সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল কিউইরা

পুল করতে চাইলেন ভেট্টরি, কিন্তু ব্যাটের কোনায় লেগে বল স্লিপ ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে চলে গেলো সীমানার বাইরে, জয়ী হল কিউইরা। না, এটা শেষ ওভারের গল্প না, লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৪৩। প্রস্তুতি ম্যাচে ভয় পাইয়ে দেওয়া স্কটল্যান্ড ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদির গতি এবং সুইং, ভেট্টরির ঘূর্ণির জালে আটকা পড়ে আর কোরি অ্যান্ডারসনের নিয়ন্ত্রিত বোলিঙে মাচান আর বেরিংটনের ৯৭ রানের জুটি ভাঙার আগে আর পরে দুটো ধসের কারনে ১৪২ রানে অলআউট হয়েছিলো।

বোল্টের গতির সামনে অসহায় স্কটিশ ব্যাটিং লাইন
বোল্টের গতির সামনে অসহায় স্কটিশ ব্যাটিং লাইন

টসে জিতে ম্যাককালাম বোলিঙের সিদ্ধান্ত নেবার সময় দর্শকের হাহাকার শুনে মনে হচ্ছিলো, ছোট মাঠে চার ছক্কার ফুলঝুরি দেখতে না পেরে তাদের ঐ আফসোস। ব্যাটিঙে নেমে স্কটিশরা মনেহয় দর্শকদের হতাশা আরও বাড়ানোর দিকে নজর দিলেন! আসলে ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদির অসাধারণ বোলিঙের কাছে তারা ছিলেন অসহায়। ট্রেন্ট বোল্ট তো ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে চামিন্দা ভাসের সেই রুদ্রমূর্তিকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন প্রথম দুই বলেই দুজনকে ফিরতি পথ দেখিয়ে। তারপর তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই কিনা, একই কাজ করেছেন সাউদি, কিন্তু কোনবারেই ফিনের পাশে বসার কাজটা হয়নি, মানে হ্যাট্রিক আসেনি। স্কটিশদের ওদিকে ১২ রানে চার উইকেট হারিয়ে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। সেখান থেকেই প্রতিরোধের দেওয়াল তুলে দিলেন বেরিংটন ও মাচান। প্রথমে নজর ছিল টিকে থাকার দিকে, পরে থিতু হয়ে চালিয়েছেন ভালোই। কিন্তু কোরি অ্যান্ডারসনের বলে পুল করে মাচান নিজেই সীমানার বাইরে চলে যাবার পর মাত্র ৩৩ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় স্কটিশরা। এর কারিগর  ভেট্টরি আর কোরি অ্যান্ডারসন, দুজনেই তিনটি করে উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

১৪৩ রানের মামুলি টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৬৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় কিউইরা। সেখান থেকে ফিরে আসার পরই যাওয়া আসার মিছিল শুরু হয়। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিলো, কিছু একটা হলেও হয়ে যেতে পারে! যদি হয়ে যেত, তাহলে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিঙের জন্য কেবল নিজেদেরই তারা দোষ দিতে পারতেন। উইলিয়ামসনের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান, অ্যান্ডারসন সবাই ধৈর্য হারিয়ে উইকেট দিয়ে এসেছেন। এখানেই হচ্ছে স্কটিশ বোলারদের কৃতিত্ব। তারা, বিশেষ করে পেসাররা, বল করেছেন সোজা লাইনে, খেলার জন্য জায়গা দিয়েছেন খুব কম, এতেই ধৈর্য হারিয়ে উইকেট দিয়েছেন কিউইরা। মাচান যদি অ্যান্ডারসনের ক্যাচটা প্রথম সুযোগে না ফেলতেন, তাহলে কি হতো একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন।

ছোট টার্গেটে স্বস্তিতে থাকে নি কিউইরাও
ছোট টার্গেটে স্বস্তিতে থাকে নি কিউইরাও

সহজ ম্যাচ কঠিন করে কিউইরা জিতেছে- এটা বললে স্কটিশ বোলারদের কাজকে খাটো করা হবে। তারা কিন্তু একটা বার্তা দিয়েও দিলেন বাংলাদেশকে, তাদের বিপক্ষে রান করা জলবৎ তরলং হবেনা।আর আমাদের ব্যাটসম্যানদের বিখ্যাত অসহিস্নুতার কথা সবারই জানা।

সব মিলিয়ে আমাদের স্কটিশ পরীক্ষা সহজ হবেনা।
‘অভয় অভয়,
সদা হয় ভয়’

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seven + 9 =