স্মৃতির পাতা থেকে ১

২০০০ সালের জুন মাসে পত্রিকায় দেখলাম মানুষ ঢাকার রাস্তায় ট্রাক নিয়ে আনন্দ মিছিল করছে, বাংলাদেশ নাকি টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে! তখন আমি এতই ছোট, টেস্ট স্ট্যাটাস মানে যে কি আর এটার জন্য এত নাচানাচির কি হল এটাই বুঝতাম না। বড়রা বলতে শুরু করলো, এবার বেশি খেলা দেখতে পাবো। ১০ নভেম্বর ২০০০ সালে যখন প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টস করতে নামছেন নাইমুর রহমান আর কোলকাতার দাদা সৌরভ গাঙ্গুলি, তখনও বুঝিনি এর বিশেষত্ব। আমি অক্ষর চিনেছিলাম পত্রিকা দেখে, প্রথম আলো প্রকাশ হবার প্রথম দিন থেকেই আমাদের সঙ্গী। সেখানে দেখলাম, উৎপল শুভ্র লিখেছেন, আজ এক ঐতিহাসিক দিন। তা ভেবে ভালোই লাগলো, কারণ আমার জন্ম নভেম্বরে, আর এই মাসে যদি ক্রিকেটের ঐতিহাসিক দিন আসে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা!

দেখলাম, আমিনুল ইসলাম বুলবুল দিন শেষে ৭০ রানে অপরাজিত। পরের দিন যা শেষ হল ১৪৫ রানে। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লেখালেন তিনি। তার ঐ ১৪৫ রানের মহাকাব্য এখনও আমাদের অন্যতম সেরা টেস্ট ইনিংস। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪০০ করলেও কয়েনের অন্য দিকটাও খুব দ্রুতই দেখা হয়ে যায়। ২য় ইনিংসে মাত্র ৯১ রানে সবাই সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ভারতের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন তখনকার অধিনায়ক, বর্তমানের বোর্ড পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হারে টেস্টটি।

তার পর পেরিয়ে গেছে এক যুগের বেশি সময়, আমরা টেস্ট জিতেছি, দাপট দেখিয়েছি আবার অনেকবার ডুবেছি হতাশায়। এ বছর তো আমরা ওয়ানডের দ্বিতীয় সেরা দল হয়েছি। ১৫ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্মৃতিচারণা নিয়ে এই ধারাবাহিক পোষ্ট চলতে থাকবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × three =