হ্যারি কেইনের ডেপুটি এবার ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে

টানা তিন মৌসুম ২০ এর অধিক গোল করা স্ট্রাইকার আছে টটেনহ্যাম হটস্পারে – তাঁর নাম হ্যারি কেইন। এই মৌসুমেও এই হ্যারি কেইনই স্পার্সের মূল স্ট্রাইকার থাকবেন, এ কথা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ইংলিশ লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে একসাথে খেলতে গেলে শুধুমাত্র একজন স্ট্রাইকারের উপরেই ভরসা করলে চলেনা। তাঁর যোগ্য ব্যাকআপ ও থাকা লাগে। এই উদ্দেশ্যেই গত মৌসুমে ডাচ ক্লাব এজেড আলকমার থেকে স্পার্স কোচ মরিসিও পচেত্তিনো দলে নিয়ে এসেছিলেন ডাচ স্ট্রাইকার ভিনসেন্ট ইয়ানসেনকে। কিন্তু তিনি সেরকম পারফর্ম করতে পারেননি, সে জন্যই কিনা এই মৌসুমে আবারো দলবদলের বাজারে একটা স্ট্রাইকার খুঁজছিলেন পচেত্তিনো। পেয়েও গেলেন একটা। গত মৌসুমের লিগজয়ী চেলসির নাকের ডগা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আসলেন সোয়ানসি সিটির স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো ইয়োরেন্তেকে। ইয়োরেন্তে আগে খেলেছেন অ্যাথলেটিক বিলবাও, সেভিয়া ও জুভেন্টাসের মত ক্লাবেও।

জুভেন্টাসে বর্তমান চেলসি কোচ আন্তোনিও কন্তের ডাকে সাড়া দিয়েই এসেছিলেন ইয়োরেন্তে। এবারও কন্তে নিজের দলে ইয়োরেন্তেকেই চেয়েছিলেন আবারো, আলভারো মোরাতার ডেপুটি হিসেবে। কিন্তু শেষমুহুর্তে টটেনহ্যামের কাছে আর পারলেন না। ৩২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারকে ২ বছরের চুক্তিতে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে দলে নিয়ে এসেছে স্পার্সরা। স্পেইনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী এই স্ট্রাইকার লা ফুরিয়া রোজাদের হয়ে ২৪ ম্যাচ খেলে করেছেন ৭ গোল। গত মৌসুমে সোয়ানসির হয়েও দুর্দান্ত ছিলেন তিনি, তাঁর ১৫ গোলেই মূলত অবনমন এড়ায় সোয়ানসি। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির দীর্ঘদেহী এই স্ট্রাইকার অতটা অলরাউন্ড স্ট্রাইকার না হলেও ডি-বক্সের ভিতর অত্যন্ত কার্যকরী আদর্শ একটা টার্গেটম্যান। লম্বা, দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী হবার কারণে হেডিংয়ে দুর্দান্ত এই স্ট্রাইকার যে দলেই খেলেন, সেই দলের আক্রমণের মূল ফোকাস হয়ে খেলতে পছন্দ করেন। যেহেতু সেরকম উইংয়ে দৌড়াদৌড়ি করে খেলতে পারেননা, সেহেতু ডিবক্সের মধ্যে তাঁর পজিশনাল সেন্স দুর্দান্ত। গোল করার জন্য ডিবক্সের মধ্যে কখন কোথায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে সেটা বোঝেন তিনি। বল পায়েও বেশ দক্ষ, যে কারণে অন্যান্য সতীর্থদেরও আক্রমণে আসার জন্য জায়গা সৃষ্টি করতে পারেন তিনি। অনেকসময় দেখা যায় নিচে নেমে বলের দখল প্রতিপক্ষের পা থেকে নিতে চাচ্ছেন। পেছনে একটা আদর্শ প্লেমেকার থাকলে ইয়োরেন্তে হতে পারেন দুর্ধর্ষ, ঠিক যেমনটা সোয়ানসিতে তাঁর পেছনে প্লেমেকার হিসেবে খেলে গেছেন আইসল্যান্ডের মিডফিল্ডার গিলফি সিগুর্ডসন। টটেনহ্যামে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন কিংবা ডেলে আলির কাছ থেকে সেই সুবিধাগুলো পাবেন তিনি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

thirteen − 13 =