হারাচ্ছে … সাথে সাথে মুগ্ধতাও কম ছড়াচ্ছে না …

ভারতীয়রা এমন জাতের জাত , যাদের আমরা আমাদের ক্রিকেট থেকে সরাতে চাইলেও সরে না । বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে যখন শুনলাম, ভারতীয় স্টার নেটওয়ার্ক তিনটা চ্যানেলে বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দেখাবে (সাথে একটায় আবার হিন্দি ধারাভাষ্যও), তখনই বুঝলাম কিছু না কিছু মোটিভ তো আছেই । কাল প্রথম ওয়ানডেতে আমরা ওভাবে হেরে যাওয়ার সময় ভারতীয় জনি লিভার মার্কা ধারাভাষ্যকাররা যখন একের পর এক উইকেট পতনের সময় মক করছিলো , তখন আর বুঝতে দেরি হলো মা যে মাঠে ধোনি এন্ড কোংকে ‘মওকা মওকা ‘ দেওয়ার পালটা জ্বালাটা জুড়ানোর জন্যে এই ভাঁড়্গুলোকে নিয়ে এসেছে । তাই দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যখন হারছি , রাগ নেই প্রোটিয়াদের প্রতি , যত ক্ষভ ভারতীয়দের প্রতি ।

দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো পর্যন্ত যেভাবে খেলেছে আর যেভাবে মিডিয়া সামলেছে , তাদের প্রতি এখান থেকে কেবল সম্মানই আসে । মাঠে বাংলাদেশকে সম্মান দেখিয়ে একচুল জায়গা ছাড়ে নি । আমার তো মনে হয় , কোনভাবে ভারত এভাবে খেলতে পারলে অর্ধেক প্লেয়ারই সিরিজের মাঝে দেশে ফিরে যেত । আপনি রিয়াদ আর লিটনের আউট দুটো দেখুন শুধু । তাহলেই বুঝে যাবেন ওরা বাংলাদেশকে নিয়ে কতোটা হোমওয়ার্ক করেছে । মাহমুদুল্লাহর হিস্টোরিকালি উইকনেস ঐ একটা জায়গায় । বল পিচ করে ভিতরের দিকে ঢোকা বলগুলো সে হয় লেগবিফোর হয় , না হয় বোল্ড হয়ে যায় । আগেও ওকে অনেকবার দেখেছি ওকে এভাবে আউট হতে । কাগিসো রাবাদার মত একজন অভিষিক্ত বোলার দলের প্ল্যান একজিকিউড় করছে তাও একদম নিজের প্রথম বল থেকেই ।
ভাবা যায় ? লিটন দাশ লেগসাইডে খেলতে ভালোবাসে । স্পেশ্যালি তার জোন রিড করে তারা সেখানে ফিল্ডার রেখেছে আর প্রথম বলটাতেই তাকে তার জোনে খেলিয়ে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছে ।

CRICKET-BAN-RSA

দুই বলে বাংলাদেশের দুটো উইকেট গেলো …
নিজেদের উপরে তো বিরক্ত হয়েছিই …
কিন্তু সাথে সাথে তাদের থিংকট্যাঙ্ক কতোটা উঁচুতে আমাদের চাইতে তা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম ।

আর দক্ষিণ আফ্রিকানদের ফিল্ডিং নিয়ে তারিফ করা তো পুরোনো বুলি কপচানো । সেই ছোট্ট বেলা থেকেই গলিতে শটপিচ খেলার সময় থেকেই আশেপাশের কেউ খুব ভালো একটা বল ধরলে “জন্টি জন্টি ” বলে পুরোদমে চেঁচাতাম । দক্ষিণ আফ্রিকানরা ক্রিকেটে অনেক আগে থেকেই ফিল্ডিং এর মানদন্ড । তবে আমার বিশ্বাস, ওভার অল দলের কথা মাথায় নিলে জন্টি রোডসের দলের চাইতেও এই দলটা ফিল্ডিংটা একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করতে পারে ভালোভাবে । এক ইমরান তাহির ছাড়া আর কেউ সেভাবে বল ছাড়ে কোথায় ? সিঙ্গেলসগুলো আটকে ক্রমাগত চাপে রাখা যায় যখন একটা গোটা ফিল্ডিং ইউনিট ক্লিক করে । বাংলাদেশের আলাদা করে সাব্বির আর নাসিরের ভালো কিছু ইফোর্ট দেখলেও পুরো ভালো ফিল্ডিং ইউনিট আমরা কখনোই ছিলাম না । আর ফিল্ডিংটাও তখনই কাজে লাগে যখন আপনা বোলারেরা সেভাবে স্কিম অনুযায়ী বলটা ফেলতে পারে ।

CRICKET-BAN-RSA

এই যুগের ক্রিকেট অনেক বেশি টীমগেইম … অনেক বেশী ক্যালকুলেটিভ …
যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা টীমগেমের ডিসপ্লে দিয়ে প্রতিদিন শিখাচ্ছে আমাদের আর প্রতিদিনই মুগ্ধ করছে …

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × 4 =