নতুন দিনের সূচনা!

খেলা নিয়ে লেখায় আমি তেমন পারদর্শী না। মাঝে মাঝে চেষ্টা করি লেখার জন্য, তবে এভাবে লেখা এই প্রথম। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার আবেদন রইলো।

২০১৪ জিম্বাবুয়ের সফর থেকে ভারত সফর পর্যন্ত জিততে জিততে আমাদের অবস্থা এমন যে জয় ছাড়া আর কিছুই মাথায় আসে না। এবং এটাই স্বাভাবিক। এত ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আর কখনই আসেনি। কিন্তু সব কিছুরই একটা বিরতি থাকে। ক্রিকেটের নতুন শক্তি আমরা, নতুন যুগের সূচনা করেছি আমরা, কিন্তু তাই বলে পথে কোন বাধা পাবো না, এমনটা তো হতেই পারে না। সাউথ আফ্রিকার সাথে গত ৩টা ম্যাচ, বিশেষত প্রথম ওয়ান-ডে ম্যাচ হারার পর ফেসবুকে সবার প্রতিক্রিয়া দেখে একটু খারাপই লেগেছিল বৈকি। কাউকে দেখলাম লিখতে, “এইসব বালের খেলা দেখে হবে কি?” কেউ লিখলো, “পোলাপানগুলো খেলা ভুলে গেসে টাকা পেয়ে।” আরে ভাই, অনেক ভালো সময়ের মাঝে কিছু খারাপ সময় থাকে, তাই বলে এইসব কি! আজকের জয়ের পর এরাই আবার দেখি লিখছে, “Always Red & Green”, “হারি বা জিতি সবসময় বাংলাদেশ!” বাপরে! এক মানুষের কত রূপ!

আজকের খেলা নিয়ে কিছু এনালাইসিস, প্রথমে বোলিং নিয়ে। আজকে প্রোটিয়ারা বুঝতে পেরেছে টাইগারদের বোলিং কি জিনিষ, মুস্তাফিজ কি জিনিষ। আজকে ওদের সবার বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দিচ্ছিল জয়ের জন্য কতটা মুখিয়ে আছে তারা। নিয়ন্ত্রিত ফিল্ডিং, বোলিং, সব মিলিয়ে হাঁসফাঁস করার মত অবস্থায় প্রোটিয়ারা। একটা ব্যাপার সব সময় সত্য, যখন আপনি প্রতিপক্ষের সামনে গিয়ে বাঘের মত চেহারা নিয়ে দাঁড়াবেন, প্রতিপক্ষ এমনিতেই অর্ধেক ভয় পেয়ে যাবে। যেই ব্যাপারটা আজ আমি দেখেছি রুবেল, নাসির, মুস্তাফিজের মধ্যে।

ব্যাটিং নিয়ে কিছু কথা। তামিম যেভাবে আউট হল সেটা আসলেই অপ্রত্যাশিত। তবে এর জন্য ওকে গালাগালি করতে হবে, খারাপ খেলে বলে যা ইচ্ছা তাই বলতে হবে, এ মানা যায় না। একবার তো চিন্তা করা উচিত তামিম আমাদের কত কি দিয়েছে? আর ভাই, খারাপ খেললে প্লেয়ারদের নিয়ে বাজে সমালোচনা আর বাড়ি গিয়ে হামলা তো ভারতীয়রা করে, আমরাও যদি একই কাজ করি তাহলে ওদের সাথে আমাদের পার্থক্য রইলো কোথায়?

সৌম্য ছেলেটার খেলার ক্লাসের কথা বলে শেষ করা যাবে না। কত শান্ত, কিন্তু রান যেন ঝড়ের বেগে উঠে। এইরকম ক্লাসি শট খেলার মত প্লেয়ার খুব কমই আছে মনে হয়। যতগুলো বাউন্ডারি ও মারে, প্রতিটা একদম পারফেক্ট। শট খেলার সময় ওর মাঝে কোন রকম ইতস্ততা দেখিনি আমি। পারফেক্ট ওপেনার ফর আ টিম।

লিটন দাস আর সাব্বিরের কথা না বললেই না। আজকে হয়ত দুরভাগ্যজনকভাবে লিটন আউট হয়ে গেল, কিন্তু ওর সামর্থ্য নিয়ে আমার মনে কোন সন্দেহ নেই। এই দুজনের মাঝে আমি আগামী দিনের বাংলাদেশের সেরা স্টাইকিং ব্যাটসম্যান দেখতে পাচ্ছি।

Bangladesh cricketer Mohammad Mahmudullah plays a shot during the second One Day International match between Bangladesh and South Africa at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on July 12, 2015. AFP PHOTO/ Munir uz ZAMAN        (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)
Bangladesh cricketer Mohammad Mahmudullah plays a shot during the second One Day International match between Bangladesh and South Africa at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on July 12, 2015. AFP PHOTO/ Munir uz ZAMAN (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)
Bangladesh cricketer Rubel Hossain (C) celebrates with teammate Nasir Hossain  (R) after the dismissal of the South Africa captain Hashim Amla (L) during the second ODI (One Day International) cricket match between Bangladesh and South Africa at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on July 12, 2015. AFP PHOTO/ Munir uz ZAMAN        (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)
Bangladesh cricketer Rubel Hossain (C) celebrates with teammate Nasir Hossain (R) after the dismissal of the South Africa captain Hashim Amla (L) during the second ODI (One Day International) cricket match between Bangladesh and South Africa at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on July 12, 2015. AFP PHOTO/ Munir uz ZAMAN (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

217547 live-cricket-score-of-bangladesh-vs-south-africa-2nd-odi-at-dhaka

কিছুদিন যাবত দেখলাম এনামুলকে বসিয়ে রাখার জন্য কত প্রতিবাদ, ইভেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। ভাই, একটু বাস্তববাদি হোন। কাকে বসিয়ে রেখে আপনি এনামুলকে খেলাবেন। দলের প্রতিটি খেলোয়ার নিজের যোগ্যতায় দলে স্থান পেয়েছে, এবং কাউকেই আপনি খারাপ বলতে পারবেন না। বরং ভুল কিছু দেখলে তার সমালোচনা করুন।

আজকে ব্যাটিঙের সময় একটা কথা বার বার মনে হচ্ছিল, রেডিও ধারাভাস্যতেও একই কথাই বলছিলো, পার্টনারশিপ। ম্যাচ জেতার জন্য একটি দুটি পার্টনারশিপ হলেই যথেষ্ট, আর এই পর্যন্ত বাংলাদেশ যত বড় বড় ম্যাচ জিতেছে সব এই কারনেই। আরো একটা ব্যাপার, রানিং বিটউইন দ্যা উইকেট। আর এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ অস্ট্রেলিয়া। এই দলের খেলা এই কারনেই এত বেশি ভালো লাগে। ছোট ছোট সিঙ্গেলের মাধ্যমে কি সুন্দর খেলা বের করে নিয়ে আসে। আজকে সেই জিনিষটাই দেখলাম মাহমুদুল্লাহ আর সৌম্যর মাঝে। সিঙ্গেলস নিয়ে কি দারুন একটা পার্টনারশিপ। বড় দলগুলোকে দেখে শেখার মাঝে কোন লজ্জা নেই, বরং তাদের থেকে শিখে তাদের চেয়েও ভালো খেলার মাঝেই বীরত্ব। বাংলাদেশ সেই বড় দলগুলোকে দেখে শিখছে দেখেও ভালো লাগলো আজকে।

আজকে দেখলাম এক অন্য রকম বাংলাদেশকে- যারা কয়েক ম্যাচ খারাপ খেলে হেরে যাবার পরও ফিরে আসার সাহস ও সামর্থ্য দুটোই রাখে। ভয় ডরবিহিন খেলা খেলে একের পর এক জয় ছিনিয়ে আনে।

সবশেষে একটা কথা, পাকিস্তান এখন করবে কি? এবার কি ত্রিদেশীয় সিরিজ বাদ দিয়ে হং কং, আফগানিস্তান, আরব আমিরাত এদের সবাইকে নিয়ে একটি ছয় দেশীয় টুর্নামেন্ট করবে?

উত্তরটা জানতে খুব ইচ্ছা করছে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 3 =