এবার হাতছানি গল্পটা নতুন করে লেখার

ইয়াহু

প্রায় এক মাসের লম্বা সূচি । তারমধ্যে ৪২ টি ম্যাচ ।তারপরে কোয়ার্টার ফাইনালের পালা , নক আউট রাউন্ডের পালা । নিজেদের দল উঠায় উত্তেজনাটা আরো বেশি । কোয়ার্টারের চারটে ম্যাচ । তারমধ্যে দুটো ম্যাচ দুই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের । আরেকটা ম্যাচ পৃথিবীতে সবচাইতে সমর্থনপুষ্ট দুটো দলের মধ্যে … বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে । বাকি থাকে শ্রীলংকা আর দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ । মাঠের আলোচনায় পরে আসবো । কিন্তু পাবলিক হাইপের দিক দিয়ে বাকি ৩টি ম্যাচের চাইতে ঢের পিছিয়েই ছিলো এই ম্যাচটি ।
তবে অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পাবার ছিলো এই ম্যাচ থেকে । দক্ষিণ আফ্রিকা কি পুরোনো গল্পটাই আবার নতুন বোতলে লিখবে ? নাকি গল্পটা এবার অন্যভাবে লেখার পালা ? ডি সিলভা-জয়সুরিয়ারা চলে যাবার পরে শ্রীলংকান ক্রিকেট তো বটেই , বিশ্ব ক্রিকেটেরও সবচাইতে ভালো দুইজন ব্যাটসম্যানের (কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে) শেষ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টও এই ওয়ানডে বিশ্বকাপ । এর মধ্যে মাহেলা তো ছেড়ে দিচ্ছেন টেস্ট আর ওয়ানডে দুটোই । আর সাঙ্গা শুধুই ওয়ানডে ! সেদিক দিয়ে ম্যাচটা হারলে দুজনেরই তো শেষ ওয়ানডে ম্যাচ হবে এটি । একটু চাপা আগ্রহটা ছিলো এই জায়গাটা নিয়েই । তবে বাংলাদেশিদের সিংহভাগেরই তো মাথা খারাপ পরের দিন নিজের দলের খেলা নিয়ে , অত ভাবার সময় কোথায় ?
বলেছিলাম, হাইপের দিক দিয়ে খানিক পিছিয়ে বাকি তিনটা ম্যাচের থেকেও । মাঠের ক্রিকেট তার পক্ষেই স্বাক্ষ্য দিলো । টসটাই শেষ হাসি হয়ে রইলো এঞ্জেলো ম্যাথুসের । সাথে শ্রীলংকার প্লেয়িং ইলেভেনে ছিলো কিছুটা চমকও । আগে ২ ওয়ানডে খেলা চামীরা আর আগে কোন ম্যাচ না খেলা থারিন্দু কুশলকে নামিয়ে দিয়ে ভড়কেই দিতে চেয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে । কিন্তু শুরুটায় নিজেরাই ভড়কে গেলো এশিয়ার সিংহেরা । এবোট আর স্টেইন মিলে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে সাঙ্গাকারাকে যেনো দ্বায়িত্ব দিলেন নিজের শেষটা রাঙিয়ে দিতে । একপাশে দাঁড়িয়েও ছিলেন সাঙ্গা । আর অন্যপাশে দেখেছেন দুই স্পিনার তাহির আর ডুমিনির ধ্বংসলীলা ! দুজনে নিয়ে নিলেন ৬টি উইকেট ! কাউকে দোষটাও দিতে পারবেন না।

ইয়াহু
ছড়ি ঘুরিয়েছেন স্পিনারেরা

নিজেই তেমন প্রভাব ফেলতে পারলেন কোথায় ? ভালো বোলিং আর ফিল্ডিং এর সামনে সাঙ্গাকারাকে বিশ্বকাপের আগের ম্যাচগুলোর সাঙ্গা লাগে নি একবারও । শেষমেষ মর্কেল এসে সাঙ্গাকেও ফেরালেন … আর সাথে সাথে আকাশ থেকে ঝুপ ঝুপ বৃষ্টি । সাঙ্গার বিদায়ে কাঁদলো প্রকৃতিও । কিছু বিরতির পরে খেলা শুরু হলো আবারও । সর্বসাকুল্যে দক্ষিণ আফ্রিকা লঙ্কার স্কোরবোর্ডে জমা হতে দিলো ১৩৩টি রান । আর তাতে ৭টা উইকেটই স্পিনারদের । ভাবা যায় ? দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল মুরালিধরণের দেশকে কাবু করে দিচ্ছে স্পিনার দিয়েই স্রেফ ? তার মধ্যে একজন আবার ডুমিনির মত… ততোটা নিয়মিত নন । দিনটি আসলেই লঙ্কানদের নয় ।

ইয়াহু
লঙ্কান জার্সিতে শেষ ওয়ানডে

ইনিংস শেষে সাঙ্গাকারার নামের শেষে ৯৬ বলে ৪৫ আর মাহেলার ১৬ বলে ৪ ! বিদায়বেলায় দলের সবার চাইতে উপরেই থাকলেন সাঙ্গা ।
এ বিশ্বকাপটায় যেভাবে রান উঠছে , তাতে ১৩৪ রানের টার্গেট দেবার পরে ম্যাচ থাকবার কথা নয় কিছুই । তা সে থাকলোও না । দুঃসময়কে গুডবাই জানানোর সবচাইতে ভালো সুযোগটি পেয়ে হাতছাড়া করতে চাইলেন না ডি কক। তাই অপরাজিত ফিফটি মেরে সেমিফাইনালের প্রথম দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নামটি লেখা নিশ্চিত করে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছাড়লেন ।

ইয়াহু
অফফর্মকে বিদায় ডি ককের

ডি সিলভা-আতাপাত্তু-জয়সুরিয়া-ভাস-মুরালি … সফল এক জেনারেশনের বিদায়ের পরে ভালোভাবেই সামলেছিলেন সাঙ্গাকারা আর জয়াবর্ধনে । বিশ্বকাপটা তেমন ভালো গেলো না মাহেলার । আফগানদের সাথে একটা মাত্র সেঞ্চুরি ছাড়া আর ভালো ইনিংস নেই । আর বিদায় নেওয়া টুর্নামেন্টটাও স্বপ্নের মতো কাটিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা । তবে আজকের দিনটা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভুলে যাবার জন্যে । আজকের দিনটা নিজেকে গর্বিত মনে করা এই দুইজনকে একসাথে খেলতে দেখতে পাওয়াতে । লঙ্কান ক্রিকেটের ব্যাটনটা এবার পরের জেনারেশনের হাতে । ম্যাথুস-পেরেরা-চান্দিমাল আর থিরিমান্নেদের হাতে । এবার হাতছানি গল্পটা নতুন করে লেখার ।
দক্ষিণ আফ্রিকাও তুড়ি মেরে বাতাসে উড়িয়ে দিলো চোক করার শঙ্কা । অপেক্ষা এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর নিউজিল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের জন্যে ! বিগ সেমিফাইনালে ! এবার হাতছানি আরেকটা গল্প নতুন করে লেখার ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 − one =