আরো বড় হয়ে উঠুক মিস্টার ব্রাজিল

তার ব্যাপারে প্রথম কিছু শুনি ২০১০ বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে,১৭ বছরের এক ছেলে নাকি স্যান্টোস এর হয়ে অসাধারণ খেলছে,তখন ব্রাজিল জুড়ে তাকে নেওয়ার জোর দাবি উঠলেও তৎকালীন কোচ দুঙ্গা তাকে দলে ডাকে নি,তবে ২০১০ বিশ্বকাপের পরপরই ডাক পেয়ে যান জাতীয় দলে,আর প্রথম ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গোল করে স্মরনীয় করে রাখেন সেলেসাও জার্সিতে নিজের অভিষেক! এরপরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেন সেলেসাও দলের নিউক্লিয়াস! সেলেসাও জার্সিতে প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেন ২০১১ এর কোপা আমেরিকা তে,সেই টুর্নামেন্ট এ চার ম্যাচে করেন দুই গোল, কিন্তু ব্রাজিল টাইব্রেকার এ হেরে বিদায় নেয় কোয়ার্টার থেকেই cry emoticon এরপর দিন যত গিয়েছে,তিনি ততটাই পরিণত হয়েছেন,তবে সমালোচকরা তার পিছু ছাড়েননি, কখনওই ওভাররেটেড কিংবা কখনো ইউটিউব বয়,সমালোচকরা তাদের তীক্ষ্ম তীর দিয়ে বিদ্ধ করেছিলেন তাকে,তিনি জাতীয় দলে তার পারফর্মেন্স দিয়ে ঠিকই সবাইকে জবাব দিয়ে গিয়েছেন।এরপর এলো ২০১২ এর অলিম্পিক! তারকাবহুল দল নিয়েও কোচ আর গুটিকয়েক কিছু খেলোয়াড় এর অমার্জনীয় ভুলের জন্য হাতছাড়া হলো অলিম্পিক গোল্ড! ব্যাস,আর যায় কোথায়,নিন্দুক রা লেগে গেলো তাদের নিজ কাজে,কিন্তু এই খেলোয়াড় কখনওই এইসব হেটারদের তোয়াক্কা করেনি,নিজ পারফর্মেন্স দিয়েই নিন্দুক দের মুখ বন্ধ করার পণ নিয়েছেন যে! কিন্তু ২০১৩ এর কনফেডারেশনস কাপের আগমুহূর্তে জাতীয় দলে নিজের চেনা ছন্দে না থাকায় আবারো নিন্দুকরা ক্ষেপে যায়!কিন্তু, উনি তো আর অর্ডিনারি খেলোয়াড় না যে নিন্দুকদের নিন্দার তোড়ে ভেসে যাবেন,সেই টুর্নামেন্ট এ নামলেন পেলের ১০ নাম্বার জার্সি পড়ে,আর এই টুর্নামেন্ট এই দেখালেন আসল ঝলক,পাঁচ ম্যাচে দুর্দান্ত চার গোল করে সেলেসাওদের এনে দিলেন শিরোপা,হলেন টুর্নামেন্ট এর সেরা খেলোয়াড়!
এরপর এলো ঘরের মাটিতে নিজের স্বপ্নের বিশ্বকাপ, বিশ্বকাপ এর শুরুটাও ভালোই হলো, পাঁচ ম্যাচে চার গোল আর দুই অ্যাসিস্ট করে দলকে নিয়ে গেলেন সেমিতে,কিন্তু কোয়ার্টার এ এক অমানুষ এর পৈশাচিক ট্যাকল এর শিকার হয়ে ভেঙ্গে গেলো নিজ দেশে বিশ্বজয়ী হওয়ার স্বপ্ন,আর তাকে হারিয়ে ব্রাজিল হয়ে গেলো ছন্নছাড়া, বাজেভাবে হেরে বিসর্জন দিলো শিরোপাস্বপ্ন!সেদিন অস্কার, লুইজ মাঠের মধ্যে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলো আর মাঠের বাইরে ২২ বছরের সেই যুবা কাঁদছিলো আর নিশ্চই বলছিলো, “চার বছর পর আমি ঠিকই আবার আসবো,সেবার আরো পরিণত হয়েই এই সতীর্থ্যদের নিয়ে আসবো,আর এই অপমানের যোগ্য জবাব দিবো,চার বছর পর ঠিকই আমি দেশকে ষষ্ঠবার এর মত বিশ্বজয়ী করবোই ”
আজ তার জন্মদিনে একটাই চাওয়া,২০১৮ সালে যেনো অস্কার,লুইজদের সাথে নিয়ে এই ছেলেটি তার সকল অপমানের শোধ নিতে পারে,বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে চার বছর আগে ঘটে যাওয়া সকল দুঃখ ভুলতে পারে।
Happy birthday Neymar Jr.

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − twelve =