রোমার মিডফিল্ডে ইতালিয়ান তারুণ্যে – লরেঞ্জো পেলেগ্রিনি

ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন রোমাতেই। ২০১৪-১৫ মৌসুমে মূল একাদশের সাথে খেলেছিলেন একটি ম্যাচও। কিন্তু হুয়ান ইতুরবে, মিরালেম পিয়ানিচ, জার্ভিনিও, অ্যালেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি কিংবা আদেম লিয়ায়িচদের তোপে মূল একাদশে খেলার আর সৌভাগ্য হয়নি তার। ১ মিলিয়নের কিছু বেশী ট্রান্সফার ফি তে তাই সাসসুয়োলোতে যোগ দিয়েছিলেন তরুণ প্রতিভাবান ইতালিয়ান মিডফিল্ডার লরেঞ্জো পেলেগ্রিনি। সেখানে নিজের দাম বুঝিয়ে আবার এই মৌসুমে সেই রোমাকেই বাধ্য করলেন তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য। সামনের মৌসুমে ৭ নাম্বার জার্সি পরে মাঠ মাতানোর অপেক্ষায় থাকা লরেঞ্জো পেলেগ্রিনি সাসসুয়োলো থেকে রোমাতে যোগ দিয়েছেন ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে, পাঁচ বছরের চুক্তিতে।

গত মৌসুমে সিরি আ এর ইতিহাসের সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে নূন্যতম দশ গোলে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি, সেটা গোল করার ক্ষেত্রে হোক বা করানোর ক্ষেত্রে। বিভিন্ন পর্যায়ে ইতালির বিভিন্ন যুবদলে খেলা পেলেগ্রিনি ইতালি জাতীয় দলের হয়েও খেলে ফেলেছেন একটি ম্যাচ। ছোটবেলায় মূলত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা শুরু করা লরেঞ্জো স্ট্রাইকার থেকে কিছুদিনের জন্য হয়ে গিয়েছিলেন সেন্টারব্যাকও। তারপর সেখান থেকে তাকে বানানো হল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনটায়। স্ট্রাইকাকে গোলসহায়তা ত করতেনই, সাথে একেবারে মাঠের ওপরে থেকেই বল কেড়ে নেওয়ার কাজটাও করতেন সহজভাবে। সেটা দেখেই কিনা সাসসুয়োলোর সাবেক কোভ ইউসেবিও ডি ফ্র্যানসেস্কো তাকে আরেকটু পেছনে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো শুরু করলেন। বলে রাখা ভালো, গত মৌসুমে পেলেগ্রিনির উত্থানও এই ইউসেবিও ডি ফ্র্যান্সেস্কোর অধীনেই হয়েছিল, আর এই মৌসুমে ডি ফ্র্যানসেস্কো নিজেই চলে এসেছেন সাসসুয়োলো থেকে রোমাতে, ম্যানেজার হিসেবে। প্রিয় শিষ্যকে তাই সাসসুয়োলো থেকে সাথে করে নিয়ে আসতে একেবারেই ভোলেননি তিনি!

শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী এই মিডফিল্ডার আক্রমণে অংশ নিতে বেশ পছন্দ করেন,বল পায়ে গোলমুখে সরাসরি আক্রমণ করার প্রবণতাটা তার আছে মিডফিল্ড থেকে উঠে গিয়ে। পাসিং গেইমে তিনি আস্তে আস্তে স্বচ্ছন্দ হচ্ছেন, ২১ বছর বয়সী এক মিডফিল্ডারের জন্য ৭৫ শতাংশ সফল পাস দেওয়ার হার খারাপ নয় মোটেও। অন্যান্য মিডফিল্ডারের থেকে তার একটা ভালো পার্থক্য হল তিনি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও নিজেকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা কিছুক্ষেত্রে পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার হিসেবে ভাবতেও পছন্দ করেন,তাই প্রায়ই তাকে মাঠের উপরে উঠে আসতে দেখা যায়। দিতে পছন্দ করেন থ্রু বল, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ লাইন ভেঙ্গে দেওয়া লং বলও দিতে বেশ স্বচ্ছন্দ তিনি। তার আসল পজিশানের বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে তাকে “মেজালা” বলা যায়। মেজালা শব্দটি ইতালিয়ান, ইংলিশে যার অর্থ “উইঙ্গার যিনি কিনা আসলে উইঙ্গার নন”, সেন্ট্রাল মিডফিল্ড পজিশান থেকে প্রায়ই উইঙ্গার বা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা সহকারী স্ট্রাইকার বনে যাওয়ার পেছনে পেলেগ্রিনির যে আগ্রহ, সে কারণেই তাকে এই নামে ডাকা হয়।

ড্রিবলিংয়েও বেশ পারদর্শী এই মিডফিল্ডার অন্যান্য সতীর্থদের থেকে আগে দৌড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইন নড়বড়ে করে দিতে বেশ পছন্দ করেন। সাধারণত এক স্পর্শে বা ‘ওয়ান-টাচ’ খেলায় আগ্রহী হবার ফলে তার সফল পাস দেওয়ার গারটা একটু কম, যেটা কিনা বাড়াতে হবে, আর ট্যাকলে অতটা পারদর্শী নন তিনি। ফলে প্রায়ই দেখা যায় তিনি হলুদ বা লাল কার্ড খেয়ে বসে আছেন!

রোমার এই নতুন মিডফিল্ড রত্ন কি করতে পারেন, সেটা ভবিষ্যতই বলে দেবে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × 4 =