আবারও বিধ্বস্ত পাকিস্তান

৪-১ !

ঘুম থেকে উঠে স্কোরবোর্ডের এমন চেহারা দেখলে আপনার অবাক হবার কিছুই নেই । ৪ রানে ১ উইকেট তো ক্রিকেটে অহরহই হয় । কিন্তু বড় স্কোরবোর্ড দেখে আপনি যদি দেখেন ১ রানে ৪ উইকেট , ভড়কে আপনাকে যেতেই হবে । জেরোমে টেলরের গতি ইনিংসের প্রথম থেকেই দিশেহারা করে রাখল পাকিস্তানকে । তাতে ১ রান তুলতেই হাওয়া নাসির জামশেদ, ইউনিস খান , আহমেদ শেহজাদ আর হারিস সোহেল । নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের সাথে মাথা নিচু করা পরাজয়ের পরে পাকিস্তানের শুরুটা আজ ক্যারিবীয়দের সাথেও এমন ভূতুড়েই ছিলো । ভূতুড়ে খুব সম্ভবত সবচাইতে ভালো শব্দ নয় । তার চাইতে লজ্জাজনক বলাটা খুব সম্ভবত পাকিস্তানের ব্যাটিং এর বর্তমান অবস্থার সাথে সবচাইতে ভালো যায় ।

ব্যাটিং এ শুরুর ধাক্কাটা আর সামাল দিতে পারে নি পাকিস্তান
ব্যাটিং এ শুরুর ধাক্কাটা আর সামাল দিতে পারে নি পাকিস্তান

শুরুটা অমন হলে আর যাই হোক প্রতিপক্ষের দেওয়া ৩১১ রানের পাহাড় ছোঁয়াতো আর সম্ভব নয় । পারলও না পাকিস্তান । আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানকে বড্ড প্রেডিক্টেবল করার বাকি কাজটা সারলেন আন্দ্রে রাসেল, জেসন হোল্ডার আর সুলিমান বেন মিলে ।

৪-১ এর পরে ৫-২৫ !

তারপরে উমর আকমল আর শোহেব মকসুদের ৮০ রানের জুটি । তাতে পাকিস্তানের দলীয় স্কোর বোধহয় শতরান পেরোলো । ১৩৯ রানে ৭ম উইকেট হিসেবে উমর আকমল আউট হবার পরে ১৬০ ছুঁতেই পাকিস্তান হারালো বাকি উইকেট গুলো ।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা যেন করে আয়ারল্যান্ড ম্যাচে নিজেদের দুর্দশার কথা মনে করিয়ে দিতেই ! আবারও ব্যর্থ ক্রিস গেইল , আর তার দেখানো পথেই হাঁটেন ওপেনার ডোয়েন স্মিথ । সোহেল খান আর মোহাম্মদ ইরফানের আঘাতে নেই দুই ক্যালিপ্সো ওপেনার । ড্যারেন ব্রাভো আর মার্লন স্যামুয়েলসের প্রতিরোধে স্কোরবোর্ড ফেরে ভদ্রস্থ চেহারায় । ইনিংসের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় স্যামুয়েলস আউট হয়ে গেলেও নিজের ছাঁচ পাল্টে মারকুটে ভূমিকায় অবতীর্ণ দিনেশ রামদিন । ৪৩ বলে ৫১ রানের ইনিংসটা একটু হলেও বেমানান রামদিনের নামের পাশে , তাও আবার মাঝের ওভারগুলোয় । আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লেন্ডল সিমন্স ততক্ষণে এসে গেছেন । তবে পাকিস্তানকে ভড়কে দেবার মত গতিতা রানটা উঠছিলো না ক্যারিবীয়দের ।

ইনিংস শেষের ঠিক ১০ ওভার আগে দিনেশ রামদিন যখন আউট হয়ে যান , তখনো স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে ১৯৪ রান ৪ উইকেটে ।

কিন্তু কেন তাদের দলটাকে টি২০ স্পেশালিস্ট বলা হয় , তা ক্যারিবীয়রা দেখিয়ে দিল শেষ ১০ ওভারের বুনো ব্যাটিং এ ।  পোলার্ড ব্রাভো, স্যামি, রাসেল- এমন এমন পাওয়ার হিটার যাদের তাদের স্লগ ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা কী ? প্রথম দুইজনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না থাকার অভাবটা না বুঝতে দেবার কাজটা নিলেন আন্দ্রে রাসেল । শুধু বাহারি চুলের ছাঁট দিয়েই বিশ্বকাপটা যে তিনি শেষ করতে চান না , তা নেমেই বুঝিয়ে দিতে থাকলেন আন্দ্রে রাসেল । ৩ টি চার আর ৪ টি ছক্কায় রাসেলের একাউন্টে ১৩ বলে ৪২ রানের হার না মানা ইনিংস । তাতেই বাজে সূচনার পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১০-৬ !

10994067_795426830538233_619317578270408721_n

তারপরে পাকিস্তানের ইনিংসের গল্পটা এতোই রোমাঞ্চকর হাইলাইটসের মত ছিলো , তা শুরুতে না বলার লোভটা সামলাতে পারলাম না । অমন ব্যাটিং এর পরে ৮ ওভারে ৩৩ রানের খরচায় ৩ উইকেট নেওয়ায় ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের নাম নিয়ে  খুব একটা রোমাঞ্চ বোধহয় কখনোই ছিলো না !

10006966_795427033871546_2220955883522630718_n
“জেসন হোল্ডারের জন্য আমার মায়া হচ্ছে , এত কম বয়সে অধিনায়ক হয়ে সিনিয়রদের সম্মান পাওয়াটা কঠিন !” ম্যাচের আগে এমনই বলেন পাক কিংবদন্তী বাঁহাতি পেসার ওয়াসিম আকরাম । হোল্ডারের প্রতি কি ওয়াসিমের মায়াটা এখনো আছে ?

লিখেছেন – আসাদুজ্জামান হিমু

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 5 =