ওয়ান লাস্ট ম্যাচঃ ফেয়ারওয়েল টু হলি ট্রিনিটি

আমার জন্য জন্মের আগের থেকে এই মানুষটা বার্সায় খেলে। ম্যারাডোনার রূপকথা শুনে আমার শৈশব কেটেছে। ফুটবল খেলা যখন দেখা শুরু করি তখন চোখের সামনে গাউচো, রিকুয়েলমে, বাতিস্তুতা, ক্রেসপোরা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন “আমার নিজের ফুটবল মাঠ” এ! সুন্দর ফুটবলের জন্য স্পেনিয়ার্ডদের ভালো লাগত আলবিসেলেস্তেদের পর পরই। তবে সেখানেও সবচেয়ে বড় যে নামটা আমার চোখে লেগে আছে সে নামটা জাভির নয়, সে নামটা হল কার্লোস পুয়েল। কারণ পুয়েল ছিলেন ক্যারেক্টার। সূর্যের মত দীপ্তি ছড়ানোই পুয়েলদের বৈশিষ্ট্য। সে হিসেবে জাভিকে কেউ তেমন লক্ষ্য করত না। জাভিদের নেচারই এমন। পর্দার আড়ালে থেকে পুরা স্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা। তাকে স্টেজে দেখা যায় না, কিন্তু সে-ই শোয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। হি ইজ দ্য মাস্টার অভ পাপেট।

জাভিকে আমরা কিউলসরা আদর করে ডাকতাম “দ্য ব্রেইন”! কারণ মেসি ফুটবল খেলে হার্ট দিয়ে। মেসি ফুটবল ছাড়া আর কিছু বুঝে না। ইনিয়েস্তা ফুটবল খেলে অন্য জগতে থেকে। এই জন্য তাকে ইল্যুসনিস্তা ডাকা হয়। কিন্তু জাভি? পৃথিবীতে খুব কম সংখ্যক প্লেয়ার আছে যারা জাভির মত খেলাটা রিড করতে পারে। না আমি মেসি-ম্যারাডোনার মত অতিমানবীয় পজিশনিং সেন্সের কথা বলছি না। আমি বলছি না ম্যাচের ফ্লো এর বিরুদ্ধে হঠাৎ কিছু করে ফেলার কথা। আমি বলছি ম্যাচের চলমান ফ্লোকে রিড করার কথা। আস্তে আস্তে পাসের পর পাস দিয়ে ম্যাচের সিচুয়েশন চেঞ্জ করে ফেলার কথা। আমি বলছি একটা পাস দেয়ার আগে পরবর্তী ৫ টা পাস রিড করার কথা। এই যান্ত্রিক সৌন্দর্য  জাভিই দেখিয়েছে বার বার।

একসময় আমরা জাভিকে মারিও পুজোর গডফাদার এর সাথে তুলনা করতাম। গডফাদারের সেই বিখ্যাত ডায়লগ কিছুটা চেঞ্জ করে আমরা বলতাম, আই উইল গিভ ইউ আ পাস এন্ড ইউ কান্ট রিফিউজ ইট! কথা কিন্তু একদম অতিরঞ্জিত ছিল না। জাভি পাস দিলে সে পাস কমপ্লিট হয় নাই এরকম খুব কম সময়ে হয়েছে। আজকে সেই জাভি বার্সা জার্সিতে তার শেষ ম্যাচটা খেলতে যাচ্ছে। আরো আবেগের কথা হল আজকেই সারা পৃথিবী জাভি-ইনিয়েস্তা-মেসি ট্রায়ো কে শেষ বারের মত খেলতে দেখবে। আজকের পর “হলি ট্রিনিটি” আর এক সাথে সুবজ ক্যানভাসে ছবি আঁকবে না! ব্যাপারটা যে কোন কিউলসকে আবেগ তাড়িত করবেই।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

7 + 13 =