লিভারপুলের মিডফিল্ডে নাবি কেইটা : খেলবেন সামনের মৌসুম থেকে

পুরো মৌসুম জুড়ে চলতে থাকা নাবি কেইটার দলবদল নিয়ে গুঞ্জন অবশেষে থামলো। সেই লিভারপুলেই আসছেন এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। তবে এই মৌসুমে নয়, সামনের মৌসুম থেকে লিভারপুলের মাঠ মাতাতে দেখা যাবে নাবি কেইটাকে। কেইটার জন্য এই মৌসুমে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত দিতে রাজী ছিল লিভারপুল, কিন্তু কেইটার ক্লাব রেড বুল লিপজিগ কোনভাবেই এই মৌসুমে তাদের মূল খেলোয়াড়দের ছাড়তে চায়নি (নাবি কেইটা, টিমো ওয়ার্নার, এমিল ফোর্সবার্গ)। তাই সামনের মৌসুমের জন্য ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ডের সাথে আর কিছু দাম দিয়ে কেইটাকে নিয়ে আসছে লিভারপুল। থাকছে।

কারন কেইটার সাথে লিপজিগের বর্তমান চুক্তিতে শর্ত আছে যে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে তার ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ডের রিলিজ ক্লজ থাকবে, যে রিলিজ ক্লজটা বর্তমানে নেই। তাই এখন যেকোন অর্থমূল্যের প্রস্তাব মানা করতে পারলেও ২০১৮ সালের জন্য ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ডের অফার মেনে নিতে বাধ্য হবে রেড বুল লিপজিগ। সে কারণে সেই রিলিজ ক্লজের ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ডই দিচ্ছে লিভারপুল, ২০১৮ সালেই লিভারপুলে যোগ দিবে কেইটা। এই মৌসুমে নয়। এদিকে লিপজিগের সাথে নতুন কোন চুক্তিও সই করছেন না কেইটা, লিপজিগ বুঝে গেছে এই মৌসুমে কোন না কোনভাবে কেইটাকে আটকে রাখা গেলেও পরের মৌসুম থেকে আর কোনভাবেই কেইটাকে দলে রাখা যাবেনা। তাই লিভারপুলেই যাচ্ছেন কেইটা।

এই চুক্তির ফলে আগামী এক বছরে অন্য কোন ক্লাব লিপজিগের কাছ থেকে কেইটাকে নিয়ে যেতে পারবেনা। কারণ এখনই অগ্রিম চুক্তি সই করছে দুই পক্ষ। অগ্রিম এই চুক্তি সই করাতে ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়াও বেশ কিছু বোনাস দিচ্ছে লিপজিগকে লিভারপুল। একবার এই চুক্তিতে সই করে ফেললে সেই দলবদল বাতিল হতে পারবেনা। ফলে অন্য কোন ক্লাব এর থেকে বেশী দাম দিলেও কেইটাকে নিয়ে নিতে পারবেনা। যেমন কিছুক্ষণ আগে বার্সেলোনা কেইটার জন্য ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটা প্রস্তাব রাখলেও লিপজিগ সেটা নাকচ করে দিয়েছে। আর এই ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ডের দলবদলের মাধ্যমেই লিভারপুলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন নাবি কেইটা।

কিন্তু এমরে চ্যান, জর্জিনিও ভাইনালদাম, জর্ডান হেন্ডারসনের মিডফিল্ডে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন কেইটা? কেনই বা মিডফিল্ডে নতুন কাউকে আনার জন্য শুধুমাত্র এই কেইটাকেই পছন্দ ছিল লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের? কেন অন্য কোন খেলোয়াড় আনলেন না তিনি? এমন কি আছে কেইটার খেলায়?

নাবি কেইটার খেলার স্টাইলের সাথে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ডেকো ও চেলসির ফরাসী মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বলে হচ্ছে, কেইটা কান্তের মত শুধুই মেশিনের ন্যায় প্রতিপক্ষের পা থেকে ট্যাকল করে বল কেড়ে নিতেই পটু নন, বরং সেই কেড়ে নেওয়া বল নিয়ে তিনি নিজেই নিজ দলের হয়ে আক্রমণ শুরু করেন, আর সেই বল বিতরণের স্টাইলটা হয় ডেকোর মত। গত মৌসুমে লিপজিগকে লিগ রানার্সআপ করার পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচাইতে বেশী। লিগ অভিষেকে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে গোল করেই যেন জানিয়ে দিয়েছিলেন, হারিয়ে যেতে আসেননি তিনি! পুরো মৌসুমে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মোট ৮৩ বার ড্রিবল করে পার করতে চেয়েছেন, যেটা কিনা বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, সর্বোচ্চ হল সদ্য বার্সায় যোগ দেওয়া ফরাসী উইঙ্গার ওসমানে ডেম্বেলের, ১০৩টি। কিন্তু ডেম্বেলে একজন উইঙ্গার, আর কেইটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার – আর এ কারণেই কেইটার ড্রিবল করার কথাটা আরও মহিমান্বিত বলে মনে হচ্ছে! লিগে ৩১ ম্যাচে ৮ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন শুধুই বল কেড়ে নেওয়া বা ড্রিবল করে সফল পাস দেওয়াটাই তাঁর কাজ নয়, তাঁর কাজ আরও বেশী। মোটামুটি একজন আদর্শ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের কাছ থেকে যা চাওয়া যায়, তারই যেন পুরোপুরি একটা প্যাকেজ এই কেইটা। ইয়ুর্গেন ক্লপের আদর্শ প্রেসিং স্টাইলের সাথে একেবারেই তাই মানানসই কেইটা। ডিফেন্সের সাথে মিডফিল্ডের যোগও যেমন করতে পারেন, প্রায়ই উপরে এসে আক্রমণ রচনা করতেও দেখা যায় তাঁকে। পাস সফলতার হার ৮১%, মোটামুটি প্রত্যেকটা লিভারপুল খেলোয়াড়েরই এরকমই হার ছিল গত মৌসুমে। তবে আক্রমণভাগে কি পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আবার কেইটা এগিয়ে, পুরো মৌসুমে কি পাস দিয়েছেন ৩৪টা। তবে মিডফিল্ডে প্রতিপক্ষের পা থেজকে বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেইটা একদম মেশিন, গত মৌসুমে মোট ৮৪ বার বল কেড়েছেন প্রতিপক্ষের পা থেকে, লিভারপুলের কোন মিডফিল্ডারেরই ৪৪টার বেশী নেই যেটা, জর্ডান হেন্ডারসনের!

লিভারপুল কি তবে নিজেদের এনগোলো কান্তেকে পেয়েই গেল? সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে সামনের মৌসুম পর্যন্ত!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 2 =