‘শেষ মুহূর্তের আফসোস’ আরেকবার

বাংলাদেশ ১-১  তাজিকিস্তান।

এই স্কোরলাইন ম্যাচের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে ব্যর্থ। নিজে মাঠে গিয়ে খেলা দেখে অন্তত আমার তাই মনে হয়েছে। আগের কয়েকটি ম্যাচের তুলনায় দলের গড় পারফরম্যান্স ভালোই ছিলো আজকে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের এ ম্যাচে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে বড় কোন আক্রমন করতে না দেওয়া ডিফেন্ডাররা প্রশংসার দাবিদার। মাঝমাঠে মামুনুল তার নিজের মতই খেলেছেন তবে হেমন্ত কিছুটা অনুজ্জ্বল ছিলেন আজ। দ্বিতীয়ার্ধে মামুনুলের অসাধারন ফ্রিকিকে হেমন্ত মাথা ছোঁয়ার পর প্রায় জালে জড়িয়ে যাওয়া বলে এমিলির আলতো টোকায় লিড পায় বাংলাদেশ। পরবর্তীতে তাজিকরা ভালো কিছু আক্রমন শানালেও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় আর গোলকিপারের নৈপুণ্যে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ম্যাচ যতই শেষ হয়ে আসছিল আমাদের ফুটবলের নিয়মিত দর্শকরা নিশ্চয়ই ভাবছিলেন, শেষ মুহূর্তের অভিশাপ থেকে বোধহয় মুক্তি মিলছে এবার। কিন্তু কিসের কি? ভাগ্যদেবীর কৃপা এবারো মিলল না টাইগারদের। খেলা শেষের সামান্য আগে আবারো গোল খেয়ে বসল বাংলাদেশ। আবার সেই সেটপিস! জেতা ম্যাচ ড্র করে আবারো পয়েন্ট খোয়ানো।

কি  ছিল ভুলগুলো?

সবচেয়ে বড় ভুল যেটা আমার মনে হয়েছে গোল করার পর কোচের গাঁজাখুরি ট্যাকটিকস। গোল করার পর ডিফেন্সিভ খেলার মাশুল ের আগেও বহুবার দিয়েছি আমরা। তারপরো আবার সেই একই কাজ। জুয়েল রানা পর্যন্ত কিনা নেমে গেলেন মধমাঠের নিচে। সবচেয়ে হাস্যকর ছিলো যখন ওদের একটা প্লেয়ার লাল কার্ড পেল তখন ওদের বদলে আমরাই ডিফেন্সে নেমে গেলাম! একটা কী পেয়ার যখন লাল কার্ড পায় তখন সেই জায়গা পুরন করতে ওদেরই ব্যস্ত হবার কথা সেখানে আমরা সবাই নিচে নেমে ওদের অফুরন্ত সুযোগ করে দিলাম!

আমাদের আজ প্রথম থেকেই মাঝমাঠ থেকে যেভাবে বল যাচ্ছিল উপরে একটা ডায়নামিক ফ্রন্ট লাইন থাকলে প্রমান হয়ে যেত মামুনুল্‌, হেমন্ত, জামালরা কোন লেভেলের মিডফিল্ডার আর কত ভালো দল ডিসারভ করে এরা। কিন্তু আফসোস আমরা এখনো তার ধারে কাছেও নেই। এমিলি হয়তো গোল করেছে কিন্তু তার দৌড়ানোর কোন ইচ্ছাই নেই, জুয়েল তো গায়ের জোরেই পেরে উঠে না আর সোহেল রানার যথেষ্ট উচ্চতা থাকা সত্বেও ক্রস রিসিভ করতে না পারাগুলো চোখে বাধে।

গত কয়েকদিনের ৪ টা ম্যাচই মাঠে গিয়ে দেখেছি কিন্তু হাসিমুখে ফিরতে পারিনি একদিনও। দুঃখ নেই তাতে কিন্তু যেভাবে আমরা শেশ মুহূর্তে গোল খাওয়াটাকে অভ্যাসে পরিনত করে ফেলেছি এটা অন্তত আর না হোক এতাই চাই। দুই বছর হয়ে গেলো এই জিনিসটাই কিছু করতে পারলো না ক্রুইফ। আর হ্যা, আমাদের কোচের জঘন্য সাবস্টিটিউট সিস্টেমও কিন্তু দায়ী ের জন্য।

ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান হয়ে আজ তাজিকিস্তান…… আর কত??

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 − four =