পেপ গার্দিওলাঃ একজন জার্মান সাপোর্টার এর চোখে

  • “পেপ সবাইকে টিকিটাকা খেলায়”
  • “পেপ এর কারণে বায়ার্ন/জার্মানি এর ডিফেন্স খারাপ হয়ে গেছে”
  • “পেপ এর কারণে জার্মানি কাউন্টার  অ্যাটাক ভুলে গিয়েছে”
  •  “পেপ আসলে স্পেন এর এজেন্ট,ও আসছিল জার্মান ফুটবল শেষ করতে”
  •  “পেপ জার্মান ফুটবল ধ্বংস করে গিয়েছে”

গত সিজনের শেষের দিকে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ এর সাথে চুক্তি শেষ হবার পর ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এর ম্যানেজার পদে সম্প্রতি যোগদান করেছেন সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার,”হেক্সা”জয়ী পেপ গার্দিওলা । স্পেনে বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন নিজেকে অন্যতম বিশ্বসেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেও,জার্মানিতে তাঁর সময়টা নিয়ে সবসময়েই দ্বিধাবিভক্তি ছিল । যারা পেপ কে ব্যর্থ বলে মনে করতেন,তাদের পক্ষের যুক্তি গুলোর চেহারা আমি উপরেই দিয়েছি ; এই পয়েন্টগুলো আমার জানার কারণ, আমিও একসময়ে এই দল এ ছিলাম। পক্ষে যারা বলেন, তারা তার সময়ের সেরা সাফল্যের উদাহরণ আনতে গিয়ে ২০১৪ তে জার্মানি এর বিশ্বকাপ বিজয়ের পেছনে পেপ এর বায়ার্ন কোচিং এর ভুমিকা কেই তুলে ধরেন-যেহেতু জার্মানি দলে বায়ার্ন প্লেয়ার এর আধিক্য বেশী এবং সেমিফাইনাল এ ব্রাজিল এর বিপক্ষে বক্সে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে ডিফেন্সকে ছিঁড়ে ফেলা, ২০০৯ এর বার্সেলোনা এর পাসিং এর কথা মনে করিয়ে দেয়। বর্তমানে আমি তাঁর সময়কে ফলপ্রসূ বলার পক্ষে,কিন্তু এই দুই যুক্তির জন্য না ।

পেপ কেন জার্মানি এর জন্য ফলপ্রসূ হয়েছেন,টা খালি চোখে বোঝা যাওয়ার কথা না। এজন্য প্রয়োজন বেশ কিছু বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট এর জার্মানি আগের সাফল্য গুলোর কারণ, সাম্প্রতিক টুর্নামেন্ট গুলোতে ইতালি-স্পেন-ফ্রান্স এর কাছে হেরে শিরোপাস্বপ্ন শেষ হবার নির্ণায়কগুলো জানার।

জার্মানি,আশি এবং নব্বই এর দশকে ,ম্যাচ কে নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলে, এমন দল হিসেবে কখনোই পরিচিত ছিল না। আক্রমণ এর ব্যাপারটা সবসময়েই ছিল, সহজাত প্রতিভার আকালের সময়ে একটু রক্ষণাত্মক খেলাও তারা খেলেছে, ক্লিন্সম্যান ও তার পরবর্তী সময়ে অনেক গতিশীল ফুটবল ও তারা উপহার দিয়েছে । কিন্তু স্পেন বা বার্সেলোনা এর মত ধীরস্থিরভাবে মিডফিল্ড ধরে রেখে সম্পূর্ণ ম্যাচ এ প্রতিপক্ষ কে অসহায় করে খেলাটা তাদের মজ্জায় সহজে আসে নি, গতি ও পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে সাফল্য আনাই ছিল তাদের স্টাইল। কোচ জোয়াকিম লো কে এর মূল্য দিতে হয় দুইটি ইউরো ও একটি বিশ্বকাপ এর সেমিফাইনাল এ, যেখানে জাভি, ইনিয়েস্তা, পিরলো দের সামনে বালাক, শোয়েন্সটাইগার, ক্রুস কে রীতিমত অসহায় লেগেছিল (ইটালি এর সাথে ম্যাচ এ হারার আরেকটি কারণ ভুল হাইলাইন ডিফেন্স, যা নিয়েও পরে লিখা হয়েছে )

২০১৪ এর বিশ্বকাপ এর সময়ে, ব্রাজিল এর তাপমাত্রা, বড় আসরে পিছিয়ে পড়লে ম্যাচ বের করে আনার কষ্ট এবং টেকনিকালি দক্ষ দল গুলোর সাথে মিডফিল্ড যুদ্ধে পেরে উঠার জন্য জোয়াকিম লো বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন জার্মানি এর খেলায়। এই আসরে জার্মানি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার হয়ে উঠেন টনি ক্রুস, সহজাত টেকনিকাল দক্ষতার জন্য। জার্মানি গতিশীল এবং পাল্টা আক্রমণ ভিত্তিক ফুটবল ছেড়ে মিডফিল্ড ধরে রেখে ফুটবল খেলার দিকে ঝুঁকে পড়ে,যার মূলমন্ত্র ছিল- হাই লাইন ডিফেন্স, ডিফেন্স থেকে আক্রমণের শুরু করা, মিডফিল্ড এ বল আদান প্রদান এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষ কে নিস্ক্রিয় করে আক্রমণে চাপ সৃষ্টি করে গোল আদায় করা।

বলা বাহুল্য , এই নতুন ট্যাকটিক্স কতটুকু সফল ছিল । কিন্তু কথা হচ্ছে,জার্মানি এর ট্যাকটিক্স তো ঠিক করেন জোয়াকিম লো এবং তাঁর সাথে হ্যান্স-ডিয়েটর ফ্লিক ও অলিভার বিয়েরহফ ।

তাহলে পেপ এলেন কোথা থেকে ?

জাতীয় দল এর একজন কোচ এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে,তিনি তাঁর খেলোয়াড়দের খুব বেশী সময়ের জন্য একসাথে পান না, তাই নতুন ট্যাকটিকাল ধারণা গুলো ঝালাই করার জন্য সময় কম থাকে। এক্ষেত্রে তাই অনেক সময়ে তাঁদের আশ্রয় নিতে হয় ক্লাব ফুটবল এ প্রতিষ্ঠিত ট্যাকটিক্স গুলোর । এজন্যই একজন রাইনাস মিশেলস কে তাঁর টোটাল ফুটবল এর প্রথম ল্যাবরেটরি হিসেবে আয়াক্স কে বেঁছে নিতে হয়, একজন আরিগো সাচ্চি তাঁর এসি মিলান দল এর ডিফেন্সিভ ব্লুপ্রিন্ট কেই ইতালি দল এ কপি করেন, একজন হেলেনিও হেরেরা এর “ক্যাটানেচ্চিও” ইন্টার মিলান থেকে ধীরে ধীরে ইটালি দল এর ট্রেডমার্ক এ রূপ নিতে দেখা যায়,একজন রিয়াল মাদ্রিদ লিজেন্ড ভিসেন্টে ডেল বস্কে কে স্পেন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা এর পাসিং ফুটবল এর ছককে জাতীয় দল এ প্রয়োগ করতে দেখা যায়। জার্মান ক্রীড়ালেখক রাফায়েল হনেংস্টেইন তাঁর “দাস রিবুট ” বই তে জোয়াকিম লো কে এক্ষেত্রে বায়ার্ন এর লুই ফন গাল ও পেপ গার্দিওলা এর শরনাপন্ন হবার কথা জানিয়েছেন। তবে জাতীয় দল এর ট্যাকটিক্স এর পিছনে পেপ এর ভুমিকা আলোচনা করতে গিয়ে আমি ২০১৪ এর সাফল্য না,২০১৬ ইউরো এর জার্মানি এর খেলাকেই বিশ্লেষণ করব-কারণ টুর্নামেন্ট এ জার্মানি সফল না হলেও, যেটুকু তারা আসতে পেরেছে- তার অনেক কিছুই পেপ এর ট্যাকটিক্স ও গেমপ্ল্যান এর জার্মান দল এ প্রয়োগ করার ফলে। অর্থাৎ অর্জনের দিক দিয়ে জার্মানি ইউরো ২০১৬ তে কিছুটা ব্যর্থ হলেও, ট্যাকটিক্স এর দিকে দিয়ে অনেকখানি সফল এবং এর পিছনে পেপ এর ভুমিকা আছে।

পেপ এর বায়ার্ন এ প্রথম সিজন এর বর্ষলিপি নিয়ে লিখা মার্তি পেরানাউ এর “পেপ কনফিডেনশিয়াল” বই এর শরণাপন্ন হব এক্ষেত্রে আমরা, দলগত এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে জার্মান দল এর উন্নতিতে পেপ এর ভুমিকা নিয়ে ।

দলগতভাবেঃ

বই টিতে পেপ জার্মান ফুটবলে তাঁর ৬টি ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন বলে বলা হয়েছে ,যার আলোকে এই বিশ্লেষণ টি করা হল –

  • THE DEFENSIVE LINE

পেপ বায়ার্ন এ তার হাই লাইন ডিফেন্স কে সাজিয়েছিলেন গোলপোস্ট থেকে প্রায় ৪৫ মিটার সামনে । জাতীয় দল এ হাইলাইন ডিফেন্স এর প্রথম ধারণা টা আসে ২০১২ ইউরো তে (তখনো পেপ আসেন নি) ,কিন্তু ইটালি এবং গ্রীস এর বিপক্ষে এই হাইলাইন ডিফেন্স এর ভুল উন্মোচিত হয়ে পড়ে। ২০১৪ এ প্রথম হাইলাইন ডিফেন্স এ সাফল্য আসে এবং ইউরো ‘১৬ তে এই ডিফেন্সিভ লাইন কে একদম মধ্যরেখায় উঠে আসতে দেখা যায়,যার ফলে প্রতিপক্ষ চাপে পড়ে যায়- ইউক্রেন,ইটালি, ফ্রান্স( প্রথমার্ধের ১০- ৪৫ মিনিট পর্যন্ত )

  • PLAYING AND MOVING FORWARD FROM THE BACK, IN TOTAL UNISON 

“The team has got this: it’s a journey they must take together. How they play out from the back is of absolute importance to how things then develop in the attacking phase ”

ইটালি এর বিপক্ষের ম্যাচ টি জার্মানি এর জন্য সবচেয়ে “Tricky ” ছিল আমার মতে। কারন ইটালি এমন এক ছকে খেলে, যা ইউরোপে বর্তমানে দুর্লভ, ৩-৫-২-একে কাউনটার করাও কষ্ট । বুফন ও বিবিসি (বারজাগলি, বনুচ্চি, কিয়েল্লিনি) এর দূর্ভেদ্য প্রাচীর এর সাথে দুই পরিশ্রমী উইংব্যাক কে জার্মানি কিভাবে মোকাবেলা করতে পারে ,সেই চিন্তা থেকেই লো তিনজন সেন্টার ব্যাক দিয়ে ডিফেন্সিভ লাইন সাজান (হামেলস,বোয়াতেং,হুভেডেস) ,যারা প্রত্যকেই বল পায়ে দক্ষ। এই ম্যাচ এ আমরা জার্মানি কে সব আক্রমণই বোয়াতেং ও হামেলস এর মাধ্যমে সূচনা করতে দেখি,এমনকি জার্মানি এর একমাত্র গোল টিও আসে ব্যাকলাইনে থাকা নিউয়ার এর লম্বা বল থেকে।

“Pep Confidential ” এই ব্যপারে বলা হয়েছে,

“To make a notable difference in this Pep opts to have Lahm drop back in between the two centre-halves in order to gain the powerful, daring playing out from the back which is modelled on that of the Argentinian coach Ricardo La Volpe.
‘Playing out with three men from the back is very useful because it conditions the response of your rival. Even if they press you, it’ll be with the centre-forward and second striker, obliging them to move into a 4-4-2 shape and you can therefore over-run them by achieving superiority.”

  • ORDER IN THE PLAY

এই ধারণার মূল কথা হল,ডিফেন্স থেকে এটাকিং থার্ড পর্যন্ত, পাসিং সিকোয়েন্স ঠিক রাখা। জার্মান দল এ আমরা এবার বোয়াতেং, হামেলস এর লং বল উইং এ রিসিভ করা, উইং থেকে ক্রুস এর পায়ে বল দেওয়া, এবং ক্রুস এর আবার অন্য উইং এ বল সুইচ করার প্রবণতা লক্ষ্য করেছি। এই প্রবণতার লক্ষ্য ছিল একদিকে অসম চাপ সৃষ্টি করে আরেক উইং এ জোশুয়া কিমিচ বা জোনাস হেক্টরের কাছে বল পাঠিয়ে দেওয়া,যাতে তারা বক্স এ ক্রস করতে পারেন বা আরেকজন মিডফিল্ডার কে ফরোয়ার্ড পাস দিতে পারেন। জার্মানি এর অধিকাংশ আক্রমণ ও সুযোগের সৃষ্টি এবার এভাবেই হয়েছে।

  • SUPERIORITY IN MIDFIELD 

এটি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। টনি ক্রুস এর পাসিং স্ট্যাট দ্রষ্টব্য ( অনলাইনেই পাওয়া যাবে)

  • FALSE ATTACKING MIDFIELDERS

আবারো “Pep Confidential ” থেকে কিছু কথাঃ
“This is the big tactical innovation within Pep’s first season. Given the powerful wing play of Robben and Ribéry and also the need to immediately cut off the counter-attacks of opponents high up the pitch, Pep has decided to position his full-backs almost as old-fashioned inside-forwards, right alongside the other attacking midfielders, high up the pitch.
……
He plays with daring and opponents don’t get the ball off him. The two full-backs are to join up with the two creative midfielders to make a cluster of four attacking players, but also the first line of defence to put the brakes on an opposition counter-attack should Bayern lose the ball.
……
The 3-4-2-1 is now installed, flexible and intelligent, with the positioning of the two full-backs in line with the two attacking midfielders. These false attacking midfielders (the full-backs) are without doubt the biggest tactical advance of his first season at Bayern. The all-out war against tiquitaca – shuffling the ball about in meaningless possession – is also established.”
৩-৪-২-১ ,সেই ফর্মেশন, যা দেখে অনেক ফুটবল বোদ্ধা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন , জোয়াকিম লো এর এই পদক্ষেপ কী দূ;সাহস না বোকামি ,সেই বিষয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিলেন অনেক জার্মান ফ্যান। আসল খেলাতে জার্মানি এর আক্রমন এ প্রথমটির পক্ষেই সায় দেয়। ইটালি এর কাউন্টার এটাক নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয় এভাবে অনেকটাই, বার দুয়েক উইংব্যাক জশুয়া কিমিচ বিপদে পড়লেও হুভেডেস-বোয়াতেং এর ইন্টারসেপশনে সেটা দূর হয়ে যায়। ইটালি এর অর্ধেকের বেশী আক্রমণ তাদের নিজেদের অর্ধেই নস্যাৎ করে দেয়া হয় ২ উইংব্যাক ও ২ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার এর সমন্বয়ে , প্রথাগত উইংগার ড্র্যাক্সলার কে না নামিয়েও উইংপ্লে বজায় রাখা সম্ভব হয় কিমিচ ও হেক্টর এর এডভান্সড পজিশন এর কারণে। একমাত্র গোলটিও আসে হেক্টর এর ওভারল্যাপ ও ক্রস থেকেই।

  • PLAYING WITHOUT THE FALSE 9 

ইউরো ‘১৬ এর প্রথম দুই ম্যাচ এ মারিও গোতজে কে সেন্টার ফরোয়ার্ড বা ফলস নাইন এ খেলিয়েও কোন আশানরূপ ফল না আসায় জোয়াকিম লো ফলস নাইন এর জায়গায় প্রথাগত সেন্টার ফরোয়ার্ড মারিও গোমেজ কে নিয়ে আসেন। ফল যা দাঁড়ায় তা হলঃ

  1. গোমেজ আসার আগে জার্মানি এর দুইটা গোলই আসে সেন্টার ব্যাক ও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থেকে
  2. গোমেজ আসার পড়ে জার্মানি ৫ টি গোল করে
  3. গোমেজ ইঞ্জুরিতে পড়ার পর জার্মানি ওপেন প্লে থেকে আর কোন গোল করতে পারেনি

 

ব্যক্তিগতভাবে :

জার্মানি এর এই টুর্নামেন্ট এর ব্যক্তিগত পর্যায়ের সাফল্যগুলোর মধ্যে দুইটি হচ্ছে, এক নতুন রূপের জেরোম বোয়াতেং এবং ফিলিপ লাম এর সম্ভাব্য যোগ্য উত্তরসুরী জশুয়া কিমিচ। জশুয়া কিমিচকে বায়ার্ন এর প্রথম একাদশ এ ,নিয়মিত ডিফেন্ডারদের ইঞ্জুরীজনিত অনুপস্থিতিতে, জায়গা দেন পেপ গার্দিওলা। জুভেন্টাস এর বিপক্ষে ইউসিএল এ উভয় গোলই তার ভুলে হলেও, এই তরুণ ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেন এবং বায়ার্ন-ডর্ট্মুন্ড এর দুইটি ম্যাচ (লীগ + ডিএফবি পোকাল ফাইনাল ) এ মার্কো রয়েস-হেনরিক মাখিতারিয়ানদের নিস্ক্রিয় করে দিয়ে তার প্রতি পেপ এর বিশ্বাসের প্রতিদান দেন। এই বিশ্বাস লো এর মধ্যেও আসে, তাই জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এই প্রথম সুযোগ পাওয়া থেকে শুরু করে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত জার্মানি এর রাইট উইংব্যাক পজিশন এ খেলে যান কিমিচ। যদিও শেষ ম্যাচ এ ফ্রান্স এর দ্বিতীয় গোল এর আক্রমণের সূচনা তার ভুল থেকেই হয়,তারপরেও নিশ্চিন্তে বলা যায়,এই কিমিচের মধ্যেই জার্মানি তার পরবর্তী ফিলিপ লাম কে খুঁজে নিতে পারে।

31E6054700000578-0-image-m-15_1457218407110
জেরোম বোয়াতেং এর খেলাও অনেককে অবাক করেছে এবার। জার্মান দল এর আনসাং হিরো হিসেবে তিনি পরিচিত ২০১৪ এর ফাইনাল থেকেই। কিন্তু এবার যেন আমরা অন্য বোয়াতেংকে দেখলাম,ইউক্রেন ম্যাচ থেকেই। প্রায় ডিপ লাইং প্লেমেকার এর জায়গা থেকে আক্রমণ এর সূচনা করা, হাইলাইন ডিফেন্স এ নিজের গতি,মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে ৪টি ক্লিনশিট রাখা এবং সর্বোপরি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল পাওয়া ,ইউক্রেন এর বিরুদ্ধে গোল লাইন ক্লিয়ারেন্স-তাকে অধিষ্ঠিত করেছে টুর্নামেন্ট এর একজন সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে। এই খেলোয়াড়টির পিছনেও অবদান রয়েছে পেপ এর,
“””He is enthused by what he has discovered: Boateng is totally self-taught. The young German defender has been explaining that no one has ever shown him how to defend. In fact, Boateng confesses that he did not even know that the defensive line could be organised. He thought that every player defended instinctively.Pep therefore spends a few minutes every day going over the fundamental principles of defensive organisation with him. Until the end of the season, Guardiola and Boateng will go over the set moves many times. This training process will continue for the next 10 months, through all the defender’s ups and downs, because the coach is convinced that this is a player of real potential”

jeromeboateng-cropped_13imtwmlgogsk1m7uxic9v6idi

পেপ সবজান্তা নন,তার ও ভুল হয়। তিনিও বায়ার্ন কে ইউসিওএল জেতাতে পারেন না অন্যতম শক্তিশালী দল নিয়েও, পরপর তিনবার নিজ দেশের তিনটি ক্লাব এর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাকে। সিনিয়ার প্লেয়ার দের কথা শুনে রিয়াল মাদ্রিদ এর বিপক্ষে হোম ম্যাচ এ ৪-২-৪ এর মত ফর্মেশন এ ৪ গোল এর ব্যুমেরাং তার কাছে ফিরে আসে ” My worst ever f*** আপ ” হিসেবে । কিন্তু প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে ,প্রতিটি সম্ভাবনাকে চুলচেরা বিশ্লেষণ, প্রতিপক্ষ অনুযায়ী ফর্মেশন সাজানো- তার এই ধারণা গুলো বায়ার্ন থেকে ছড়িয়ে পড়ে জার্মানি দলেও নিয়ে এসেছে “Tactical flexibility” – তাই জোয়াকিম লো ইটালি এর বিপক্ষে ৩ -৪-২-১ খেলার, জশুয়া কিমিচকে রাইট উইঙ্গব্যক হিসেবে খেলানোর এবং হাই লাইন ডিফেন্স সাজানোর প্রথম স্টেপ টি নিতে সাহস পান।

অন্তত আমি তাঁকে জার্মান ফুটবল এ মিস করব ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen − 6 =