সাকিবের পাশে দাঁড়াই, আসুন!

সাকিবের পাশে দাঁড়াই, আসুন!

উত্তপ্ত কলম্বোয় গতকাল ঝামেলার সূত্রপাত আম্পায়ারদের হাত ধরেই । মোস্তাফিজের রান আউটের ডেলিভারিটি স্কোয়ার লেগ আম্পায়ার নো বল কল করে । কিন্তু পরমুহুর্তেই দুই আম্পায়ার মিলে তা বদলে ফেলে । ব্যাপারটি চোখ এড়ায়নি সাকিবের । অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের যা করার সে তাই করেছে । আরেকটি নো বল কেলেঙ্কারির নীরব সাক্ষী হতে চায়নি সাকিব এবং ডাগ আউটে থাকা তার সতীর্থরা । নো বল না দেওয়ার চেয়ে নো বল কল ফেরত নেওয়াটাই তাতিয়ে দিয়েছিল সাকিবদের । ওদিকে তখন আরেক মঞ্চ নাটক । মোস্তাফিজের আউটের পর রিয়াদের জন্য পানি আর টাওয়েল নিয়ে মাঠে ঢুকলেন সোহান । রিয়াদ আম্পায়ারের সাথে বোঝাপড়া করতে গেলে মোটামুটি নাক গলায় থিসারা পেরেরা ও আরেক লংকান খেলোয়ার । রিয়াদকে পেয়ে বসতে চাইছিল যেন তারা । ব্যাপারটি বোধহয় হজম হয়নি কাছের দর্শক সোহানের । বিতণ্ডায় তাই জড়িয়েই যায় সে । ডাগ আউটে ফেরার সময় আঙ্গুল তুলে পেরেরাকে কি বলে শাসিয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি । এরপর সাকিব যখন কল আপ বা ওয়াক আউট করতে বলে তখন রিয়াদ-রুবেলরা বেশ বুদ্ধিমত্তারই পরিচয় দেয় । মাঠও ছাড়েনি, আবার ক্রিজেও দাঁড়ায়নি । শেষতক ম্যাচ রেফারি আর রাসেল আর্নল্ড নিচে নেমে এসে সাকিবকে শান্ত করে । সাকিব অবশ্য শান্ত যে হয়নি সেটা তার অমন গজগজ করে ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়াতেই বোঝা গিয়েছিল । সাকিবের প্রতিবাদটিকে অখেলোয়াড়সূলভ আচরণ বলাটা ভন্ড পীর টাইপ মানসিকতা । এর আগেও এমন ওয়াক আউট নাটক হয়েছে । আমাদের এশিয়ারই দুই কিংবদন্তি তাদের ফিল্ডার আবার ব্যাটসম্যান নিয়ে উঠেই গিয়েছিলেন । তখন সেটা অন্যায়ের প্রতিবাদ হলে সাকিবের টা কেন দোষে দুষ্টপাত? বরঞ্চ সাকিব তো শেষ পর্যন্ত খেলোয়ার উঠিয়ে নেয়নি । ড্রেসিংরুমে ক্যামেরায় অশ্লীল ইংগিত, ঘরোয়া লীগে আম্পায়ার কে গালি দেওয়ায় সাকিবের সমালোচনা করা যেতেই পারে । সে নিয়ে সমালোচনা, শাস্তি সবই হয়েছে তার । সেদিন যখন তার অন্যায়কে অন্যায় বলে শাস্তিতে মত দিয়েছি তবে গতকাল কেন তার এমন ন্যয় প্রতিবাদে তার গলা কাটছি? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, হিপোক্রেট এসব কি তবে আমাদের জন্যই উদ্ভাবিত হয়েছিল? সাকিব, সোহান কিংবা আমরা সীমার মধ্যেই ছিলাম । আমাদের বিতণ্ডা ঐ মাঠেই ছিল । সেজন্যই পেশাদারিত্ব দেখিয়ে সাকিব পুরষ্কার বিতরণীতে এসে লাজুক কন্ঠে বললো অধিনায়ক হিসেবে হয়ত বাড়াবাড়িই করে ফেলেছেন তিনি । শ্রীলংকা আমাদের বন্ধু, আশাকরি ফাইনালে লংকান সমর্থকরা মাঠে এসে আমাদের সমর্থন যোগাবেন । ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মলেনেও তার কন্ঠে একই সুর ছিল । সাকিবের এই সরল কথাগুলি স্বাগতিক সমর্থকদের মন গলাতে পারবে কিনা জানিনা । কারণ ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে এসে তারা ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া বলে চিয়ার আপ করে গিয়েছিল সেদিনই । কাল রিয়াদ, সাকিবদের অমন স্তব্ধ করে দেওয়া পারফর্মেন্স, জার্সি খুলে ক্রিকেটের রোনালদো বনে যাওয়া, মাঠে গোটা টিমের নাগিন উদযাপন নাও হজম করতে পারে ভারত মহাসাগর পাড়ীরা । তবে কিছু ব্যাপার আমাদের বদ হজম করে টাট্টিখানায় ফেলে দিয়ে আসতে হবে- সেটা হলো হিপোক্রেসী, ডাবল স্ট্যান্ডার্ডগিরী । দিনের শুরু কিংবা শেষে সাকিব আমাদেরই স্বজন । আমাদের পতাকা আর তার রঙ্গের জার্সি গায়ে সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে । এই অধিকারে তার ভুলে যদি তাকে ভৎসনা করতে পারি তবে তার অবদান অস্বীকার কেন করবো? কেন তার ন্যয় প্রতিবাদে তার পাশে না দাঁড়িয়ে অতি সুশীল সমাজের ভেঁক ধরবো? কাল হারলেও সাকিবের ঐ গাটসের কথা ভেবে সান্ত্বনা খুঁজে নিতাম । আর যাইহোক, এখন থেকে নো বল কেলেঙ্কারিগুলো যে আর সহজে হজম করবেনা বাংলাদেশ তা দেশের এক সাহসী প্রতিনিধি বুঝিয়ে দিয়ে দিলো ।

জয়তু বাংলাদেশ ক্রিকেট!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × five =