মুসাচ্চিও কি পারবেন মিলানের ডিফেন্সকে নিশ্ছিদ্র করতে?

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য রিপোর্টের খবর বিশ্বাস করলে বলে দেওয়াই যায় চাইনিজদের অধীনে এসি মিলানের নতুন যুগের সূচনা ঘটছে ভিয়ারিয়ালের আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যাক মাতেও মুসাচ্চিওকে দলে আনার মধ্যে দিয়ে। ভিয়ারিয়ালের হয়ে এই মৌসুমে ২৯ ম্যাচ খেলা ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের সাথে চার বছরের চুক্তি করতে যাচ্ছে মিলান, ট্রান্সফার ফি ১৮ মিলিয়ন ইউরো। গতকাল মিলানের লা ম্যাডোন্নিনা ক্লিনিকে এসে এরই মধ্যে মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করিয়ে গেছেন তিনি, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কিন্তু কে এই মাতেও মুসাচ্চিও? নিজেদের ঢেলে সাজানোর জন্য যাকে একেবারে প্রথমেই পাখির চোখ করেছে এসি মিলান? একটু গভীরে পর্যালোচনা করা যাক!

২০০৯ সালে আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেট থেকে ভিয়ারিয়ালে যোগ দেওয়া এই সেন্টারব্যাক তর্কাতীতভাবে ভিয়ারিয়াল স্কোয়াডের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। গত আট বছরে স্কোয়াডে নিজেকে স্কোয়াডের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনি। মাত্র ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার হলেও বাতাসে তার ডিফেন্সিভ অ্যাবিলিটি প্রশংসনীয়, তার খেলার স্টাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটাই। বল প্লেয়িং অ্যাবিলিটিও তার চোখে পড়ার মত। মিলানের সেন্ট্রাল ডিফেন্সের বামদিকটা এখন মোটামুটি ইতালিয়ান সেন্টারব্যাক অ্যালেসসিও রোমানিওলির দখলেই, ডানদিকে খেলার জন্য মিলান কোচ ভিনসেঞ্জো মন্টেলা এতদিন হয় ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক অ্যালেক্স নাহয় কলম্বিয়ান সেন্টারব্যাক ক্রিস্টিয়ান জাপাতাকে খেলিয়েছেন, কিন্তু অ্যালেক্স যেহেতু এখন মিলান ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং জাপাতাও যেহেতু সেরকম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার হিসেবে কখনই মিলানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি, তাই সেন্ট্রাল ডিফেন্সের ডানদিকেই মুসাচ্চিও এখন থেকে নিয়মিত খেলবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ছোট ছোট পাসে একেবারে ডিফেন্স থেকেই গেইমপ্লে শুরু করা পছন্দ করেন মিলান কোচ ভিন্সেঞ্জো মন্টেলা, এই সিস্টেমে ডিফেন্ডারদের বল পায়ে যথেষ্ট দক্ষ হতে হয়। অ্যালেসসিও রোমানিওলির “বল প্লেয়িং অ্যাবিলিটি” নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ বলতে গেলে নেই-ই বলা চলে, গত মৌসুমে দুই অ্যাসিস্ট করা মুসাচ্চিও-ও যে বল পায়ে রেখে পজেশানভিত্তিক খেলা খেলার মতই একটা খেলোয়াড়, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। মুসাচ্চিওর খেলার আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক হল বল পাশে রেখে শুধু পাশাপাশি পাস দেওয়ার চাইতে একটু আক্রমণাত্মক হয়ে বলকে ডিফেন্স থেকে বের করে এনে সামনের দিকে সোজাসুজি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের পাস দেওয়ার ব্যাপারে তার আগ্রহ বেশী। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনকে ভেদ করে কিভাবে নিজের দলের ফরোয়ার্ডের পাস দিতে হয়, অনুসন্ধিৎসু মুসাচ্চিওর আগ্রহটা সেখানেই।

মুসাচ্চিওর যদি কোন একটা নেতিবাচক দিক থেকে থাকে, তাহলে সেটা হল তার ইনজুরি রেকর্ড, যথেষ্ট ইনজুরিপ্রবণ একটা খেলোয়াড় তিনি। এবং এই কারণেই ভিয়ারিয়ালের স্কোয়াডের গত কয়েক বছরের সবচেয়ে প্রতিভাবান সেন্টারব্যাক হওয়া সত্বেও তার আগে ভিয়ারিয়ালের অন্যান্য সেন্টারব্যাক (ডিয়েগো গডিন, ক্রিস্টিয়ান জাপাতা, এরিক বাইয়ি, গ্যাব্রিয়েল পলিস্তা) ক্লাব ছেড়ে আরো বড় ক্লাবে পাড়ি জমিয়েছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে মাংশপেশীর ইনজুরির কারণে ১৫ ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি, ২০১৫ সালে আরো ২৫ ম্যাচ খেলেননি পায়ের ফিবুলা হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে। এমনকি এই বছরেও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে পরপর দুইবার সাইডলাইনে বসে থাকতে হয়েছে তাকে।

ইনজুরিমুক্ত হয়ে থাকতে পারলে মিলান স্কোয়াডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন মুসাচ্চিও, এ কথা বলাই যায়।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − seven =