নতুন যৌবনের দূত

” তরুণ অরুণের মতোই, যে তারুণ্য তিমির বিদারী, সে যে আলোর দেবতা”- এই উক্তি করেছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তারুণ্য সত্যি নতুন আলোর দিশারী হয়, তা অন্ধকার ফুঁড়ে আলোর দিকে নিয়ে যায় সবাইকে। আমাদের ক্রিকেট দলেও আছেন এক ঝাঁক তরুণ প্রাণ। তবে তাদের নেতা চিরতরুন মাশরাফি বিন মরতুজা! এই মানুষটি কাজী নজরুলকে সত্য প্রমাণ করেছেন, কবি বলেছিলেন, ” যৌবনকে বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না” মানে মনের দিক থেকে তরুণ হওয়াটাই আসলে তারুণের মাপকাঠি, বয়স নয়। মাশরাফি কি করেছেন? তরুণ দলকে, পথ হারা দলকে দিয়েছেন আলোর দিশা। কোন এক জাদুর কাঠির ছোঁওয়াতে ছেলেগুলো এখন সত্যি বাঘের মতো খেলে! একবার ধরতে পারলেই হল, আর ছাড়াছাড়ি নেই।

একটু পিছনে ফিরে গিয়ে দেখুন, মুশফিকের অধিনায়কত্বে ২০১৪ সালে এই দলটার কি দশা ছিল! মনে হচ্ছিলো যেন পথ ভুলে যাওয়া এক জাহাজের সবাই নাবিক এবং তাদের নেতা তাদের থেকেও বেশি পথভোলা পথিক। ৩২৬ রান করেও দল হারে! ৬৭/৮ স্কোর থেকে শ্রীলঙ্কা করে ১৮০! ম্যাচের পর ম্যাচ ক্যাচের পর ক্যাচ মিস! আর বোলিং কি ফিল্ডিং সাজানো, সবই যেন মুখস্ত! নতুন কিছুর চেষ্টা নেই, প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেবার ইচ্ছাটাও মনে হয় ছিলনা, যার ফল? ২০১৪ প্রায় জয় বঞ্চিত কেটে যাবার আশঙ্কা।

অথচ আমাদের নড়াইল এক্সপ্রেস অধিনায়ক হয়েই যেন বদলে দিলেন সবকিছু! জিম্বাবুয়েকে দাড়াতেই দিলনা বাংলাদেশ, বাংলা ওয়াশ! ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বধ, এরপর ভারতের কাছে না, দাঁর আর গোল্ডের কাছে হার। দেশে ফিরে পাকিস্তানকে ক্রিকেট শেখানোর স্কুল খুলে বসা! ওয়ানডেতে বাংলা ওয়াশ! কুড়ি ওভারের ম্যাচে দাপুটে জয়! ভারতকে ওয়ানডেতে বলে কয়ে সিরিজ হারানো! মুস্তাফিজকে নতুন বল দিয়ে সুদে আসলে তার প্রতিদান পাওয়া! কিভাবে সম্ভব?

একজন অধিনায়কের অনেক দায়িত্ব। তাকে সব সময় ইতিবাচক হতে হয়, হতে হয় সৃষ্টিশীল। খারাপ সময়ে সতীর্থের পিঠে হাত রাখা, সান্ত্বনা দেওয়া, আর ভালো সময় উৎসাহ দেওয়া, এগুলো তার গুণ। এই গুণের কারনেই কিছু কিছু মানুষ হয়ে ওঠেন অমর, অসাধারণ! ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম স্বর্ণের অক্ষরে লেখা থাকে। ছোট বেলায় ওয়াহকে দেখেছি তরুণ দল নিয়ে শতাব্দীর শেষ বিশ্বকাপ জিততে, তাও আবার খাদের কিনার থেকে ফিরে। মনে বড় আক্ষেপ ছিল, ওয়াহ এর মতো একজন নেতা পেলে আমরাও পারতাম! অবশেষে ওপরওয়ালা আমাদের দলকে রহম করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস কে নেতা বানিয়ে। ইনি আমাদের ওয়াহ! সবাইকে প্রাণবন্ত রাখেন, নিজে সব সময় হাসিখুশি, ইতিবাচক, হারার আগে হারতে রাজি নন। তিনি পারেন প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে, তার সময়ে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে খেলার নির্দেশ থাকে সবার প্রতি। যেমন সৌরভ গাঙ্গুলি ভারতকে জিততে শিখিয়েছিলেন, আমাদের ম্যাস তেমনি টিম বাংলাদেশের কারিগর!
স্যালুট বস!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one + twenty =