নিজেকে ফিরে পাক বিজয়

সেবার আমরা ২’রানে হেরেছিলাম! সাকিব বহু কষ্টে কান্না আটকে রেখেছিলো যেই না মুশি ওরে জড়িয়ে কান্না শুরু করলো সাকিবও কান্না আটকাই রাখতে পারলো না। নাসিরের কান্নাও বেশ চোখে লাগছে আর এক বাচ্চা ক্রিকেটারও একাদশে না থেকে অঝোরে কেঁদেছিলো! বিজয়কে সেবারই প্রথম চোখে পড়ে। আবেগে সেবার অনেক ক্রিকেটপ্রেমীই কেঁদেছিলো।আমার তখন বেশ গর্ব লাগতো। আরে অন্য দেশের ক্রিকেটাররা হারলেও হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়ে আর আমাদেরগুলা কাঁদে।

বিজয় এরপরে দলে আসলো, ভাল খেললো, বেশ কিছু ভক্ত কামাইলো। অনূর্ধ্ব১৯ দলের এক অসাধারণ প্রতিভার ব্যাটসম্যান জাতীয় দলে এসেই প্রধান সমস্যা দেখাইলো প্রচুর ডট খেলে বাকীদের চাপে ফেলে, স্ট্রাইক রোটেট না করে নিজেরে আর দলরে চাপা ফেলে! আজকাল প্রায় অনেক ব্যাটসম্যানই ৪৯ আর ৯৯ এ এসে বাউন্ডারি হাকিয়ে মাইলফলক স্পর্শ করে, একটা রাজকীয় ভাবসাব! আর এই ছেলের ৪৫ আর ৮৫ রানের পরে যেন নিজেরে গুটিয়েই ফেলে, খুব দৃষ্টিকটু লাগতো!

বিশ্বকাপে গেলো ইনজুরিতে পড়ে ফিরলো! এরপরে সৌম্য এলো, আমাদের বেশ কিছু দুর্দান্ত শুরু এনে দেওয়া থেকে শুরু করে তামিমের সাথে ওর জুটিটা বেশ হতো। আমাদের বেশ কিছু ম্যাচ জিতিয়েছে। এনামুল হকের অভাব বুঝা তো দূরের কথা, উল্টো মনে হইছে এই বিস্ফোরক ওপেনার এতদিন ছিলো কই? তার উপর আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসও বেশ ছন্দেই ছিলো।

বিপিএল থেকে শুরু করে জাতীয় ক্রিকেট লীগ সবকিছুতেই মোটামুটি রানে ছিলো বিজয় এবং তা অবশ্যই জাতীয় দলে ফেরার মতো না। ওর চেয়ে ঢের রান করা অনেকেই আছে, তারপরেও কিছু লোকজন ওরে দলে নেওয়ার জন্য চিল্লায়! বেশ বিরক্তিকরই লাগে।

আজ সম্ভবত পাকিস্তানে ওদের টি২০ লীগের ফাইনাল খেলতে মাঠে নামবে বিজয়, যা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নাই। একটাই চাওয়া, বোমাস্থান থেকে যেন এনামুল হক বিজয় নিজের প্রান আর চুক্তির টাকাকড়ি নিয়ে ভালোভাবে দেশে ফিরে।

@রিফাত এমিল

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine − seven =