মুস্তাফিজ হারাইয়া গেলো কই?

বাংলাদেশের ম্যাচ চলাকালীন সময়ে সব জায়গায় একটা কথা দেখি ‘মুস্তাফিজ হারিয়ে গেছে’। মুস্তাফিজ হারাইয়া গেলো কই? কেউ খুঁজে পাচ্ছেনা আর।

ক্রিকেট খেলতে নামলে মোটামুটি প্রায় সব ক্রিকেটার ইনজুরিতে পড়ে। পেসারদের ক্ষেত্রে তা আরো বেশী। কিছুদিন পরপর পেসারদের ইনজুরিতে পড়তে দেখা যায়। অনেক পেসারদের ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছে ইনজুরির ভয়াল থাবা। মুস্তাফিজের স্বদেশী তার নেতা, বড়ভাই মাশরাফিও বেশ কয়েকবার ইনজুরিতে পড়েছে। ম্যাশ ইনজুরিতে পড়ে নিজের বলের গতি কিছুটা হারিয়েছে। বলের গতি কমেছে ম্যাশের। তবুও বলের লাইন লেন্থ ঠিক ধরে রেখে ম্যাশ আমাদের সেরা পেসার। মুস্তাফিজুর রহমান ইনজুরিতে পড়ার পরে তার বোলিং স্টাইল কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। হয়তো আগেরমতো দুর্দ্ধর্ষ বোলিং হচ্ছে না। কার্যকরী হয়ে উঠছেনা আগেরমতো।

আর সবচেয়ে বড় কথা একটা বোলার সব ম্যাচে ভালো বল করবেনা। সব ম্যাচে ৫/৬ উইকেট নিবে না। সব ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে খারাপ সময় আসে আবার ভালো সময় আসে। ম্যাশ একবার বলেছিল ‘মুস্তার শিখার দক্ষতা খুব ভালো ও ক্রিকেটীয় যেকোনো দিক বেশ দ্রুত শিখে।’ মুস্তাফিজ ফিরবে বেশ দ্রুতই। কোচ, নির্বাচক, অধিনায়ক সবাই যখন ওর উপর আস্থা রেখেছে সবাই যখন এসব স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছে তখন আপনি কেন চিল্লাবেন যে মুস্তা হারাইয়া গেছে?

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ অভিষেক দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার শুরু। টি২০ অভিষেকেই দুর্দান্ত বল করে নাচিয়ে ছেড়েছে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের। কিছুদিন পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক, অভিষেকেই নিয়েছে ৫ উইকেট। তার পরের ম্যাচে আরো দুর্দ্ধর্ষ হয়ে ৬ উইকেট নিয়েছে। ফলে প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়। টেস্ট অভিষেকেও ছিলো সফল। ক্যারিয়ারের প্রথম বছর তার কেটেছে একদম স্বপ্নের মতো। চারদিকে শুধু জয়ের সুখস্মৃতি।

আইপিএলে গিয়ে চমক দেখিয়ে নিজে ইংরেজি না পেরে ওয়ার্নার, লক্ষণদের বাংলা শিখাতে বাধ্য করেছেন। একে একে তার বলের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে ক্রিকেটের বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যান। বহু ব্যাটসম্যানকে নাচিয়েছে, বহু ব্যাটসম্যানকে পিচে শুইয়ে দিয়েছে। জয় করে নিয়েছিলো হায়দ্রাবাদবাসীর মন।

এরপরে ইংলিশ মূলকে নিজেকে চিনাতে গিয়ে প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত বলও করে। কিন্তু পরের ম্যাচে পরে যায় ইনজুরিতে। এরপরে ছুরিকাঁচির নিছে গিয়ে সুস্থ হতে হতে কিছুটা নিজের স্বাভাবিক খেলার খৈ হারায়। এরপর থেকে চলছে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা।

৬ টেস্টে ১৩ উইকেট। ২২ ওয়ানডে ৪৪ উইকেট, ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছে ৩ বার। টি২০ ক্রিকেটে ১৭ ম্যাচে ২৭ উইকেট, বিশ্বকাপে কিউইদের বিপক্ষে রয়েছে ৫ উইকেট।

মুস্তাফিজুর রহমান এক চ্যাম্পিয়নের নাম! ও কখনো হারাবে না শুধু গতিপথ বদলাবে। একটু সময় দিন, ইনজুরি থেকে ফিরে এসে হয়তো নিজেকে পুরাপুরি দিতে পারছেনা, তবে মুস্তাফিজ ফিরবে খুব দ্রুতই।

ওর ভালো সময়ে ফিজ সেরা, ফিজ সেরা বলে নেচেছেন এখন ওর খারাপ সময়ে একটু পাশে না থাকলে চলবে? প্রকৃত সমর্থক খারাপ সময়েই বেশী সমর্থন করে।

শুভ জন্মদিন মুস্তাফিজুর রহমান। ২২ তম জন্মদিবসে শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা রইলো। ভালো থাকো, সুস্থ থাকো ভাই। আমাদের ক্রিকেটকে এখনো অনেককিছু দেওয়ার বাকী তোমার।

আর একজন সমর্থক হিসেবে আপনি ওর দুঃসময়ে পাশে না থাকলে সুসময়ে দুধের মাছি হয়ে আনন্দোৎসব করার অধিকার আপনার নাই।

@রিফাত এমিল

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two + 8 =