সৌভাগ্যবান এক নেহরা

এই তো, চার দিন আগেই মাশরাফি-তামিমের সঙ্গে আড্ডায় কথা হচ্ছিলো বাইরের দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে। মাঠের বাইরে ভালো মানুষ কে কেমন, কতটা…

যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে মাশরাফির বন্ধুত্ব পুরোনো। অজিত আগারকারের কথাও বললেন। খুব ভালো, খুব নাকি মজার ছেলে। আর দুজন প্রায় এক সঙ্গেই বললেন আরেকজনের কথা। আশিস নেহরা। খুব নাকি ভালো মানুষ।

টিভিতে নেহরার প্রসঙ্গে যে কোনো আলোচনায় অনেকবারই শুনেছি এই কথা। ড্রাই হিউমারের জন্য পরিচিত। মজার ছেলে। খুব ভালো মানুষ। ভালো ক্রিকেটার তো কত কত আছে। ভালো মানুষ হিসেবে ক্রিকেট বিশ্ব জুড়ে এরকম একটা ভাবমূর্তি অবশ্যই দারুণ ব্যাপার…

ক্যারিয়ার জুড়ে চোটের ধকল সামলাতে হয়েছে। ১২টি অস্ত্রোপচার হয়েছে… এক ডজন!

১২টি অস্ত্রোপচার মানে ১২বার রিহ্যাব…১২ বার সেই ক্লান্তিকর ও একঘেয়ে প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ, নিজের শরীর ও মনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ জয়ের চ্যালেঞ্জ। দিনের পর দিন নিজেকে অনুপ্রাণিত করা। এই ৩৮ বছর বয়সেও অনুপ্রেরণা ধরে রাখা।

শেষ বেলায় তাই যেন প্রাপ্য সবটুকুই পেলেন। ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ। ম্যাচের শেষ ওভারটি ক্যারিয়ারের শেষ ওভার। ঘরের দর্শকের তুমুল করতালিতে শেষ ওভারের প্রতিটি বল করা….

বিরাট কোহলির সঙ্গে তার একটি ছবি ঘুরে বেড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ২০০৩ সালে কিশোর কোহলির হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন জাতীয় দলের তারকা নেহরা। কোহলির সেই সময়ের কোচ নেহরাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তার একাডেমিতে। সেই নেহরা ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচ খেললেন কোহলির নেতৃত্বে। ম্যাচের আগে নেহরার হাতে স্মারক তুলে দিলেন কোহলি, সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনি…

ম্যাচ শেষেও কোহলি আর ধাওয়ান কাধে তুলে নিলেন নেহরাকে। গোটা মাঠ প্রদক্ষিণ করলেন নেহরা, সঙ্গে গোটা দলই। কী দারুণ সম্মান! দলের প্রতি, দেশের প্রতি ১৮ বছর ধরে নিবেদিত একজনের এমন সম্মানই প্রাপ্য। অধিনায়ক কোহলিরও প্রশংসা প্রাপ্য সিনিয়র একজনের বিদায়টা এভাবে রাঙিয়ে দেওয়ায়…

শুরুতে বলছিলাম ভালো মানুষ। ক্রিকেটার হিসেবে তার পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ হবে। তবে ১২ অস্ত্রোপচারের ধকল সামাল দেওয়া, দেড় যুগ ধরে নিজেকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়া, দলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ একজন সৈনিকের, একজন ভালো মানুষের বিদায়টা এমনই হওয়া উচিত ছিল…

ক্যারিয়ার জুড়ে তার ট্রেডমার্ক ছিল, তার হাসি। বোলিংয়ের সময়ও হাসতেন। উইকেটে পেয়ে হাসতেন। ব্যাটসম্যানকে বিট করে হাসতেন। চার খেয়েও হাসতেন। ক্যারিয়ারের শেষ ওভারটি করার সময়ও হাসলেন। ক্যারিয়ারে শেষ বারের মত মাঠ ছেড়ে বেরোনোর সময়ও মুখে লেগে ছিল সেই হাসি…

হাসি মুখে শেষ করার সৌভাগ্য সবার হয় না। নেহরা সৌভাগ্যবান। কিংবা বলা যায়, সৌভাগ্যটুকু তিনি অর্জন করেই নিয়েছেন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × five =