প্রসঙ্গ : ৩ নং ব্যাটসম্যান

ঐতিহাসিক জয়ের আতিশয্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমানে প্রকটতম সমস্যাটির দিকে ফোকাস করতে চাই।

চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাকি ৭ দলের ৩ নং ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ, জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, ফাফ ডু প্লেসি, ভিরাট কোহলি, কুশল মেন্ডিস ও বাবর আজম।

কী মিল রয়েছে এই ৭ জনের মধ্যে? মোটা দাগে পরিষ্কার যে এরা স্ব স্ব দলের সেরা ইনফর্ম ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে এই পজিশনে খেলিয়েছে ইমরুল কায়েসকে ২ বার- যে মুলতঃ একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান। আর গতকাল নামালো সাব্বির রহমানকে- গণমাধ্যমের ভাষায় যিনি বর্তমান বাংলাদেশের ‘সাহসী ব্যাটিং এর প্রতীক’।

আমি খেলাটা খুব ভালো হয়তো বুঝি না, তবে এতটুকু নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে কোন ফরম্যাটের ক্রিকেটে ৩ নং পজিশনে ব্যাটিং করেন দলের টেকনিক্যালি বেস্ট ব্যাটসম্যান।

প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যালি বেস্ট ব্যাটসম্যান কি কোনভাবে ইমরুল কায়েস কিংবা সাব্বির রহমান? দেখে ও শুনে যতদূর মনে হয় মুশফিকুর রহিম বর্তমান দলের সবচেয়ে টেকনিক্যাল ত্রুটিহীন ব্যাটসম্যান।

ওয়ান ডে তে একজন ৩ নং ব্যাটসম্যানের মূল কাজ কী? দ্রুত ১ম উইকেট পড়ে গেলে একটা দীর্ঘ সময় রানের চাকা সচল রেখে কমপক্ষে ২৫/৩০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করে যাওয়া, আর ওপেনিং এ একটা বড় পার্টনারশিপ হয়ে গেলে সেটাকে দ্রুতগতিতে বড় স্কোরে সেটাকে টেনে নেওয়া এবং ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকার চেষ্টা করা। এবং অবশ্যই কার্যকর পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেওয়া।

ঠিক কোন কারণে জানি না, হাথুরুসিংহে এই পজিশন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে চলেছেন- দেশে, দেশের বাইরে এমনকি মর্যাদায় বিশ্বকাপের পরপরই যেই টুর্নামেন্টের স্থান সেখানেও।

হয়তো অনেকে ভুলেও গেছেন এর মধ্যে, আমাদের একজন মমিনুল হক ‘ছিলো’। টেস্টে যার ব্যাটিং গড় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো অবিশ্বাস্য (৪৬.৮৮)। স্রেফ স্লো স্ট্রাইক রেটের কারণে ওয়ান ডে তে তাকে ২০১৫ এর পর থেকে আর দলে জায়গা দেওয়া হয়না।

এখন পর্যন্ত হাথুরুসিংহে অবশ্যই একজন সফল, তবে একরোখা কোচ। আশা করি ওয়ান ডে ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটিং পজিশন নিয়ে তার এই মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার প্রবণতা শীঘ্রই বন্ধ হবে। কারণ, প্রতিদিন ৫ম ও ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান ২০০ রানের পার্টনারশিপ করে দলের পিঠ বাচাবে- এই ভাবনা অবান্তর।

@মিশু কাজী

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 4 =