পেপের অভাব পূরণে মাদ্রিদের হোমমেইড সল্যুশান – হেসুস ভালেহো

গত মোটামুটি দুই মৌসুম ধরেই রিয়াল মাদ্রিদের সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ঘুরেফিরে চারটি নামই খেলছে। ক্লাবের অধিনায়ক স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস, পর্তুগিজ ডিফেন্ডার পেপে, ফরাসী সেন্টারব্যাক রাফায়েল ভ্যারেন আর স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো ফার্নান্দেজ। বহুদিন ধরেই মাদ্রিদের কোচদের প্রথম পছন্দের সেন্ট্রাল ডিফেন্স জুটি ছিলেন পেপে আর রামোস। কিন্তু আস্তে আস্তে মূল একাদশ থেকে তরুণ রাফায়েল ভ্যারেনের কাছ থেকে জায়গা হারানো শুরু করেন তিনি, গত মৌসুমটা বলতে গেলে পুরোটাই খেলেছেন ভ্যারেনের ব্যাকআও হিসেবে। পর্তুগাল জাতীয় দলের এখনো অবিচ্ছেদ্য অংশ পেপে স্বাভাবিকভাবেই প্রতি সপ্তাহে না খেলে বেঞ্চে বসে থাকা পছন্দ করেননি, সাথে রিয়ালের সাথে তাঁর চুক্তিও আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তাই এই মৌসুমে রিয়ালের সাথে তাঁর চুক্তি শেষ করেই পেপে যোগ দিয়েছেন তুর্কি ক্লাব বেসিকতাসে। তাই মাদ্রিদের ডিফেন্সে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হয়েছে, সেই শূণ্যতা কোচ জিনেদিন ইয়াজিদ জিদান এবার পূরণ করছেন ক্লাবেরই তরুণ আরেক খেলোয়াড় দিয়ে, যে খেলোয়াড় গত দুই মৌসুম রিয়াল জারাগোজা আর আইনট্র্যাখট ফ্র্যাঙ্কফুর্টের মত ক্লাবে ধারে খেলে নিজের জাত চিনিয়েছেন। স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারের নাম হেসুস ভ্যালেহো। ভ্যালেহোকে দিয়েই এবার পেপের অভাব পূরণ করতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ।

গত মৌসুমে ফ্র্যাঙ্কফুর্টের হয়ে খেলার সময় নিজেকে বুন্দেসলিগার অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে প্রমাণ করেছেন ভ্যালেহো। আধুনিক সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের মোটামুটি সকল গুণাবলি থাকা এই ডিফেন্ডার গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের সাথে খেলায় সুপারস্টার উইঙ্গার আরিয়ান রবেনকে নাটমেগ করে হতবাক করে দিয়েছিলেন সেই খেলা দেখা লাখ লাখ দর্শককে। বল পায়ে তাঁর দক্ষতার সাথে তাঁর গতিশীলতা, প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডের বাঁধন ভেঙ্গে মাঝে মাঝেই উপরে উঠে গিয়ে লং রেঞ্জের পাস দেওয়াটা তাঁর নিজের দলের গোলরক্ষক ও অন্যান্য ডিফেন্ডারের কাজটা অনেক সহজ করে দেয়। মাদ্রিদের অন্যান্য ডিফেন্ডার রামোস, নাচো ও ভ্যারেনের তুলনায় ভ্যালেহোর প্রতি ম্যাচে বল ক্লিয়ারেন্সের হার ও ইন্টারসেপশানের পরিমাণ অনেক বেশী। খেলার যে দিকটা তাঁর একটু উন্নয়ন করতে হবে সেটা হল তাঁর ট্যাকল করার মাত্রাটা। এখনো অত ভালো ট্যাকল করতে পারেননা, আবার এটা এক দিন দিয়ে ভালোও, কারণ ট্যাকলের ঘাটতিটা তিনি তাঁর দুর্দান্ত পজিশানিং সেন্স দিয়ে মিটিয়ে দেন। সফল পাস দেওয়ার হারটাও কম একটু রামোস বা ভ্যারেনদের চেয়ে, কিন্তু মাত্র ২০ বছর বয়সী এই রত্নকে ঘষেমেজে জিদান ঠিকই সেসব ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারবেন। তরুণ এই ডিফেন্ডারের একটা বড় গুণ হল তিনি ৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৩-৫-২, ৫-৩-২ যেকোন ফর্মেশানেই মানিয়ে নিতে পারেন। তিন জনের সেন্ট্রাল ডিফেন্স হলে সেক্ষেত্রে তাঁর পজিশানটা হয়ে একেবারে বামদিকে, লেফট সাইডেড সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে।

খামোকা পেপের পরিবর্ত হিসেবে মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড খরচ না করে নিজেদের দল থেকেই এরকম একটা রত্নকে বের করে মূল দলে সুযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য জিদান একটা বাহবা পেতেই পারেন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − nine =