পাওলিনহোকে কি আসলেই দরকার ছিল বার্সার?

এবারের দলবদলের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক খবর অবশ্যই নেইমারের বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে যোগ দেওয়া। কারোর মাথায় ঘুণাক্ষরেও আসেনি যে নেইমারকে ১৯৮ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে পিএসজি নিতে যেতে পারে। কিন্তু সেই অস্বাভাবিক ঘটনাটাই সত্যি হয়েছে। এই দলবদলটা ছাড়াও দ্বিতীয় যে আশ্চর্যজনক দলবদলটা ঘটছে সেখনেও যুক্ত আছে বার্সেলোনার নাম, তবে এখানে বার্সেলোনা থেকে খেলোয়াড় ছেড়ে যাচ্ছেননা অন্য কোন ক্লাবে, বরং অন্য ক্লাব থেকেই বার্সেলোনাতে খেলোয়াড় আসছেন, যার আসার কথা দুনিয়াজোড়া কোন বার্সা সমর্থকেরা কল্পনাতেও আনতে পারেননি, চানও নি বোধহয়।

চাইনিজ ক্লাব গুয়াংঝু এভারগ্রান্ডে থেকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোর বাইআউট ক্লজ দিয়ে ব্রাজিলিয়ান সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার পাওলিনহোকে নিজেদের ক্লাবে ভিড়িয়েছে বার্সেলোনা। নতুন খেলোয়াড়ের বাই-ব্যাক ক্লজ ধরেছে তারা ১২০ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ সামনের মৌসুম থেকে কেউ পাওলিনহোকে চাইলে আগ্রহী ক্লাবকে তাঁর জন্য এই অর্থ প্রদান করতে হবে।

২০১৩ সালে ব্রাজিলের হয়ে দুর্দান্ত এক কনফেডারেশানস কাপ কাটানোর পরে মূলত বিশ্বাব্যাপী ফুটবলানুরাগীদের নজরে আসেন পাওলিনহো। সেবার কনফেডারেশানস কাপ জেতে ব্রাজিল। কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারির অধীনে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে ব্রাজিলের অন্যতম মেশিন ছিলেন এই মিডফিল্ডার। একজন আদর্শ বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডারের মত মাঝমাঠে তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতি তাঁকে এনে দিয়েছিল টুর্নামেন্টের ব্রোঞ্জ বল। কনফেডারেশানস কাপের আগে নিজের ক্লাব করিন্থিয়ানসের হয়ে ইংলিশ ক্লাব চেলসিকে ক্লাব বিশ্বকাপে হারাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। এসব কারণেই তখন ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার তাঁকে দলে নিয়ে আসতে আগ্রহী হয়। ইন্টার মিলান, চেলসির মত ক্লাবগুলো তাঁর উপর আগ্রহী থাকলেও শেষমেষ ১৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে টটেনহ্যামেই নাম লেখান তিনি। কিন্তু টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার পরেই দ্রুতগতির ইংলিশ লিগে খাপ খাওয়ানোটা তাঁর জন্য সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফুটে ওঠে তাঁর ট্যাকটিক্যাল দৈন্য। কোচ আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াসের অধীনে নিয়মিত দলে জায়গা পেলেও পরে আস্তে আস্তে তাঁর ঠিকানা হয়ে যাত বেঞ্চ। ফলাফল, কোচ টিম শেরউড কিংবা মরিসিও পচেত্তিনো দুইজনই পাওলিনহোর জায়গায় রায়ান মেইসন, নাবিল বেনতালেব, মুসা ডেম্বেলে এদেরকে খেলাতে বেশী আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ফলে ২০১৫ সালেই টটেনহ্যাম ছেড়ে পাওলিনহোর জায়গা হয় চীনে, গুয়াংঝু এভারগ্রান্ডেতে। সাবেক গুরু লুইস ফেলিপে স্কলারির অধীনে নিজেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল চাইনিজ লিগে মেলে ধরেন পাওলিনহো। এ বছরের শুরুতে উরুগুয়ের সাথে এক ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে হ্যাটট্রিক করে জানিয়েও দিয়েছেন, ফুরিয়ে যাননি তিনি।

পাওলিনহোর খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হল অনেক প্রাণশক্তিতে ভরপুর তিনি, প্রচণ্ড পরিশ্রমী – ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বলতে চোখে যেরকম ছবি ভেসে ওঠে, সেরকম বল পায়ে অত বেশী কারিকুরি করা টেকনিক্যাল মেধাসম্পন্ন খেলোয়াড় তিনি নন। এবং এ জায়গাতেই পাওলিনহোর বার্সেলোনায় আসাত আশ্চর্যজনক ঠেকছে, এ জায়গাতেই বিশ্বব্যাপী বার্সা সমর্থকেরা এই ট্রান্সফারে অতটা খুশি নন, বিশেষত নেইমারের দল থেকে চলে যাওয়ার পর ত আরই না। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সার মিডফিল্ডার যারাই ছিলেন, সেই গার্দিওলা লাউড্রপ থেকে শুরু করে এখন জাভি-ইনিয়েস্তা-বুসকেটস-থিয়াগো ; সবাই-ই ট্যাকটিক্যালি অত্যন্ত চতুর খেলোয়াড়। বার্সার দর্শনে শুধুই নব্বই মিনিট টানা দৌড়াতে পারা খেলোয়াড়দের জায়গা নেই। কিন্তু নতুন কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে এই পাওলিনহোকেই নিয়ে আসছেন, তারমানে অবশ্যই বার্সেলোনার খেলার স্টাইলে পরিবর্তন সামনে আমরা লক্ষ্য করব।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fourteen − 6 =