মাশরাফির সিদ্ধান্তটা হয়তো নিজেরই

প্রথমেই একটা কথা বলি, বাংলার স্পোর্টস জার্নালিস্ট দের অামি এক পয়সা দিয়েও বিশ্বাস করিনা। এরা তাই লিখে মানুষ যা শুনতে চায়। তাই বলে মানুষ যা বিশ্বাস করতে ভালোবাসে। বাঙালি কি চায় বাঙালি নিজেই বুঝে না। সব জায়গায় কন্সপিরেসি খুঁজা অামাদের অভ্যাস। সুতরাং তারা ইমোশনের বস্তা ভর্তি করে কি লিখলো তাদের অনলাইন পোর্টাল গুলোতে তাতে কিচ্ছু যায় আসে না আমার। লোকটার বয়স হইছে। শরীরে সব কিছু কুলায় না। নিজে সংবাদ সম্মেলনে বলছে সে কখনো টি টুয়েন্টি খেলাটাই উপভোগ করে নাই। ইন্জুরি তার প্রধান কারণ। অামাদের সাংবাদিক গুলাও মাশাল্লাহ। সব জায়গায় বালপাকনামি অার মাতবরি করাটা এদের জন্মগত অভ্যাস। পাপন অার হাতুরাসিংহের মুন্ডুপাতে ব্যস্ত। সবাই ক্রিকেট বিশারদ হইলে তো সমস্যা। যাদের কাজ তাদের করতে দেন। এখনো পর্যন্ত তাদের পারফরমেন্স টপ ক্লাস, অামার মতে। তারা একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অাগাচ্ছে। সেটা হল বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন। মাশরাফি দেশের বাইরে অবসর নিবে সেটা যে ফরম্যাট এই হোক না কেন সেটা মেনে নেওয়া অামার জন্য কষ্টকর। সে অবসর নিবে মিরপুরে। প্রপার সেলিব্রেশন অার এপ্রিসিয়েশন এর মাধ্যমে। জিনিসটা কষ্টের বৈকি। এখন দেখি বোর্ড কি চাচ্ছিলো। অনেক অাগে থেকেই তাদের চিন্তাভাবনায় তিন ফরম্যাট এর ক্রিকেটে তিনটি ভিন্ন দল গঠন করা। ১০০% এগ্রি করি তাতে। বর্তমান কম্পিটেটিভ ক্রিকেটের যুগে একই দল নিয়ে সব জায়গায় সাফল্য পাওয়া দূরহ ব্যাপার। তিনটি ভিন্ন দল গঠন করা মানে এই না যে সব প্লেয়ারকেই চেন্জ করে ফেলতে হবে। কিছু প্লেয়ার সব ফরম্যাটেই খেলবে, কিছু শুধু টেস্ট, কিছু শুধু টি টোয়েন্টি। অস্ট্রেলিয়া প্রায়ই তা করে। নাথিং রং ইন দ্যাট। বিসিবির এ ব্যাপারে ফার্স্ট স্টেপ, তিন ফরম্যাটে তিন জন ভিন্ন ক্যাপ্টেন চাওয়া। এতেও অামার পূর্ণ সহমত। মাশরাফির কাছেও এই ম্যাসেজ নিউজিল্যান্ড সিরিজেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মাশরাফি প্রফেশনাল। দ্বিতীয়ত মাশরাফি ইন্জুরি প্রোণ। তৃতীয়ত সে ইমোশনাল। দেশের হয়ে সার্ভিস দেওয়া এতগুলো বছর অত্যন্ত গর্বের। সেটা থেকে সরে অাসা একটা সময় অত্যন্ত কষ্টেরও,যে যত কথাই বলুক। বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। টি টোয়েন্টির মত জায়গায় যেখানে অামাদের সাকসেস রেট খুবই কম, যেখানে রুবেল এর মত বোলার মেইন এলেভেন এ থাকার কথা, এবং যেখানে ক্যাপ্টেন্সি চেন্জ এবং নিজের ফিটনেস এর মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার জড়িত সেখানে মাশরাফির হাতে অপশন দুইটা। এক, ক্যাপ্টেন থাকা অবস্থায় সসম্মানে বিদায় নেয়া এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে পূর্ণ ফোকাস রাখা। দুই, নিজেকে সিলেক্টরদের হাতের খেলনা বানিয়ে, নতুন প্রজন্মের বোলারদের সাথে লড়াই করে নিজেকে সিলেকশনের জন্য রেডি রাখা। অার মাশরাফির ফিটনেস বিবেচনায় তা অসম্ভব। যেকোন বিচক্ষণ ব্যক্তি প্রথম অপশনটা বেছে নেবে। সৌরভ গাঙ্গুলির কথা মনে অাছে? গৌতম গম্ভীর, শেহবাগ এর কথা? গাঙ্গুলি তারপরেও টেস্টে কামব্যাক করে নিজের ইচ্ছায় বিদায় জানাতে পেরেছে। কারণ সে একজন ব্যাটসম্যান এবং তার ফিটনেস ছিল লংগার ভার্সনে খেলার মত। সে ডোমেস্টিক এ ভালো খেলেছিলো এবং সিলেক্টর দের তাকে না নিয়ে কোন উপায় ছিল না। এবং ওইসব প্লেয়ারদের ডেডিকেশন, এক্সপেরিয়েন্স এবং টিম কন্ট্রিবিউশন কোন দেশের কোন লেজেন্ডের চেয়ে কম না। সবাই শচীন, ধোনি, সাঙ্গাকারা, পন্টিং, হাসি, ক্যালিস এর মত কপাল নিয়ে জন্মায় না। যাদের নাম নিলাম তারা সবাই ব্যাটসম্যান। কেও কেও মাশরাফির মত কপাল নিয়ে জন্মায় যে একজন বোলার এবং যার ফিটনেস ইস্যু রয়েছে। অামি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, মাশরাফির ক্যারিয়ার যতটুকুই যা হয়েছে তার অর্ধেক ও দীর্ঘায়িত হতো না যদি সে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য কোন দেশের প্লেয়ার হত। অামাদের তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত। হি ডিড এনাফ, মোর দেন এনাফ ফর হিয কান্ট্রি। এখন বাকিদের পালা তার দেখানো পথ অনুসরণ করা। বোর্ড এর অবশ্যই পরোক্ষ ভূমিকা অাছে এ ব্যাপারে অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সেটা মাশরাফি এবং ক্রিকেটের স্বার্থেই। একটা জিনিসই পীড়াদায়ক যে মাশরাফি হোম ক্রাউডের সামনে শেষ ম্যাচ খেলতে পারলো না। এখানেও কারো খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। অামরা বিগ থ্রী ফোর ফাইভ কোন কিছুর মধ্যেই পরি না যে চাইলেই হোম, চাইলেই অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে পারবো। অামার মত অনেকেই জানেনা যে বাংলাদেশ নেক্সট কবে হোমে টি টোয়েন্টি খেলবে। এবার অাসি, পাপন হাতুরাসিংহের ব্যাপারে। হাতুরাসিংহের কাজ করার ধরণ অালাদা। সে পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। রেজাল্ট সবার সামনেই অাছে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখতে পারেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মোস্ট সাকসেসফুল কোচ সে। তাকে তার মতো কাজ করতে দিতে হবে এটাই মূল থিম। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাপন সাহেব কোচের কাজের ধরণ সম্পর্কে অবগত এবং তিনি নিজে সব কিছুর অনুমোদন দেন। কোন কিছুই তাকে না জানিয়ে হয়না। অার স্কোয়াড সিলেকশন বা ক্যাপ্টেন পরিবর্তন তো অত্যন্ত মেজর ডিসিশন।আজকের এই মাশরাফির অবসর তার নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ার এর জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে এবং নতুন অধিনায়ক এর এটাই সঠিক সময় টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজের গুনাগুন দিয়ে দেশ কে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার। আজকে যারা মাশরাফির অবসরে পাপন আর হাতুরু কে যা খুশি তা বলছেন তাদের মাথায় রাখা উচিত, আবেগটা সাময়িক। ফলাফল এবং সামনের ভবিষ্যৎ ই চিরস্থায়ী। মাশরাফি আজীবন খেলবে না। তার মত প্লেয়ার কয় বছরে একটা হয় আমার জানা নাই। কিন্তু তারও যেতে হবে। নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। আবেগ থাকবে আবেগের জায়গায়। সবার আবেগকেই সম্মান করা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা অস্বীকার করে আবেগের আধিক্যতায় কোচ আর বোর্ড প্রেসিডেন্ট কে যা তা বলা মোটেই উচিত না। বাংলাদেশের ক্রিকেট সঠিক নির্দেশনায়ই আছে এবং এটা অব্যাহত থাকলে অচিরেই ওয়ানডে রাঙ্কিং এ টপ ৫/৬ এর ভেতর আসবে বাংলাদেশ। টেস্ট এবং টি টোয়েন্টি তেও ভালো ফলাফলের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। দলে সিনিয়র ছাঁটাই নিয়ে অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুক বেশ সরগরম এখন। আপনাদের ডাবল মাইন্ডেড হিপক্রেসি বাহবা দেওয়ার মত। ব্যাপারটা এমন না যে দলে সিনিয়র প্লেয়ার থাকার উপকারিতা হাতুরু আমাদের চেয়ে কম বোঝে। কিন্তু দলে যখন যেটা প্রয়োজনীয় তখন সে সিদ্ধান্ত নিতে হব.

 

অতিথি ব্লগার : ফাইরুজ আহমেদ

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five + 5 =