দ্য মেয়র অফ রোম

ইতালির অন্যান্য সুপারস্টারদের মত তিনি ক্যারিয়ারের শুরুতে ইনস্ট্যান্ট হিট কেউ ছিলেন না। টট্টি, দেল পিয়েরো, মালদিনি, নেস্তা, ব্যাজিও, এরা যেরকম ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই প্রতিভাবান আগমনী সুপারস্টার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন, এএস রোমার কিংবদন্তী ইতালিয়ান উইঙ্গার ব্রুনো কন্তির ক্ষেত্রে বলা যাবেনা সেটা। ১৯৭৩ সালে ক্লাবের হয়ে অভিষেক হলেও প্রথম কয়েক বছর ক্লাবে নিজের জায়গা পাকা করতে ব্যর্থই ছিলেন তিনি, ফলে দুই মৌসুম আরেক ইতালিয়ান ক্লাব জেনোয়ায় ধারে খেলে তাঁকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়েছে রোমার কাছে, তারপর সুযোগ পেয়েছেন মহাকাব্য রচনা করার, রোমার হয়ে মহাকাব্য, যে মহাকাব্য তাঁকে অধিষ্ঠিত করেছে রোমার সর্বকালের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক খেলোয়াড় হিসেবে।

অভিষেকের মোটামুটি আট বছর পর ১৯৮০ সালেই ব্রুনো কন্তি সম্বন্ধে মূলত সবাই জানা শুরু করে। এই বছরেই জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক ঘটে, ইতোমধ্যে রোমার হয়ে দুইবার কোপা ইতালিয়াও জেতা হয়ে গেছে তাঁর। কোচ নিলস লিয়েডহোমের অধীনে রোমার মূল একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ তখন কন্তি। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালি কোচ এনজো বিয়ারজোতও তাই পারলেন না কন্তিকে দলের বাইরে রাখতে। কোচের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি কড়ায় গণ্ডায়, সেই বিশ্বকাপের প্রত্যেকটা ম্যাচ খেলে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানোয় রাখেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

রোমার হয়ে একটা স্কুডেট্টো, পাঁচ-পাঁচটা কোপা ইতালিয়া জেতা এই কিংবদন্তী এএস রোমার হয়ে তিন শতাধিক ম্যাচ খেলে জায়গা করে নিয়েছেন রোমার হল অফ ফেইমেও। ফ্র্যান্সেসকো টট্টির উত্থান হবার আগ পর্যন্ত রোমার যুবরাজ ভাবা হত তাঁকেই। সমর্থকদের ভালোবাসার “দ্য মেয়র অফ রোম” গোল করাতে সেরকম আগ্রহী না হলেও প্রথাগত উইঙ্গার হয়ে পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই গোল করানোতে রেখেছেন প্রচুর অবদান। বাম পায়ের খেলোয়াড় হলেও দুই পায়েই খেলতে ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ, ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময়েই খেলেছেন রাইট উইঙ্গার হিসেবে, পরেছেন সম্মানজনক সাত নম্বর জার্সি।

আজ এই কিংবদন্তী উইঙ্গারের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন, ব্রুনো কন্তি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 4 =