মিলানের মিডফিল্ডে আর্জেন্টাইন মেশিন : লুকাস বিলিয়া

এবারের দলবদলের বাজারে থামাথামির কোন লক্ষণই দেখাচ্ছেনা মিলান। চাইনিজ মালিকানার অধীনে একের পর এক সুপারস্টারকে কিনেই যাচ্ছে তারা। দলে এসেছেন লিওনার্দো বোনুচ্চিফ্র্যাঙ্ক কেসি, রিকার্ডো রড্রিগেজ, মাতেও মুসাচ্চিওহাকান চালহানোগলু, ফাবিও বোরিনি, অ্যান্দ্রেয়া কন্তিঅ্যান্দ্রে সিলভার মত তারকারা। সবাই-ই এখনকার সময়ের বেশ প্রতিষ্ঠিত নামকরা খেলোয়াড়। কেসি, চালহানোগলুর পরে মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করতে মিলান নিয়ে আসলো এবার আর্জেন্টাইন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লুকাস বিলিয়াকে। ট্রান্সফার ফি মনে করা হচ্ছে ১৭ মিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি।

বেলজিয়ান জায়ান্ট আন্ডারলেখটের হয়ে সাত বছর খেলার পর ২০১৩ সালে বিলিয়া যোগ দেন ইতালিয়ান ক্লাব লাজিওতে। সবসময় ফেলিপে অ্যান্ডারসন কিংবা সার্হেজ মিলিঙ্কোভিচ-সাভিচ কিংবা আন্তোনিও কানদ্রেভার মত অধিকতর নজরকাড়া খেলোয়াড়দের কাছে স্পটলাইট হারানো বিলিয়া সবসময় নিজের কাজটা ঠিকঠাকমত করতে পারতেন দেখেই কিন্তু সাভিচ, কান্দ্রেভা কিংবা অ্যান্ডারসনরা লাজিওর হয়ে এতটা নজর কাড়তে পারতেন। ছোট ছোট পাসে খেলতে পছন্দ করা বিলিয়া মিডফিল্ডে বলের দখল আদায় করার জন্য কখনো ট্যাকল করতে পিছপা হন না। এমনকি তাঁর নিজের জাতীয় দলেও হ্যাভিয়ের ম্যাশচেরানোর পাশাপাশি বহুদিন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে গেছেন ও যাচ্ছেন যাতে মেসি, হিগুয়াইন, অ্যাগুয়েরো, ডি মারিয়া, ডাইবালাদের নিয়ে গড়া আর্জেন্টিনার সুপারস্টার ফরোয়ার্ড লাইনআপ ঠিকঠাকমত কাজ করতে পারে। লাজিওর মত একটা ক্লাবের অধিনায়ক তিনি, তাই বলা যায় নেতৃত্বগুণও যথেষ্ট আছে তাঁর। গত মৌসুমে ৩৪টা ম্যাচ খেলা বিলিয়া গোল করেছেন পাঁচটি, সাথে গোলসহায়তা ৪টা। নয়-নয়টা হলুদ কার্ড খাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে মিডফিল্ডে বাকী সতীর্থদের পায়ে বল যোগান দেওয়ার জন্য একটা আদর্শ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে কতটা খাটনি করা লাগে তাঁর। মিডফিল্ডে বিলিয়ার আসা মানে বহুদিনের অধিনায়ক রিকার্ডো মন্টোলিভো মিডফিল্ড থেকে জায়গা হারাচ্ছেন, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। সাথে স্কোয়াডে থাকা ম্যানুয়েল লোকাতেল্লি কিংবা ফ্র্যাঙ্ক কেসি এর মত মিডফিল্ডাররাও বিলিয়া থাকার কারণে অনেক কিছু শিখতে পারবেন, এটাও অনেক বড় একটা লাভ মিলানের জন্য।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fourteen − 9 =