মোহাম্মদ আলীঃ প্রেরণার যে স্ফুলিঙ্গ নেভার নয়

বল বীর,
চির উন্নত মম শির,
শির নেহারি আমারি নত শির,
ঐ শিখর হিমাদ্রির।
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা যেমন কালজয়ী, তেমনি এই লাইন চারটি যদি কারো জীবনের সাথে মেলাতে বলা হয়, সেই তিনিও কালজয়ী। বক্সিং নামের নিছক মারামারির খেলাকে শিল্পে পরিণত করার মহান কারিগর, বক্সিং এর সর্বকালের সেরা শিল্পী, জীবনবোধের দিক দিয়ে স্পষ্টভাষী এবং নির্ভীক, পুরো একটি প্রজন্মের প্রেরণা, প্রজাপতির মতো উড়তে উড়তে মৌমাছির মতো হুল ফোটানো সেই মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে স্তব্ধ সারা বিশ্ব। একদিন সবাইকেই যেতে হবে, তবুও কিছু মানুষের যাওয়া যে সহজে মেনে নেওয়া যায় না!
ভিয়েতনাম যুদ্ধে না যাবার পরিষ্কার ঘোষণা দিয়ে চার বছর নিষিদ্ধ ছিলেন, তবুও তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে এক চুল নড়েননি, এই দৃঢ়তার কারনেই তিনি ছিলেন জনগণের নায়ক, নিপীড়িত মানুষের প্রেরণা। তার পক্ষেই সম্ভব বর্ণবাদের প্রতিবাদ করে পদক নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া। রিং এ প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীও রিং এর বাইরে এজন্য তার বড় ভক্ত ছিলেন।
থ্রিলা ইন ম্যানিলা, রাম্বল ইন দ্য জাঙ্গল, আমাদের স্বাধীনতার বছরের শতাব্দী সেরা লড়াই- আলী ও ফ্রেজিয়ারের মধ্যকার, এসব দেখেছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।
বাংলাদেশে এসে তিনি বলেছিলেন “স্বর্গ দেখতে চাইলে বাংলাদেশে এসো”, “বাংলাদেশ আই লাভ ইউ”। সব ছাপিয়ে তিনি নিপীড়িত, গরিব, বঞ্চিত মানুষের নায়ক হিসেবেই ভক্তদের মনে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 + 1 =