ফার্নান্দো টরেস, ডিয়েগো কস্টা… আলভারো মোরাতা!

সংস্কৃতিটা শুরু হয়েছে সেই দিদিয়ের দ্রগবা যুগের পর থেকে। চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচ ইচ্ছা করে জিনিস্টা করছেন কি না কে জানে! চেলসিতে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের আনার সংস্কৃতি! দিদিয়ের দ্রগবা থাকাকালীন সময়েই সেই ২০১১ সালে তৎকালীন রেকর্ড ট্রান্সফারে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে লিভারপুল থেকে চেলসিতে এসেছিলেন স্প্যনিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো টরেস। চেলসিতে টরেসের সময়টা ভালো যায়নি, সে কথা আজ আর কারোরই অজানা নয়। টরেস গেলেন, চেলসিতে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে আনা হল ডিয়েগো কস্টাকে। এই শক্তিশালী স্ট্রাইকারের সাহায্যেই দুইবছর আগে লিগ জিতেছিল চেলসি। এখন ম্যানেজার আন্তোনিও কন্তের সাথে রেষারেষির জের ধরে সেই চেলসি ছেড়ে আগের ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দিচ্ছেন ডিয়েগো কস্টা। ফলে চেলসির মূল স্ট্রাইকারের জায়গাটা ফাঁকা থাকার একতা আশঙ্কা তৈরী হয়েছিল, মূলত ক্লাবের মূল টার্গেট বেলজিয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু চেলসিতে আসব আসব করে একেবারে শেষ মুহূর্তে চেলসির চিরশত্রু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার ফলে। কিন্তু রোমেলু লুকাকুকে না পেলেও রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আরেক স্প্যানিশ স্ট্রাইকারকে ঠিকই পেয়েছে চেলসি। চেলসিতে আসছেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা। মোটামুটি ক্লাব রেকর্ড ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে চেলসিতে আসছেন মোরাতা।

মজার বিষয় হল, এই আলভারো মোরাতাকে কিন্তু আসলে চেয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মোরাতার জন্য রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত অফার করেও পায়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, তাই সেই দামেই ইংলিশ লিগের সুপারস্টার রোমেলু লুকাকুকেই দলে ভেড়ানোটাকে যুক্তিযুক্ত মনে করেছে তারা। মূল ফী ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সাথে এজেন্ট ফি ও অন্যান্য ফি মিলিয়ে লুকাকুর পিছনে মোটামুটি ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চেলসি লুকাকুর জন্য সবধরণের ফি দিতে রাজি হলেও লুকাকুর এজেন্ট ফি টা দিতে রাজী হয়নি তারা। তাই লুকাকুর এজেন্ট মিনো রাইওলা লুকাকুকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিয়ে আসেন। ওদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে মোরাতার জন্য ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড দাবি করা রিয়াল মাদ্রিদ চেয়ে চেয়ে যখন দেখল লুকাকুকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিয়ে নিয়েছে, তখন হয়ত ভেবেছে এখন যদি তারা মোরাতাকে না বেচে, আর কখনই এত দাম দিয়ে বেচতে পারবেনা, আর ওদিকে লুকাকুকে না পেয়ে আরেকটা স্ট্রাইকারকে দলে ভেড়াতে মরিয়া ছিল চেলসি। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গিয়ে তাই এখন মোরাতা চেলসির খেলোয়াড়।

লা লিগাতে গত মৌসুমের প্রায় পুরোটাই বেঞ্চে কাটিয়ে দেওয়া মোরাতা রিয়ালের মূল একাদশে ছিলেন খুব কম ম্যাচেই, তাও ২৬ ম্যাচে ১৫ গোল করতে সমর্থ হন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। একটু দেখে নেওয়া যাক, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর চেলসির মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো স্ট্রাইকারটা কোন দল পেল!

লুকাকু গত মৌসুমে লিগে ৩৭ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ২৫টি, গোলসহায়তা ৬টি। ঐদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লিগে প্রায় পুরোটা সময় বেঞ্চে থাকা মোরাতা ২৬ ম্যাচে গোল করেছেন ১৫টি, গোলসহায়তা ২টি। ডিবক্সের মধ্যে দুইজনের সফল শট নেবার হারেও বিশেষ পার্থক্য নেই, লুকাকুর ৬৪%, মোরাতার ৬৩%। গোলের সুযোগ সৃষ্টি লুকাকু যেখানে করেছেন ৪৬বার, মোরাতা করেছেন মাত্র ১৭বার। তবে দলগত খেলায় মোরাতার ভূমিকা লুকাকুর থেকে বেশী, এটা বোঝা যায় দুইজনের সফল পাস প্রদানের হার তুলনা করলে – লুকাকুর ৬৬% আর মোরাতার ৭৮%। অর্থাৎ সার্বিকভাবে বল পায়ে খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার পাশাপাশি খেলা গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মোরাতার ভূমিকা লুকাকুর থেকে বেশী। কাউন্টার অ্যাটাকে তাই স্ট্রাইকার হিসেবে দুর্ধর্ষ মোরাতা। অনেকে তাই মোরাতার সাথে তাঁর পূর্বসূরী ফার্নান্দো টরেসের তুলনা দিয়ে থাকেন, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের সাথে তাঁর বোঝাপড়া ও ডিবক্সে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকতে পারার গুণের জন্য। মোরাতার আরেকটা বড় গুণ হল তিনি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল বা সেমিফাইনালে তাঁর গোলগুলো সেই কথাই বলে। কিন্তু লুকাকুকে বড় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে কদাচিৎই। গত মৌসুমে লিগে বড় দলগুলোর মধ্যে খালি ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষেই গোল আছে লুকাকুর, আর অন্য কোন বড় দলের বিরুদ্ধে গোল নেই তাঁর!

এখন সময়ই বলে দেবে চেলসি না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, কে ভালো স্ট্রাইকার পেল!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten − 9 =