হচ্ছেটা কি?

বিপিএলের ডায়েরি লিখতে বসে যত মনে করি খারাপ খবর লিখবো না, ততই যেন কর্তাব্যক্তিদের কাজের যন্ত্রণায় লিখতে বাধ্য হই! অবশ্য এগুলোকে কাজ না বলে অকাজ বলাই শ্রেয়! গালাগালি, পাড়ার ক্রিকেটের মানের সম্প্রচার, তার থেকেও বাজে আম্পায়ারিং- এসবের কারনে ব্যাট বলের লড়াইটা যেন পার্শ্বচরিত্র হয়ে পড়েছে, যেখানে তার হওয়ার কথা ছিল নায়ক।
চট্টগ্রাম আর সিলেটের ম্যাচ। প্রায় সমান শক্তির দুই দলের ম্যাচের রোমাঞ্চ মানুষের মনে থাকারই কথা, তা টিভি সেটের সামনে কাল ২.১৫ থেকে যারা ছিলেন আর যারা ছিলেন মাঠে, এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন তারা। কব আর বোপারার ছাড়পত্র বিতর্কে খেলা শুরু হয়েছে ৭৫ মিনিট পরে! এর মধ্যে সিলেটের মালিক বলেন তামিম আমাকে গালি দিয়েছে, তামিম বলেন যে সিলেটের মালিক তার বাবা মা তুলে গালি দিয়েছেন! ভাই এটা কি পাড়ার ক্রিকেট, নাকি ফ্রাঞ্চাইজি লীগ? এন ও সি নিয়ে সমস্যা হতেই পারে, হলে কি হবে, সেটা আইনে নেই কেন? একটা টুর্নামেন্ট পরিচ্ছন্ন করতে গেলে সবার আগে দরকার স্বচ্ছ আইন, সেটা কেন নেই, এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবেন? সেটা থাকলে তো আর এই সব কাণ্ড দেখতে হয় না।

ক্রিকেটটা জমেছিল ভালোই, শেষ বলে চট্টগ্রাম জিতেছে, কিন্তু ম্যাচটি দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে অনেক। ঘরের ছেলে তামিম ঝড় তুলেছেন, তার আর ইয়াসিরের ব্যাটে ভর করে ১৮০ এর উপরে স্কোর করে চিটাগাং। দিলশান মুনাবিরা নামের লঙ্কান তরুণ যেভাবে বল হাতে চার ওভারে ৫৪ রান দেবার জ্বালা মিটালেন দিলশানের এক ওভারে ৪*৬=২৪ এর অঙ্ক করে, তাতে মনে হচ্ছিলো জিতবে সিলেট। দিলশান কি মনে করে একের পর এক মার খাবার পরও লেংথ বল করে গেলেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। মুনাবিরার বিদায়ের পর কাপ্তান মুশফিক ৫০ করলেও তরী তীরে ভিড়াতে পারেননি। আমিরের শেষ বলে তিন দরকার হলেও নিতে পারলেন এক। তার আগের বলেই দুর্দান্ত এক কভার ড্রাইভে নিজের জাত তিনি ঠিকই চিনিয়েছেন। তাস্কিন ছিলেন বড্ড খরুচে।
বরিশাল বুলস! নামের সার্থকতা প্রমাণ করতেই যেন প্রথম বল থেকেই তেড়েফুঁড়ে মারতে গেলেন, ফলাফল ১৫ রানের মধ্যেই চারজন নেই! এর পরও তারাই জয়ী, কারণ নাদিফ আর রিয়াদের জুটি। রিয়াদ কাল খেলেছেন এক কথায় দুর্দান্ত, ব্যাট হাতে বিপর্যয় সামলানো আর অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। তারা শেষ তিন ওভারে ৪৩ রান নিয়েছে রংপুরের গা ছাড়া ফিল্ডিং এর কল্যাণে। সাকিব ২৩/৩ বল হাতে সফল হলেও ব্যাট হাতে পারেননি। দুই অধিনায়কের পারফরম্যান্সের পার্থক্যই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে।
বরিশালের যে চারজন গেলেন প্রথম পাওয়ার প্লেতেই, তাদের মধ্যে দুজন নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। এত বাজে আম্পায়ারিং আমি ১৮ বছর ধরে ক্রিকেট দেখছি, এর মধ্যে দেখিনি। আপিল করলেই আঙ্গুল তুলে দিতে হবে? আর প্রযুক্তির ব্যবহার কই? স্নিক মিটার কই? মান্ধাতার আমলের লাল সবুজ বাতি জ্বালিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের হাস্যস্পদে পরিণত করছি কিনা, একটু ভেবে দেখবেন।
কুড়ি বিশের মহা উৎসব আছে সামনে। সেখানে লাল সবুজের ঝাণ্ডা উড়াতে গেলে এমন একজনকে লাগবে, শেষের দিকে শুধু পাওয়ার হিট করেই চার ছক্কা হই হই এর উৎসব শুরু করতে পারে, আর প্রতিপক্ষকে এই একই কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে। যেমন থিসারা পেরেরা। আমার কাছে জিয়াউর রহমানকে মনে হয় এই জায়গার দাবিদার।
সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টটা আরেকটু গোছানো হতে পারতো। এটিএন বাংলা পিসিএল সম্প্রচার করেছিলো ২০১০ এ, সেটাও কিন্তু এর থেকে দৃষ্টিসুখকর ছিল। চ্যানেল নাইন, ভেবে দেখবেন কি?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × 1 =