কেমন হতে যাচ্ছে আগামী মৌসুমের রিয়াল মাদ্রিদ?

গত মাসেই ১৪/১৫ সিজনের লা লিগা আর কোপা দেল রে শেষ হয়ে গেছে। আর ২ দিন আগে শেষ হয়েছে  চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালও। আর এই তিনটি প্ল্যাটফর্মেই বিজয়ীর নাম বার্সেলোনা যাদেরকে এই সিজনের মাঝামাঝি সময়েও একরকম “ঠেলাগাড়ি মার্কা” দল মনে হচ্ছিল। তবে তাদের দুর্দান্ত সব ইনফর্ম খেলোয়াড়দের কল্যাণে লুইস এনরিকে বেশ ভালভাবেই পার পেয়ে গেলেন। আমি হলফ করে বলতে পারি সিজনের মাজামাঝি সময়ে এনরিকে নিজেও ট্রেবলের কথা চিন্তা করেননি। তবে তাদের ভাগ্য তাদেরকে আরেকটি ট্রেবল এনে দিল। যাই হোক তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।

তবে নিজের ঘরেরই যা অবস্থা তাতে অন্যের ঘর নিয়ে চিন্তা করার লাক্সারি আমার নেই। সিজনের মাঝামাঝি সময়ে যে দলটাকে এত দুর্দান্ত মনে হচ্ছিল, সিজন শেষে তাদের ঘরে কেন কোন ধরনের মেজর শিরোপা আসল না তা এখন মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন মনে হচ্ছে। কোচ অ্যানচেলত্তি স্যাক হয়েছেন। এই খবর শোনার পর থেকে পেরেজের উপর সেই লেভেলের মেজাজ খারাপ হয়ে ছিল। কিন্তু পরে একটু চিন্তা করতে গিয়ে দেখলাম যে পেরেজকেও দোষ দেয়া যাচ্ছে না। এত এত টাকা খোয়ানোর পর, এরকম দুর্দান্ত দল থাকার পরও কেন কোন ট্রফি ঘরে আসবে না? এটাই কি সেই রিয়াল মাদ্রিদ যারা গত শতাব্দীর সেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে? এইসব প্রশ্ন মাথায় আসার পর নিজের অজান্তেই পেরেজকে আরেকবার সমর্থন দিলাম।

রিয়ালের দায়িত্ব এখন তার হাতে
রিয়ালের দায়িত্ব এখন তার হাতে

যাই হোক নতুন কোচ হিসেবে রাফা বেনিতেজ দলে যোগ দিয়েছেন। তাকে নিয়ে আমার সমালোচনার শেষ নাই। তার কোচিং মেথড খুবই কনভেনশনাল, একগুঁয়ে, খুব বেশি রোটেশন করান ইত্যাদি ইত্যাদি। সত্যি বলতে ফুটবল জগতের ৯৫ ভাগ ফ্যানই কোচ হিসেবে তাকে ঘৃণা করে। তবে সে যখন কোচ হিসেবে দলে এসেছে তখন আর তাকে নিয়ে কমপ্লেইন করে লাভ নেই। আপাতত তার ভাল দিকগুলোই খুজে বের করার চেষ্টায় আছি। যতটুকু জানি সে একজন পিওর মাদ্রিদিস্তা। অনেকদিন থেকেই রিয়ালের কোচ হওয়ার স্বপ্ন তার। তার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। তিনি এখন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। কিন্তু রিয়ালের ফেসবুক পেজ ঘুরলে দেখা যাবে যে তার পক্ষে নেই কোন রিয়াল সমর্থকই। পেইজে তার ছবি পোস্ট করা মাত্রই ফ্যানদের একটা মাত্র কমেন্টই দেখা যায়, “We Love Ancelotti”। বেনিতেজ নিজেও খুব ভাল করেই জানেন যে তিনি সোনার চামচ নিয়ে রিয়ালে আসেননি। এখানে কেউ তাকে সমাদরও করছে না। বরং তাকে শত্রু মনে করা হচ্ছে! আর আমি মনে করি এটাই তার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হতে পারে। বেনিতেজ এই সমর্থকদের ঘৃণাকে শক্তিতে পরিনত করবেন বলেই আমার বিশ্বাস। অন্তত আমি আশা করছি তিনি ভাল কিছুই করবেন।

ডি গিয়ার মাদ্রিদে আসাটা এখন কেবলমাত্র সময়ের ব্যাপার
ডি গিয়ার মাদ্রিদে আসাটা এখন কেবলমাত্র সময়ের ব্যাপার

এবার খেলোয়াড়দের দিকে ফিরি। ডেভিড ডি গিয়া মাদ্রিদে আসছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। ফলে ক্যাসিয়াস বা নাভাস, যেকোনো একজনকে নিঃসন্দেহে ক্লাব ছাড়তে হবে। এতদিন মনে হচ্ছিল যে নাভাসের উপরই আল্টিমেট কোপ পড়তে যাচ্ছে। তবে রিসেন্ট তথ্যমতে বেনিতেয নাভাসকে দলে রাখতে চান। সুতরাং এখন আসলে কে ক্লাব ছাড়ছেন তা জানতে হলে অপেক্ষা করা ছাড়া আর গতি নেই।

অন্যদিকে করিম বেঞ্জেমা বেনিতেজের উইশলিস্ট থেকে বাদ পড়েছেন। একদিকে পেরেজ চাইছেন আগুয়েরোকে দলে ভিড়িয়ে বেঞ্জেমার জায়গা পূরণ করতে আর ওইদিকে বেনিতেজ চাইছেন মোরাতাকে আবার রিয়ালে ফিরিয়ে আনতে। অবশ্য বেনিতেজের এই সিদ্ধান্তের পিছনে যুক্তি আছে। আগুয়েরোকে এখন দলে আনতে গেলে রিয়ালকে গুনতে হবে ৬০ মিলিয়ন ইউরো। আর মোরাতাকে আনতে গেলে খরচ হবে মাত্র ৮ মিলিয়ন ইউরো (গতবছর তাকে বিক্রি করা হয়েছিল ২২ মিলিয়নে, আর এখন কিনতে খরচ হবে ৩০ মিলিয়ন)। আর বেনিতেজের নতুন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে যেহেতু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো “নম্বর ৯” হিসেবে খেলতে যাচ্ছেন সেহেতু একই পজিশনে তার সাথে আগুয়েরোকে রোটেট করানোটা খুব মুশকিল হয়ে যাবে। আর তাই এইখানে মোরাতাই বেনিতেজের বেস্ট অপশন।

খুব সম্ভবত আবারও রিয়ালে ফিরছেন মোরাতা

এবার রিয়ালের হোঁচট খাবার আরেকটি কারন ছিল আনস্টেইবল মিডফিল্ড। মদ্রিচের ঘন ঘন ইঞ্জুরি আর ক্রুসের আউট অব পজিশনে খেলানোই ছিল এর মুল কারন। আর তাই রিয়ালের উইশলিস্টে এবার একজন ফার্স্টক্লাস মিডফিল্ডার নিশ্চিতভাবেই আছে। দুইদিন আগের খবর অনুযায়ী মার্কো ভেরাত্তিকে দলে ভেড়াতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ। কয়েকটি সোর্সের দাবি যে ইতোমধ্যেই নাকি তার সাথে চুক্তি হয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের। এতদিন পল পগবার কথা শোনা গেলেও এখন হঠাৎ করে ভেরাত্তির নাম এসে পড়াতে অন্তত আমি খুশি হয়েছি কারন পগবাকে আমার পার্সোনালি ওভাররেটেড খেলোয়াড় মনে হয়। সেই সাথে ক্লাব ছাড়ছেন স্যামি খেদিরা। সত্যি বলতে রিয়ালে মউরিনহো যুগের শেষ থেকেই খেদিরা দলের জন্য অপ্রয়োজনীয় খেলোয়াড়ে পরিনত হয়েছেন। আর তাই এবার খুব সম্ভবত জুভেন্টাসে পাড়ি জমাচ্ছেন তিনি। আর ওইদিকে ক্যাসেমিরো লোন থেকে ফেরত আসায় আরেক তরুন প্রতিভা লুকাস সিলভাকে লোনে পাঠানো হচ্ছে অন্য কোথাও।

দলে যোগ দিতে পারেন মার্কো ভেরাত্তিও

এবার একটু ডিফেন্সের দিকে তাকানো যাক। দলে ব্রাজিলিয়ান রাইট ব্যাক দানিলো যোগ দেয়ায় খুব সম্ভবত ক্লাব ছাড়ছেন আল্ভারো আরবেলোয়া। এমনিতেই বয়স হয়ে গেছে আর সেই সাথে দানিলো কারভাহালদের মত প্রতিভাবান তরুনদের সাথে প্রতিযোগিতা করা যে নিতান্তই অযৌক্তিক তা বেশ ভালই জানেন এই স্প্যানিশ রাইটব্যাক।

তবে ফাইনালি কি হবে না হবে তা হয়ত আগামী ২ মাসের মধ্যেই পাকাপাকিভাবে বুঝা যাবে। ফলে আপাতত একজন রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থক হিসেবে শুধুমাত্র অপেক্ষা করটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছি আর অবশ্যই চাইছি যে যাই হোক না কেন তা যেন দিনশেষে দলের ভালর জন্যই হয়।

 

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × 2 =