৯২ঃ৪৮ বর্ষপূর্তিতেও অম্লান যে সুখস্মৃতি

বলছি ২০১৪ সালের কথা। ততক্ষনে ২৪ মে দিবাগত রাত ১২ টা পেরিয়ে ২৫ মে হয়ে গেছে। আর সবার মত ধানমন্ডি ২৬ এর চেয়ারম্যান গলির ৯৭ নাম্বার বাসার বাসিন্দারাও তখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন। ঘড়ির কাঁটায় তখন প্রায় তিনটা ছুঁই ছুঁই। দোতলার চার রুমের ছোট্ট ব্যাচেলর মেসের সর্বদক্ষিনের রুম থেকে পুরো বাড়ি প্রকম্পিত করে ইয়েসসসসসসসসসস বলে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল একটি ছেলে। সাথে নিজে নিজেই হাততালি আর অদ্ভুত সব গলা ফাটানো চিৎকার। ঘুম ভাঙ্গানোর বিরক্ত থেকে হোক আর ভয় হোক কিছুক্ষনের মধ্যেই ওই রুমে ছুটে এল আশপাশের রুমের সবাই। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করাতে জানা গেলো ফুটবল ম্যাচে তার সমর্থিত দলের গোলে এমন চিৎকার দিয়েছে সে! বিনামুল্যে ঝাড়ি বিতরন করে আস্তে আস্তে যার যার রুমে ফিরে গেল সবাই।

বলছিলাম ক্লাব ফুটবল ইতিহাসের সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের দশম চ্যাম্পিয়নস লীগ বা লা দেসিমা জেতার পথে প্রায় হেরে যাওয়া মুহূর্তে সারজিও রামোসের  সেই ঐতিহাসিক ৯২ঃ৪৮ গোলের সময় আমার অদ্ভুত পাগলামি মার্কা উদযাপনের কথা। সত্যিই এমন মুহূর্তে কি আবেগ ধরে রাখা সম্ভব? যারা একনিষ্ঠ ফুটবল ভক্ত তারা সবচেয়ে ভালো জানার কথা।

অথচ সেই ম্যাচে ইকার ক্যাসিয়াসের ভুলে গোল খেয়ে প্রায় হারতে বসেছিল রিয়াল। মনে হচ্ছিল ১২ বছর ধরে অধরা লা ডেসিমাটা বুঝি অধরাই থেকে যাবে! নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হবার পর ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দিলেন রেফারি। অনেকে হয়ত টিভি বন্ধ করে শুয়ে পরেছিলেন রাগে,দুঃখে। কিন্তু যারা তখনো আশায় বুক বেধেছিলেন তারাই প্রত্যক্ষ করলেন এক ধ্রুপদী গোলের দৃশ্য। অতিরিক্ত সময়ের ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় লুকা মদ্রিচের কর্নারে মাথা ছুইয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম দেন রামোস।তারপর? তারপরের টুকু শুধু ইতিহাস। রোনালদো, বেল ও মারসেলোর গোলে ৪-১ গোলে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে লা ডেসিমা অর্জন করে রিয়াল মাদ্রিদ।

আমি নিঃসন্দেহে এটাকে আমার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি বলে ধরে নেই।

সত্যিই ৯২ঃ৪৮ এর মত কিছু মুহূর্ত আছে বলেই ফুটবল এতো সুন্দর। জীবনটা এতো সুন্দর।

Enjoy football,Enjoy

কমেন্টস

কমেন্টস

2 thoughts on “৯২ঃ৪৮ বর্ষপূর্তিতেও অম্লান যে সুখস্মৃতি

  1. এস এম হলের টিভি রুম থেকে একরাশ হতাশা নিয়ে চেয়ার ছেড়ে রুমে যাওয়ার জন্য তৈরী হচিছলাম, ঠিক তখনই এই ঘটনাটি ঘটল। আননেদ মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছিলাম।।।

মন্তব্য করুন

2 × 3 =