ফুটবলের কিংবদন্তীরা – পাওলো মালদিনি

 

Paolo Maldini – ইতিহাসের সেরা পাঁচ ডিফেন্ডারের নাম নিলে মালদিনির নাম আসবেই। এমনকি সর্বকালের সেরা রোসেনারীদের কাতারেও তার নাম আসবেই। ইউরোপের সর্বোচ্চ শিরোপা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ/ ইউরোপিয়ান ক্লাব মোট জিতেছেন পাঁচবার। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসি মিলান যতবার এই ট্রফি জিতেছে তার প্রতিবারেই রক্ষণদূর্গের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন তিনি।

নিজের পঞ্চম উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফি নিয়ে মালদিনি
নিজের পঞ্চম উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফি নিয়ে মালদিনি

পাওলো মালদিনি সম্পর্কে তার সময়ের কোচ এবং সিনিয়র খেলোয়াড় সবারই একই মন্তব্য, “১৬ বছর বয়স থেকেই পাওলো ভয়ঙ্কর অ্যাথেলেট ছিলো। সে যখন লেফট ব্যাক থেকে উইঙ্গে উঠে যেত, তখন সে কখনোই বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করতো না, সবসময় সে এটা ক্রস করতো। আর তার ক্রস এতোটাই নিখুঁত ছিলো যে, তা গিয়ে সবসময় ডি বক্সে থাকা তার সতীর্থের মাথায়ই পড়তো।

বাবা সিজার মালদিনি কিশোর পাওলোকে বলেছিলেন, “মিলানের অপর ক্লাবে (ইন্টার মিলান) যাবা নাকি? ”  “নাহ, কখনোই নয়। Always a Rossenari” । ১৯৯৮ বিশ্বকাপে বেচারা সিজার মালদিনি ইটালির কোচ হয়ে ভালোই ঝামেলায় পড়েছিলেন। কারণ, ট্রেনিং সেশনে প্রায়ই পাওলো তাকে বস না বলে বাবা ডেকে ফেলতো।

সর্বকালের সেরা ক্লাব দলগুলর একটির নিয়মিত সদস্য ছিলেন তিনি। ইটালিয়ান ডিফেন্সের সাথে কার্লো আনচেলাত্তি আর ডাচ ত্রয়ী খুলিত, বাস্তেন এবং রাইকার্ড। অসাধারণ এই দল টানা দুইবার জিতে ইউরোপিয়ান কাপ।

ক্লাব পর্যায়ে অসম্ভব সফল এই কিংবদন্তী জাতীয় দলে সাফল্যই পাননি। তিনটি বিশ্বকাপ খেলছেন, পেনাল্টিতে তিনবারই বাদ।

অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, ২০০২ সালে যখন তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নেন তার পরেরর বারই বিশ্বকাপ জিতে ইটালি। মালদিনি হয়তো এতে খুব একটা হতাশ হবেননা। কারণ, তার হাত ধরেই তো নেস্তা, ক্যানেভারোদের মতো ডিফেন্ডারদের পথচলা শুরু।

সর্বকালের সেরা একাদশ যদি ১০০ বার তৈরি করা হয়, তার ৯০ বারেই ডিফেন্সে থাকবেন পাওলো মালদিনি। তার প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 − five =