ফেরাতে। চলে এল বিশ্বকাপ। এর মধ্যে আর মেটাল প্লেটটা আর বের করা হয়নি। সেটা নিয়ে নেমে পড়লের বিশ্বসেরা আসরে।তার দায়িত্ব ছিল আন্দ্রে পিরলো, সাথে ডুয় তৈরি করে মাঝমাঠ সামলানো। কিন্তু লিজেন্ডরা সবসময় কিছু অতিরিক্ত করে থাকেন। রাউন্ড অব ১৬তে যখন ম্যাচ টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল টট্টি তখন অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে পরবর্তি ধাপে পৌছে দেন। সেমিতে দেল পিয়েরো শেষ মুহুর্তের গোলটিও ছিল তার এসিস্টে। বার্লিনে ফাইনালের ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টট্টি তার পেশাদারি জীবনের একমাত্র বিশ্বকাপ উচিয়ে ধরে।বিশ্বকাপের পরপরই টট্টি নিজের অবসরের প্রাথমিক ঘোষণা দেন। কিন্তু সেটা পাকাপোক্ত ছিলনা। হয়ত জাতীয় দলে ফিরতেন। কিন্তু ২০০৮ সালের মাঝামাঝি তিনি ঘোষণা দেন যে তিনি আর দলে ছিরছেন না। পরবর্তিতে জাতীয় দলের কোচ চেষ্টা করলেও তাকে ফেরাতে পারেননি।জাতীয় দলের বাইরে টট্টির আরেকটা পরিবার আছে। সেটা রোমা, এএস রোমা। সেখানেই তার ক্লাব ক্যারিয়ার কেটেছে এবং এখনও সেখানেই আছেন। ১৯৯২ সালে যখন টট্টি প্রথম সিনিয়র দলে অভিষিক্ত হন তখন তার পজিসন ছিল এটাকিং মিড। পাশাপাশি সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলতেন। সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেও প্রথম তিন সীজনে তার গোল সংখ্যা ছিল ১৬; সাথে এসিস্ট তো ছিলই। আর সেটার সংখ্যা ছিল গোলের চেয়ে বেশি। এটাকিং মিড হলেও তিনি গোল করতেও সমান পারদর্শিতা দেখালেন। স্ট্রাইকার হিসেবে তার পছন্দের স্টাইলটা ছিল লেফ্ট উইঙ্গ দিয়ে ঢুকে সেন্টারে কাট করে জোড়ালো শটে গোল করা। ম্যাচে টট্টির প্রভাব দেখ তাকে দলের প্রধার খেলোয়াড় হিসেবে নাম্বার টেন জার্সি দেয় হয়। সেই সাথে ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোচ তাকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। কখনও এটাকিং মিড, কখনও নাম্বার টেন, কখনও আবার ফলস-৯। সবক্ষেত্রেই টট্টি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। রোমাকে একটি সিরিএ, ২টি কোপা ইতালিয়া ও ২টি সুপার কোপা ইতালিয়ানা জিতিয়েছেন।টট্টি তার দায়িত্বটা ভালভাবেই পালন করেছেন। কিন্তু তার ক্যারিয়ারে যে সবসময় ভাল সময় পার করেছেন সেটা কিন্ত না। ক্যারিয়ারের প্রথমদিকেই একবার রোমা ছাড়তে চেয়েছিলেন। রোমার চেয়ারম্যান নিজেই তার ট্রান্সফার থামিয়ে দেন। ২০১০ সালের দিকে তাকে কিছু খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবুও আজও তিনি রোমায় আছেন।ক্লাবের প্রতি লয়ালটির দিক থেকে বিবেচনা করলে রোমার ইতিহাসে টট্টির মত অনেক কম জনই হয়ত আছেন। ২৪ বছর ধরে রোমার হয়ে খেলে যাচ্ছেন। দলের প্রয়েজনে নিজেকে বদলে নিয়েছেন। সে তুলনায় হয়ত অর্জনের থলেটাতে ট্রফির সংখ্যার কিছুটা কম। স্প্যানিস বা ইংলিশ কোন জায়ান্টে যোগ দিলে হয়ত নামের পাশে একটা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফি থাকত। সেসব কিছুকে না বলে রয়ে গেছেন নিজের শৈশবের ক্লাবটিতেই। এবং আজও সুুপার সাব হিসেবে থাকা এই মানুষটি সুযোগ পেলেই মাঝমাঠ দাপিয়ে বেড়ান।টট্টির ক্লাব ও জাতীয় দলে অর্জন

ক্লাব
Serie A: 2000–01
Coppa Italia: 2006–07, 2007–08
Supercoppa Italiana: 2001, 2007এছাড়াও সিরিএ তে ৮ বার, কোপা ইতালিয়াতে ৫ বার, সুপারকোপা ইতালিয়ানাতে ৩ বার রানার্স-আপ

জাতীয় দল
UEFA European Under-21 Championship: 1996
Mediterranean Games (Under-23): 1997
FIFA World Cup: 2006ব্যক্তিগত
Guerin d’Oro: 1998, 2004[35] Serie A Young Footballer of the Year: 1999
UEFA Euro 2000 Final: Man of the Match
UEFA Euro 2000: Team of the Tournament
Serie A Footballer of the Year: 2000, 2003
Serie A Italian Footballer of the Year: 2000, 2001, 2003, 2004, 2007
ESM Team of the Year: 2000–01, 2003–04, 2006–07
FIFA 100
Serie A Goal of the Year: 2005, 2006
2006 FIFA World Cup All-Star Team
2006 FIFA World Cup: Assist Leader
Serie A Assist Leader: 1998–99, 2006–07, 2013–14
Serie A Top Scorer: 2006–07
European Golden Shoe: 2006–07
Pallone d’Argento: 2007–08
Golden Foot: 2010
Premio Nazionale Carriera Esemplare “Gaetano Scirea”: 2014
Premio internazionale Giacinto Facchetti: 2014
All-time UEFA European Under-21 Championship dream team: 2015
Ballon d’Or
2000 – 14th
2001 – 5th
2002 – nominated (top 50)
2003 – 18th
2004 – nominated (top 50)
2007 – 10th
FIFA World Player of the Year
2000 – 10th
2001 – 10th
2002 – 14th
World Soccer Award
2000 – 7th
2001 – 4th
2007 – 7th
-Hameem Sharar Juveen

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × four =